Endrick বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ ফুটবলারদের একজন। পূর্ণ নাম এন্ড্রিক ফেলিপে মোরেইরা দে সুজা পেসোয়া (Endrick Felipe Moreira de Sousa Pessoa)। তিনি একজন ব্রাজিলিয়ান পেশাদার ফুটবলার, যিনি স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেন। বর্তমানে তিনি স্পেনের অন্যতম সফল ফুটবল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেন। এবং ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে মাঠে নামেন।
Endrick কে?
ব্রাজিলের তরুণ ফুটবলারদের মধ্যে অল্প সময়েই আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন এন্ড্রিক। তাঁর পুরো নাম Endrick Felipe Moreira de Sousa। তিনি ২১ জুলাই ২০০৬ সালে ব্রাজিলের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্টের Taguatinga এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ছোট বয়স থেকেই ফুটবলের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। মাত্র চার বছর বয়সেই তাঁর ফুটবলের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর ধীরে ধীরে Palmeiras-এর যুব দলে সুযোগ পান এবং ১৬ বছর বয়সেই সিনিয়র দলের হয়ে খেলেন।
এন্ড্রিক মূলত স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেন। বাঁ পায়ের শট, দ্রুত গতি, শক্তি এবং গোল করার ক্ষমতার কারণে ছোট বয়সেই তিনি সবার নজরে আসেন। তাঁর ফুটবলজীবনের শুরুটা অবশ্য সহজ ছিল না। পরিবারের আর্থিক সংকট এবং কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠতে হয়েছে তাঁকে।
Endrick সংক্ষিপ্ত তথ্যসম্পদ
| তথ্য | বিস্তারিত |
| পূর্ণ নাম | এন্ড্রিক ফেলিপে মোরেইরা দে সুজা পেসোয়া |
| ডাকনাম | Endrick |
| জন্মতারিখ | ২১ জুলাই ২০০৬ |
| জন্মস্থান | টাগুয়াটিঙ্গা, ব্রাজিল |
| জাতীয়তা | ব্রাজিলিয়ান |
| বয়স | ২০ বছর (২০২৬ অনুযায়ী) |
| উচ্চতা | প্রায় ১.৭৩ মিটার (৫ ফুট ৮ ইঞ্চি) |
| পজিশন | স্ট্রাইকার |
| প্রধান পা | বাম পা |
| বর্তমান ক্লাব | রিয়াল মাদ্রিদ |
| জাতীয় দল | ব্রাজিল |
| জার্সি নম্বর | ৯ (রিয়াল মাদ্রিদ) |
আরও পড়ুন:
- নিকো উইলিয়ামস বয়স, পরিবার, ক্যারিয়ার, ক্লাব ও ট্রান্সফার তথ্য
- Lamine Yamal Biography, Age, Career, Family, Barcelona Journey ও ফুটবলের নতুন তারকার গল্প
- Lionel Messi বয়স, পরিবার, ক্যারিয়ার, রেকর্ড, ট্রফি, সম্পদ ও সম্পূর্ণ জীবনী (২০২৬)
পরিবার ও ছোটবেলার কঠিন সময়
এন্ড্রিক পরিবারের সন্তানদের মধ্যে একজন। তাঁর পরিবারে ভাই-বোনও রয়েছেন। তাঁর বাবা Douglas de Sousa Silva Ramos নিজেও পেশাদার ফুটবলার হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এন্ড্রিক যখন মাত্র ১১ বছরের, তখন তাঁর বাবা ব্রাসিলিয়ার কয়েকটি ছোট ক্লাবে ফুটবল খেলার জন্য পরিবার থেকে দূরে চলে যান।
এই সময় Endrick-এর পরিবার বড় ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়ে। তাঁর মা তখন বেকার ছিলেন এবং থাকার জায়গারও সংকট তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে যায় যে এন্ড্রিকও তাঁর ভাই-বোনদের কিছু সময় São Paulo-র একটি এতিমখানায় থাকতে হয়েছিল। প্রায় ছয় মাস পর তাঁর বাবা ফিরে আসেন।
সেই সময়ের অভিজ্ঞতা Endrick-এর জীবনে বেশ গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর বাবা-মা একসময় শহরের পাতাল রেল স্টেশনের একটি ক্যাফেতে কাজ করতেন। পরে তাঁর বাবা Palmeiras-এ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ পান। পরিবারের এই সংগ্রাম Endrick-কে ছোট বয়সেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শেখায়।
মাত্র চার বছর বয়সে ফুটবলের শুরু
Endrick-এর ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্ক শুরু হয় খুব ছোট বয়সেই। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি ফুটবল খেলা শুরু করেন। অন্য অনেক শিশুর মতো শুধু বিনোদনের জন্য নয়, ধীরে ধীরে ফুটবল তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
তাঁর বাবা ছেলের খেলার বিভিন্ন মুহূর্ত ও গোলের ভিডিও ধারণ করে YouTube-এ প্রকাশ করতেন। এর উদ্দেশ্য ছিল বড় ব্রাজিলিয়ান ক্লাবগুলোর নজরে এন্ড্রিককে নিয়ে আসা। ছোট বয়সেই তাঁর গোল করার ক্ষমতা এবং বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ দেখে অনেকেই বুঝতে পারেন, এই ছেলেটির মধ্যে বিশেষ প্রতিভা রয়েছে।
পরিবারের আর্থিক সমস্যা তাঁর ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছাটাকে আরও দৃঢ় করে। একসময় পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই সময় এন্ড্রিক ঠিক করেন, তিনি পেশাদার ফুটবলার হবেন এবং একদিন ফুটবল খেলে নিজের পরিবারকে ভালো জীবন দেবেন।
সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই ছোটবেলা থেকে অনুশীলনে মন দেন এন্ড্রিক। বয়স কম হলেও ফুটবল নিয়ে তাঁর আগ্রহ ছিল বেশ সিরিয়াস। প্রতিদিনের অনুশীলন, ম্যাচ এবং নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা ধীরে ধীরে তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেয়।
ছোটবেলা থেকেই Real Madrid-এর ভক্ত
এন্ড্রিক ছোটবেলা থেকেই Real Madrid-এর ভক্ত ছিলেন। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে Águas Claras এলাকায় Real Madrid-এর একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পেও অংশ নিয়েছিলেন। তখন থেকেই স্পেনের এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির প্রতি তাঁর আলাদা টান তৈরি হয়।
Real Madrid-এর প্রতি তাঁর টান বাড়ার পেছনে Cristiano Ronaldo-এরও বড় ভূমিকা ছিল। পর্তুগিজ এই তারকা ছিলেন Endrick-এর শৈশবের অন্যতম আদর্শ। Ronaldo-র গোল করার ধরন, শারীরিক শক্তি, গতি এবং মাঠে নিজের জন্য জায়গা তৈরি করার ক্ষমতা Endrick-কে অনুপ্রাণিত করেছিল।
Real Madrid-এর হয়ে খেলা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদেরও এন্ড্রিক অনুসরণ করতেন। Ronaldo Nazário, Vinícius Júnior, Rodrygo এবং Éder Militão ছিলেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। তাই ছোটবেলায় টেলিভিশনে Real Madrid-এর ম্যাচ দেখতেন এন্ড্রিক। কয়েক বছর পর সেই ক্লাবের জার্সিই তাঁর গায়ে ওঠে।
Endrick-এর ছোটবেলাটা শুধু ফুটবল ঘিরে ছিল না। পরিবারের আর্থিক সমস্যা, বাবার সংগ্রাম এবং নিজের পরিবারকে ভালো রাখার ইচ্ছা—এসবও তাঁর বেড়ে ওঠার অংশ। এই অভিজ্ঞতাগুলোই পরে তাঁর মানসিকতায় প্রভাব ফেলে। চার বছর বয়সে ফুটবল হাতে নেওয়া সেই শিশুর লক্ষ্য ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে, আর সেই পথ তাঁকে ব্রাজিলের যুব ফুটবল থেকে বিশ্বের অন্যতম বড় ক্লাব Real Madrid পর্যন্ত নিয়ে যায়।
Palmeiras একাডেমিতে যাত্রা
১১ বছর বয়সে Palmeiras-এ যোগ
Endrick-এর ফুটবলজীবনে বড় পরিবর্তন আসে ১১ বছর বয়সে। তখনই তিনি Palmeiras-এর যুব একাডেমিতে যোগ দেন। এর আগে তাঁর প্রতিভা দেখে São Paulo তাঁকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত Endrick Palmeiras-এর একাডেমিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
Palmeiras-এ যাওয়ার পর এন্ড্রিক আরও ভালো পরিবেশে অনুশীলনের সুযোগ পান। নিয়মিত অনুশীলন, বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে তিনি নিজের দক্ষতা বাড়াতে থাকেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি যুব দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন।
যুব দলে গোলের পর গোল
Palmeiras-এর যুব দলে Endrick-এর গোল করার ক্ষমতা দ্রুত সবার নজরে পড়ে। প্রায় পাঁচ বছরের সময়ে তিনি যুব দলের হয়ে ১৬৯ ম্যাচে ১৬৫ গোল করেন। ১৬৫ গোলের এই হিসাব থেকেই বোঝা যায়, গোল করার ক্ষেত্রে ছোটবেলা থেকেই এন্ড্রিক কতটা দক্ষ ছিলেন।
তাঁর খেলার মধ্যে ছিল দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সুযোগ পেলেই গোল করার চেষ্টা। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের চাপের মধ্যেও তিনি জায়গা তৈরি করতে পারতেন। Palmeiras-এর যুব দলে ধারাবাহিকভাবে গোল করার কারণে ধীরে ধীরে ক্লাবের বাইরেও তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে।
২০২২ Copa São Paulo de Futebol Júnior
Endrick-এর ক্যারিয়ারে বড় মোড় আসে ২০২২ Copa São Paulo de Futebol Júnior প্রতিযোগিতায়। ব্রাজিলের যুব ফুটবলের অন্যতম পরিচিত এই প্রতিযোগিতায় Palmeiras-এর হয়ে তিনি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে এন্ড্রিক এই টুর্নামেন্টে ৭ ম্যাচে ৮ গোল করেন। তাঁর গোলগুলো Palmeiras-কে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শেষ পর্যন্ত Palmeiras প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জেতে।
এন্ড্রিক টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও পান। টুর্নামেন্টে এমন পারফরম্যান্সের পর ব্রাজিলের ফুটবল মহলে Endrick-কে নিয়ে আলোচনা আরও বেড়ে যায়।
ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজরে
Copa São Paulo-তে ৮ গোল করার পর Endrick-কে নিয়ে ব্রাজিলের বাইরেও আলোচনা শুরু হয়। ইউরোপের বেশ কয়েকটি বড় ক্লাব তাঁর প্রতি আগ্রহ দেখাতে শুরু করে। তাঁর বয়স, গোল করার ক্ষমতা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা তাঁকে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তোলে।
Real Madrid-সহ ইউরোপের বড় ক্লাবগুলো তখন Endrick-এর পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছিল। তবে Palmeiras তাঁকে দ্রুত ছাড়তে চায়নি। ক্লাবের যুব ব্যবস্থায় তাঁর উন্নতির জন্য আরও সময় দেওয়া হয়।
এই সময় Endrick-এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল নিজের খেলা আরও উন্নত করা। কারণ প্রতিভা থাকলেও পেশাদার ফুটবলে জায়গা করে নিতে নিয়মিত পরিশ্রম ও মানসিক শক্তি প্রয়োজন। Palmeiras-এর একাডেমিতে সেই প্রস্তুতিই তিনি নিতে থাকেন।
Palmeiras থেকে সিনিয়র ফুটবলের পথে
যুব দলে দারুণ সময় কাটানোর পর এবার Endrick-এর সামনে ছিল Palmeiras-এর সিনিয়র দলে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ। ২০২২ সালে সেই সুযোগও আসে। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তিনি সিনিয়র দলের হয়ে মাঠে নামেন।
Palmeiras-এর যুব একাডেমিতে ১৬৫ গোল করার পর সিনিয়র ফুটবলে তাঁর অভিষেক ছিল স্বাভাবিকভাবেই অনেক আলোচনার বিষয়। তবে এন্ড্রিক চাপকে ভয় না পেয়ে নিজের খেলায় মনোযোগ দেন।
Copa São Paulo-র সাফল্য, যুব দলের গোলের রেকর্ড এবং অল্প বয়সে সিনিয়র দলে ওঠার এই যাত্রাই তাঁকে ব্রাজিলের অন্যতম আলোচিত তরুণ ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর তাঁর ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় শুরু হয় Palmeiras-এর মূল দলে, যেখানে খুব দ্রুতই তিনি নিজের নাম আরও বড় করে তোলেন।
Palmeiras মূল দলে উত্থান
২০২২ সালে সিনিয়র ফুটবলে অভিষেক
যুব দলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর Endrick-এর সামনে আসে Palmeiras-এর মূল দলে খেলার সুযোগ। ৬ অক্টোবর ২০২২ সালে Coritiba-এর বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। Palmeiras সেই ম্যাচটি ৪-০ গোলে জিতে নেয়।
তখন Endrick-এর বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর ২ মাস ১৬ দিন। এই ম্যাচে মাঠে নেমেই Endrick Palmeiras-এর সিনিয়র দলের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়েন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে Palmeiras-এর মতো ক্লাবের মূল দলে খেলা তাঁর জন্য বড় অর্জন ছিল।
প্রথম গোলেই জোড়া গোল
সিনিয়র দলে অভিষেকের পর গোল পেতে Endrick-কে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ২৫ অক্টোবর ২০২২ Athletico Paranaense-এর বিপক্ষে ম্যাচে তিনি দুটি গোল করেন। Palmeiras ম্যাচটি ৩-১ গোলে জেতে।
দুই গোলের পরই তাঁর নাম Série A-এর তরুণ গোলদাতাদের তালিকায় উঠে আসে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে এমন পারফরম্যান্স তাঁকে নিয়ে আলোচনা আরও বাড়িয়ে দেয়।
তাঁর গোল করার ধরনও ছিল নজরকাড়া। সুযোগ বুঝে দ্রুত শট নেওয়া এবং ডিফেন্ডারদের চাপের মধ্যেও গোলের জায়গা খুঁজে নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর মধ্যে তখনই দেখা যাচ্ছিল।
প্রথম মৌসুমেই Brasileirão শিরোপা
সিনিয়র ফুটবলে আসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই Endrick Palmeiras-এর হয়ে বড় একটি সাফল্যের অংশ হয়ে যান। ২ নভেম্বর ২০২২ Fortaleza-এর বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে Palmeiras Brasileirão শিরোপা নিশ্চিত করে।
সেই ম্যাচেও গোল করেন এন্ড্রিক। গোলটি ছিল Palmeiras-এর হয়ে Endrick-এর মৌসুমের তৃতীয় গোল। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তিনি নিজের প্রথম সিনিয়র ট্রফি জিতে নেন।
২০২২ মৌসুমের শেষে তাঁর পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিও আসে। তাঁকে Brasileirão-এর সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এন্ড্রিক ব্রাজিলের ফুটবলে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
২০২৩ মৌসুমে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা
২০২৩ মৌসুমে Endrick-এর সামনে ছিল আরও বড় পরীক্ষা। শুরুতে তাঁর গোলের ধারায় কিছুটা ছন্দপতন দেখা গেলেও মৌসুমের শেষদিকে তিনি দারুণভাবে ফিরে আসেন।
১ নভেম্বর ২০২৩ Botafogo-এর বিপক্ষে ম্যাচটি তাঁর সেই প্রত্যাবর্তনের অন্যতম সেরা উদাহরণ। Palmeiras প্রথমার্ধ শেষে ৩-০ গোলে পিছিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে এন্ড্রিক দুটি গোল করেন এবং একটি গোলে সহায়তা করেন। শেষ পর্যন্ত Palmeiras ৪-৩ গোলে অবিশ্বাস্য জয় পায়।
প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর Endrick-ই Palmeiras-এর ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে ওঠেন। তাঁর দুই গোল ও একটি অ্যাসিস্টে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়।
২০২৩ সালে ১১ গোল ও দ্বিতীয় লিগ শিরোপা
মৌসুমের শেষ দিকে Endrick-এর গোল করার ধারাবাহিকতা Palmeiras-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ৬ ডিসেম্বর ২০২৩ Cruzeiro-এর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে Palmeiras-এর হয়ে গোল করেন তিনি।
এই ফলের মাধ্যমে Palmeiras লিগ শিরোপা নিশ্চিত করে। তারা দ্বিতীয় স্থানে থাকা Grêmio-এর চেয়ে দুই পয়েন্ট এগিয়ে থেকে মৌসুম শেষ করে। এটি ছিল Palmeiras-এর টানা দ্বিতীয় Brasileirão শিরোপা।
এন্ড্রিক ২০২৩ সালের Série A মৌসুম শেষ করেন ১১ গোল নিয়ে। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই এক মৌসুমে ১১টি লিগ গোল করে এন্ড্রিক ব্রাজিলের তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশেষ নজির গড়েন।
এই মৌসুমই Endrick-এর ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আনে। তিনি শুধু সম্ভাবনাময় তরুণ হিসেবে নয়, Palmeiras-এর সিনিয়র দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ গোলদাতা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
২০২৪ সালে চোটের ধাক্কা
২০২৪ সালের শুরুতেও Endrick Palmeiras-এর গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন। তবে ১৬ মে ২০২৪ Independiente del Valle-এর বিপক্ষে Copa Libertadores ম্যাচের সময় ডান পায়ে চোট পেয়ে তাঁকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
চোটটি আসে এমন এক সময়ে, যখন ইউরোপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এন্ড্রিক। কারণ এর কিছুদিন পরই তাঁর Palmeiras অধ্যায় শেষ করে ইউরোপে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছিল।
Palmeiras-এর হয়ে Endrick-এর সময়টা খুব দীর্ঘ ছিল না, কিন্তু অল্প সময়েই তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে নিজের জায়গা করে নেন। যুব দল থেকে উঠে এসে সিনিয়র দলে রেকর্ড গড়া, গোল করা, লিগ শিরোপা জেতা এবং বড় ম্যাচে পারফর্ম করা—সব মিলিয়ে Palmeiras-এ তাঁর উত্থান ছিল খুব দ্রুত।
এরপর তাঁর সামনে ছিল আরও বড় পরীক্ষা। ছোটবেলার প্রিয় ক্লাব Real Madrid-এর জার্সি পরার স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছিল।
Real Madrid-এ যাওয়ার গল্প

২০২২ সালে Real Madrid-এর সঙ্গে চুক্তির ঘোষণা
Palmeiras-এর হয়ে Endrick-এর অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর ইউরোপের বড় ক্লাবগুলো তাঁর প্রতি আগ্রহ দেখাতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ Real Madrid ঘোষণা করে যে তারা এন্ড্রিক, তাঁর পরিবার এবং Palmeiras-এর সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছেছে।
তবে তখনই Endrick Real Madrid-এর হয়ে খেলতে পারেননি। কারণ তাঁর বয়স তখন ১৬ বছর। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ১৮ বছরের আগে বিদেশি ক্লাবে গিয়ে পেশাদার ফুটবল খেলার ক্ষেত্রে বয়সসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই চুক্তি হওয়ার পরও তাঁকে Palmeiras-এই খেলতে হয়।
চুক্তির সময় Endrick-এর বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। ফলে Real Madrid ভবিষ্যতের জন্য তাঁকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তাঁর ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর স্পেনে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
কেন ১৮ বছর পর্যন্ত Palmeiras-এ থাকতে হয়েছিল?
Endrick-এর সঙ্গে Real Madrid-এর চুক্তি আগে হয়ে গেলেও তিনি জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত Palmeiras-এ ছিলেন। এর প্রধান কারণ ছিল তাঁর বয়স। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে ব্রাজিল থেকে ইউরোপে গিয়ে পেশাদার ফুটবল খেলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিয়মের সীমাবদ্ধতা ছিল।
এই সময়টাকে এন্ড্রিক নিজের উন্নতির জন্য কাজে লাগান। Palmeiras-এর মূল দলে নিয়মিত খেলে তিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের কঠিন প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ২০২৩ সালে ১১ গোল করে তিনি নিজের সামর্থ্যের আরও বড় প্রমাণ দেন।
ফলে Real Madrid-এ যাওয়ার আগেই এন্ড্রিক সিনিয়র ফুটবলে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জন করে ফেলেন।
ট্রান্সফার ফি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য
Endrick-এর Real Madrid-এ যাওয়ার চুক্তির পুরো আর্থিক কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। ক্লাব দুটির পক্ষ থেকে পুরো নির্দিষ্ট ট্রান্সফার ফি প্রকাশ করা হয়নি।
Endrick-এর Real Madrid-এ যাওয়ার চুক্তির মূল্য নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন অঙ্ক প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে চুক্তিটি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অন্যতম বড় তরুণ খেলোয়াড়ের দলবদল হিসেবে আলোচিত হয়। পারফরম্যান্সভিত্তিক অতিরিক্ত অর্থও চুক্তির অংশ ছিল।
অর্থাৎ Endrick-এর চুক্তির মূল্য নিয়ে রিপোর্টে পার্থক্য ছিল। তবে বিষয়টি পরিষ্কার ছিল যে Real Madrid তাঁকে ভবিষ্যতের জন্য বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখেছিল।
২০২৪ সালে Real Madrid-এ আনুষ্ঠানিক যোগদান
১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর Endrick-এর Real Madrid যাত্রা শুরু হয়। ১৯ জুলাই ২০২৪ Real Madrid তাঁর সঙ্গে ছয় বছরের চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে।
এরপর ২৭ জুলাই ২০২৪ Santiago Bernabéu-তে তাঁকে নতুন খেলোয়াড় হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানে Real Madrid সমর্থকদের সামনে দাঁড়িয়ে এন্ড্রিক তাঁর স্বপ্নের ক্লাবের জার্সি পরেন।
ছোটবেলায় যে ক্লাবের সমর্থক ছিলেন, যে দলের খেলোয়াড়দের অনুসরণ করতেন, সেই দলের হয়ে খেলার সুযোগ তখন তাঁর সামনে বাস্তব হয়ে যায়।
Real Madrid-এর হয়ে প্রথম ম্যাচ
Real Madrid-এর হয়ে Endrick-এর La Liga অভিষেক হয় ২৫ আগস্ট ২০২৪ Real Valladolid-এর বিপক্ষে। Santiago Bernabéu-তে হওয়া ম্যাচটি Real Madrid ৩-০ গোলে জেতে।
ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এন্ড্রিক। তাঁকে ৮৬তম মিনিটে মাঠে নামানো হয়। এরপর খুব বেশি সময় লাগেনি নিজের প্রথম La Liga গোল করতে।
প্রথম La Liga গোলেই নতুন রেকর্ড
Real Valladolid-এর বিপক্ষে ম্যাচে Endrick Real Madrid-এর হয়ে তাঁর প্রথম La Liga গোল করেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে করা সেই গোলটি শুধু দলকে ৩-০ ব্যবধানে জেতাতেই সাহায্য করেনি, তাঁর নামও Real Madrid-এর রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে দেয়।
মাত্র ১৮ বছর ৩৫ দিন বয়সে গোল করে Endrick La Liga-তে Real Madrid-এর হয়ে গোল করা সবচেয়ে কম বয়সী বিদেশি খেলোয়াড় হন। এর আগে এই রেকর্ড ছিল Raphaël Varane-এর দখলে। Varane ১৮ বছর ১৫২ দিন বয়সে Real Madrid-এর হয়ে La Liga-তে গোল করেছিলেন।
Real Madrid-এর প্রথম La Liga ম্যাচেই গোল পাওয়াটা Endrick-এর জন্য দারুণ এক শুরু ছিল। ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণের পর মাঠে নেমেই তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন।
Palmeiras থেকে Real Madrid-এ যাওয়ার পথটা Endrick-এর জন্য কয়েক বছরের অপেক্ষার ফল। ২০২২ সালে চুক্তির ঘোষণা থেকে ২০২৪ সালে Bernabéu-তে আনুষ্ঠানিক পরিচয় এবং এরপর La Liga-তে প্রথম গোল—প্রতিটি ধাপেই তাঁর ক্যারিয়ার নতুন দিকে এগিয়েছে। তবে Real Madrid-এ তাঁর সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় তখনও বাকি ছিল, কারণ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই Champions League-এর মঞ্চেও নিজের নাম রেকর্ড বইয়ে লিখে ফেলেন তিনি।
Champions League ও Real Madrid-এর প্রথম মৌসুম
Champions League-এ অভিষেক ও প্রথম গোল
Real Madrid-এর হয়ে La Liga-তে গোল করার পর Endrick-এর সামনে আসে আরও বড় মঞ্চ। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ VfB Stuttgart-এর বিপক্ষে Champions League ম্যাচে তাঁর অভিষেক হয়। ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি।
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে এন্ড্রিক নিজের সুযোগ কাজে লাগান। দ্রুত আক্রমণ থেকে বল পেয়ে তিনি বাঁ পায়ে শট নেন এবং Real Madrid-এর তৃতীয় গোল করেন। ম্যাচটি ৩-১ গোলে জিতে নেয় Real Madrid।
গোলটির পর Champions League-এর তরুণ গোলদাতাদের রেকর্ডেও Endrick-এর নাম উঠে আসে। মাত্র ১৮ বছর ৫৮ দিন বয়সে তিনি Real Madrid-এর হয়ে এই প্রতিযোগিতায় গোল করা সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হন। একই সঙ্গে Champions League-এ গোল করা সবচেয়ে কম বয়সী ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের রেকর্ডও গড়েন।
Real Madrid-এর হয়ে Champions League-এর প্রথম ম্যাচেই গোল—Endrick-এর জন্য এর চেয়ে ভালো শুরু চাওয়া কঠিন। কারণ তখনও তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর।
২০২৪–২৫ মৌসুমে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি
Real Madrid-এর দলে তখন Vinícius Júnior, Rodrygo, Kylian Mbappé এবং Jude Bellingham-এর মতো তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। তাই Endrick-এর জন্য নিয়মিত একাদশে জায়গা পাওয়া সহজ ছিল না। তবে সুযোগ পেলেই তিনি গোল করার চেষ্টা করেন।
২০২৪–২৫ মৌসুমে Real Madrid-এর হয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় এন্ড্রিক ৩৭ ম্যাচে ৭ গোল করেন। Real Madrid-এর হয়ে প্রথম মৌসুমেই তিনি দুটি শিরোপার অংশ হন—UEFA Super Cup এবং FIFA Intercontinental Cup।
তবে তাঁর সবচেয়ে আলোচিত পারফরম্যান্স আসে Copa del Rey-তে।
Copa del Rey-তে পাঁচ গোল
Copa del Rey ছিল Endrick-এর জন্য বিশেষ একটি প্রতিযোগিতা। এখানে তিনি নিয়মিত সুযোগ পেয়ে নিজের গোল করার ক্ষমতা দেখান।
১৬ জানুয়ারি ২০২৫ Celta Vigo-এর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে এন্ড্রিক দুটি গোল করেন। Real Madrid ম্যাচটি ৫-২ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। অতিরিক্ত সময়ে করা তাঁর দুটি গোলের একটি ছিল বাঁ পায়ের জোরালো শট, আর অন্যটি আসে কাছ থেকে দারুণ এক ফিনিশে।
এরপর Copa del Rey-এর সেমিফাইনালেও তাঁর গোলের ধারা চলতে থাকে। Real Sociedad-এর বিপক্ষে সেমিফাইনালের দুই লেগেই গোল করেন তিনি। প্রথম লেগে তাঁর গোল Real Madrid-কে ১-০ ব্যবধানে জিততে সাহায্য করে। দ্বিতীয় লেগে আবার গোল করে দলকে ফাইনালে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এই প্রতিযোগিতায় এন্ড্রিক মোট ৫টি গোল করেন। Real Madrid-এর হয়ে একটি Copa del Rey মৌসুমে পাঁচ গোল করার কৃতিত্বে তিনি Cristiano Ronaldo-এর পর বিশেষ জায়গা করে নেন। Ronaldo ২০১২–১৩ মৌসুমে সর্বশেষ এই সংখ্যায় পৌঁছেছিলেন।
এই ম্যাচগুলোতে গোল করে এন্ড্রিক দেখিয়েছেন, বড় ম্যাচে সুযোগ পেলেও তিনি কাজে লাগাতে পারেন।
২০২৫ সালের ইনজুরি
Copa del Rey-তে ভালো সময় কাটানোর পর Endrick-এর ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা আসে। ২১ মে ২০২৫ Real Madrid জানায়, পরীক্ষার পর তাঁর ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের টেনডনে চোট ধরা পড়েছে।
এই চোটের কারণে তিনি মৌসুমের শেষ অংশে মাঠের বাইরে চলে যান। এর ফলে ২০২৫ সালের FIFA Club World Cup-এও তাঁর খেলা হয়নি।
তরুণ একজন খেলোয়াড় হিসেবে চোটের সময়টা তাঁর জন্য কঠিন ছিল। তবে এর আগে Real Madrid-এর হয়ে প্রথম মৌসুমেই ৩৭ ম্যাচে সাত গোল করে তিনি নিজের সামর্থ্য দেখিয়ে দিয়েছিলেন।
২০২৫–২৬ মৌসুমে ৯ নম্বর জার্সি
২০২৫–২৬ মৌসুম শুরুর আগে Endrick-এর জার্সিতে বড় পরিবর্তন আসে। তিনি ৯ নম্বর জার্সি পান। Real Madrid-এর ঐতিহ্য অনুযায়ী ৯ নম্বর সাধারণত দলের প্রধান স্ট্রাইকারের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
Kylian Mbappé ১০ নম্বর জার্সি নেওয়ার পর ৯ নম্বর জার্সিটি Endrick-এর জন্য খালি হয়। নতুন জার্সি পাওয়ায় তাঁর ওপর প্রত্যাশাও বাড়ে।
তবে ২০২৫ সালের চোটের কারণে মৌসুমের শুরুটা তাঁর জন্য সহজ ছিল না। পরে মাঠে ফিরে Real Madrid-এর হয়ে ৯ নম্বর জার্সিতে খেলতে শুরু করেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে Talavera-এর বিপক্ষে Copa del Rey ম্যাচে তাঁকে ৯ নম্বর জার্সিতে Real Madrid-এর শুরুর একাদশে দেখা যায়।
Real Madrid-এর প্রথম মৌসুমে এন্ড্রিক খুব বেশি সময় মাঠে না পেলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজের ছাপ রাখেন। Champions League অভিষেকে গোল, Copa del Rey-তে পাঁচ গোল এবং দলের হয়ে দুটি শিরোপা—সব মিলিয়ে তাঁর প্রথম মৌসুম ছিল অভিজ্ঞতা ও সাফল্যে ভরা। এরপর ২০২৬ সালে তাঁর ক্যারিয়ারে আসে নতুন অধ্যায়, যখন তিনি Lyon-এ ধারে গিয়ে নিয়মিত খেলার আরও বড় সুযোগ পান।
Lyon-এ ধারে যাওয়া ও ২০২৬ সালের পারফরম্যান্স
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে Lyon-এ যোগদান
Real Madrid-এ নিয়মিত খেলার সুযোগ কমে যাওয়ার পর Endrick-এর জন্য নতুন একটি সুযোগ তৈরি হয়। ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ Real Madrid ও Olympique Lyonnais তাঁর ধারে যাওয়ার বিষয়ে চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী তিনি ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত Lyon-এর হয়ে খেলেন।
Lyon-এ যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ ছিল নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া। Real Madrid-এর দলে তখন আক্রমণভাগে অনেক তারকা খেলোয়াড় থাকায় নিয়মিত মাঠে নামা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছিল। Lyon-এ গিয়ে তিনি বেশি সময় মাঠে থাকার এবং নিজের ছন্দ ফিরে পাওয়ার সুযোগ পান।
২০২৬ সালে Lyon-এর হয়ে অভিষেক
১১ জানুয়ারি ২০২৬ Endrick Lyon-এর হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলেন। Coupe de France-এর ম্যাচে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিল Lille। বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই তিনি গোল করেন এবং Lyon-এর জার্সিতে নিজের আগমনের ভালো শুরু করেন।
অভিষেকেই গোল পাওয়াটা স্বাভাবিকভাবেই Endrick-এর জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো ছিল। Lyon-এর আক্রমণভাগে তিনি শুধু গোল করার চেষ্টা করেননি, বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং দলের আক্রমণে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সক্রিয় ছিলেন।
এরপর Ligue 1-এ তাঁর পারফরম্যান্স আরও নজর কাড়তে শুরু করে। Stade Brestois-এর বিপক্ষে ম্যাচে তিনি একটি গোলে সহায়তা করেন। ফলে Lyon-এর হয়ে শুরুতেই গোল ও অ্যাসিস্ট—দুই ধরনের অবদান রাখতে শুরু করেন।
Metz-এর বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক
Endrick-এর Lyon অধ্যায়ের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচ আসে ২৫ জানুয়ারি ২০২৬। Ligue 1-এ Metz-এর মাঠে Lyon ৫-২ গোলে জয় পায় এবং সেই ম্যাচে এন্ড্রিক করেন তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে এমন পারফরম্যান্স তাঁকে Lyon-এর রেকর্ডেও জায়গা করে দেয়। তিনি ১৯ বছর ১৮৮ দিন বয়সে Lyon-এর হয়ে Ligue 1-এ হ্যাটট্রিক করা সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হন। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ক্লাবের কিংবদন্তি Bernard Lacombe-এর দখলে।
Metz-এর বিপক্ষে তাঁর তিনটি গোলও ছিল ভিন্ন ধরনের। একটি গোল আসে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে বল তুলে দিয়ে, একটি নিখুঁত ফিনিশ থেকে এবং আরেকটি পেনাল্টি থেকে। ম্যাচে তিনি ছয়টি শট লক্ষ্যে রাখেন এবং তাঁর তিনটি ড্রিবলই সফল হয়।
হ্যাটট্রিকের পর Lyon-এ Endrick-এর শুরুটা যে ভালো হয়েছে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। Lyon-এর কোচ Paulo Fonseca-ও তাঁর আক্রমণাত্মক খেলা ও রক্ষণে পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। তাঁর গতি, ব্যক্তিগতভাবে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা এবং গোলের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা Lyon-এর আক্রমণে নতুন শক্তি যোগ করে।
Ligue 1 ও Coupe de France-এ পারফরম্যান্স
Lyon-এ এন্ড্রিক নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়ায় তাঁর পারফরম্যান্সেও পরিবর্তন দেখা যায়। Coupe de France-এ Lille-এর বিপক্ষে গোল করার পর Stade Lavallois-এর বিরুদ্ধেও গোল করেন তিনি। ফলে Lyon প্রতিযোগিতাটিতে এগিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
Ligue 1-এও তিনি ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন। এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে তিনি Lyon-এর হয়ে ১২টি ম্যাচে ৫ গোল ও ৬টি অ্যাসিস্ট করে দলের আক্রমণে বড় ভূমিকা রাখেন।
Lyon-এ এন্ড্রিক শুধু গোলই করেননি, সতীর্থদের গোলের সুযোগও তৈরি করেছেন। সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া, আক্রমণে গতি বাড়ানো এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করাও তাঁর খেলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
২০২৬ সালে Endrick-এর ক্যারিয়ারের নতুন অবস্থান
২০২৬ সালের Lyon অধ্যায় Endrick-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। Real Madrid-এ যেখানে নিয়মিত মাঠে নামার সুযোগ সীমিত ছিল, সেখানে Lyon তাঁকে বেশি দায়িত্ব দেয়। এই সময় তিনি আবারও দেখান যে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে গোল করার পাশাপাশি দলের আক্রমণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারেন।
৩০ জুন ২০২৬ তাঁর Lyon-এর লোনের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর তিনি Real Madrid-এ ফিরে আসেন। ২১ জুলাই ২০২৬-এ ২০ বছরে পা দেওয়ার সময় Real Madrid জানায়, ক্লাবটির হয়ে দুই মৌসুমে এন্ড্রিক ৪০ ম্যাচে ৭ গোল করেছেন এবং তাঁর ঝুলিতে রয়েছে UEFA Super Cup ও Intercontinental Cup-এর দুটি শিরোপা।
লিয়নে কাটানো সময়ের পর তাঁর সামনে ছিল আবার Real Madrid-এর মূল দলে নিজের জায়গা তৈরি করার সুযোগ। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ২৯ জুলাই ২০২৬ Endrick Real Madrid-এর প্রাক-মৌসুম অনুশীলনেও যোগ দেন।
Real Madrid-এ ভবিষ্যৎ
Lyon-এ ধারে খেলার অভিজ্ঞতা Endrick-এর ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হয়ে উঠেছে। নিয়মিত ম্যাচ খেলা, Ligue 1-এর শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলা এবং গোল ও অ্যাসিস্টে অবদান রাখার মাধ্যমে তিনি নিজের খেলায় আরও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
এখন তাঁর লক্ষ্য Real Madrid-এর দলে আরও বেশি সুযোগ পাওয়া। ২০২৬–২৭ মৌসুমে তিনি আবার Madrid-এর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রাক-মৌসুম অনুশীলনে ফিরেছেন। তাঁর বয়স এখনও মাত্র ২০ বছর। তাই সামনে উন্নতির জন্য অনেক সময় রয়েছে।
Real Madrid-এ নিজের জায়গা শক্ত করতে হলে নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্সের পাশাপাশি কোচের আস্থা অর্জন করাও Endrick-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। Lyon-এ পাওয়া ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা সেই পথে তাঁর জন্য বড় সহায়তা হতে পারে।
ব্রাজিল জাতীয় দলে Endrick

অনূর্ধ্ব-১৭ দলে সাফল্যের শুরু
ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি এন্ড্রিক খুব অল্প বয়সেই ব্রাজিলের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। ২০২২ সালের মার্চে তাঁকে ব্রাজিল অনূর্ধ্ব-১৭ দলে ডাকা হয় ফ্রান্সের Montaigu Tournament খেলার জন্য।
এই টুর্নামেন্টেই এন্ড্রিক নিজের গোল করার ক্ষমতার বড় প্রমাণ দেন। চার ম্যাচে তিনি ৫টি গোল করেন। এর মধ্যে Argentina-এর বিপক্ষে ফাইনালেও একটি গোল ছিল। তাঁর পারফরম্যান্সে Brazil শিরোপা জেতে এবং এন্ড্রিক টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
এরপর আন্তর্জাতিক ফুটবলেও Endrick-কে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ক্লাব ফুটবলে Palmeiras-এর হয়ে আলোচনায় আসার পাশাপাশি জাতীয় দলের বয়সভিত্তিক পর্যায়েও তিনি নিজের জায়গা তৈরি করতে শুরু করেন।
অনূর্ধ্ব-২০ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলে
Endrick ২০২৩ সালের South American U-20 Championship-এর জন্য Brazil-এর অনূর্ধ্ব-২০ দলে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে Palmeiras তাঁকে টুর্নামেন্টে খেলতে ছাড়েনি। কারণ সেই সময় ক্লাবের নতুন মৌসুমের প্রস্তুতির সঙ্গে প্রতিযোগিতার সময়সূচি মিলে যাচ্ছিল।
পরে ২০২৪ সালে Endrick Brazil-এর অনূর্ধ্ব-২৩ দলে জায়গা পান। Paris Olympics-এর বাছাইপর্বে তিনি সাতটি ম্যাচ খেলে দুটি গোল করেন। তবে Brazil শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের অলিম্পিকে জায়গা করে নিতে পারেনি।
বয়সভিত্তিক দলে খেলতে খেলতেই Endrick-এর সামনে খুলে যায় আরও বড় দরজা—Brazil-এর সিনিয়র জাতীয় দল।
২০২৩ সালে সিনিয়র জাতীয় দলে ডাক
৬ নভেম্বর ২০২৩ এন্ড্রিক প্রথমবার Brazil-এর সিনিয়র জাতীয় দলে ডাক পান। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে Colombia ও Argentina-এর বিপক্ষে ম্যাচের জন্য তাঁকে দলে নেওয়া হয়।
তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। এর মাধ্যমে তিনি ১৯৯৪ সালের Ronaldo-এর পর Brazil-এর সিনিয়র দলে ডাক পাওয়া সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়দের একজন হয়ে ওঠেন।
তবে প্রথম ডাক পাওয়ার পরই তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল মাঠে নেমে নিজের সামর্থ্য দেখানো।
Colombia-এর বিপক্ষে অভিষেক
১৬ নভেম্বর ২০২৩ Colombia-এর বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে Endrick Brazil-এর জার্সিতে প্রথমবার মাঠে নামেন। এই ম্যাচে Brazil ২-১ গোলে হেরে যায়।
Brazil ম্যাচটি হারলেও Endrick-এর অভিষেকটি আলাদা করে নজর কেড়েছিল। তিনি Brazil-এর ইতিহাসে চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে সিনিয়র দলের হয়ে অভিষেক করেন। একই সঙ্গে ৫৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে Brazil-এর হয়ে অভিষেকের রেকর্ডও গড়েন।
এরপর তাঁর সামনে আসে প্রথম আন্তর্জাতিক গোলের অপেক্ষা।
Wembley-তে প্রথম আন্তর্জাতিক গোল
Endrick-এর প্রথম আন্তর্জাতিক গোল আসে এমন এক মাঠে, যেখানে বিশ্বের অনেক বড় ফুটবলার নিজেদের নাম তৈরি করেছেন। ২৩ মার্চ ২০২৪ England-এর বিপক্ষে Wembley Stadium-এ বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি Brazil-এর হয়ে প্রথম গোল করেন।
ম্যাচের শেষ দিকে এন্ড্রিক মাঠে নামার পর Brazil আক্রমণ চালিয়ে যায়। শেষ মুহূর্তে তাঁর করা গোলেই Brazil ১-০ ব্যবধানে England-কে হারায়।
গোলটির পর Wembley-তে গোল করা সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়দের তালিকায় এন্ড্রিক নতুন রেকর্ড গড়েন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে এমন একটি ঐতিহাসিক মাঠে প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকে।
Spain-এর বিপক্ষেও গোল
England ম্যাচের মাত্র তিন দিন পর এন্ড্রিক আবারও গোল করেন। ২৬ মার্চ ২০২৪ Spain-এর বিপক্ষে Santiago Bernabéu-তে অনুষ্ঠিত ম্যাচে Brazil ৩-৩ গোলে ড্র করে।
এন্ড্রিক দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে Brazil-এর হয়ে গোল করেন। পরপর দুই ম্যাচে England ও Spain-এর বিপক্ষে গোল করায় তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়।
বিশেষ বিষয় হলো, তখন তিনি ইতিমধ্যে Real Madrid-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন এবং Bernabéu-তেই Brazil-এর জার্সিতে গোল করেন। কয়েক মাস পর সেই একই মাঠে Real Madrid-এর খেলোয়াড় হিসেবে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
Mexico-এর বিপক্ষে আরও একটি গোল
৮ জুন ২০২৪ Mexico-এর বিপক্ষে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচে Endrick Brazil-এর হয়ে নিজের তৃতীয় আন্তর্জাতিক গোল করেন। ম্যাচটি Brazil ৩-২ গোলে জেতে।
অল্প সময়ের মধ্যে England, Spain ও Mexico-এর মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে গোল করে এন্ড্রিক দেখিয়ে দেন যে বয়স কম হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় মঞ্চে তিনি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন।
Copa América 2024
২০২৪ সালের Copa América-তেও Endrick Brazil দলের অংশ ছিলেন। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই তিনি বদলি হিসেবে মাঠে নামেন।
Brazil কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর Uruguay-এর বিপক্ষে এন্ড্রিক প্রথমবার Copa América-তে Brazil-এর হয়ে শুরু থেকে মাঠে নামেন। সেই ম্যাচে Vinícius Júnior নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারেননি। ফলে আক্রমণভাগে Endrick-এর ওপর বড় দায়িত্ব পড়ে।
Uruguay-এর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল
৬ জুলাই ২০২৪ Uruguay-এর বিপক্ষে Copa América কোয়ার্টার ফাইনালে এন্ড্রিক শুরু থেকেই খেলেন। ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্র হয়। পরে পেনাল্টি শুটআউটে Brazil ৪-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।
এন্ড্রিক পুরো ম্যাচে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। তাঁর পাসের পরিসংখ্যানও ছিল সীমিত। তবে এত অল্প বয়সে Brazil-এর হয়ে Copa América-এর নকআউট ম্যাচে শুরু থেকে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
জাতীয় দলের হয়ে Endrick-এর পথচলা তাই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দ্রুত এগিয়েছে। বয়সভিত্তিক দলে সাফল্য থেকে সিনিয়র দলের ডাক, এরপর Colombia-এর বিপক্ষে অভিষেক এবং Wembley-তে England-এর বিপক্ষে প্রথম গোল—সব মিলিয়ে Brazil-এর জার্সিতে তাঁর শুরুটা ছিল আলোচনায় ভরা। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপ তাঁকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্য দেখানোর নতুন সুযোগ এনে দেয়।
২০২৬ বিশ্বকাপ ও জাতীয় দলের বর্তমান অধ্যায়
২০২৬ বিশ্বকাপে Brazil দলে জায়গা
Brazil জাতীয় দলে দ্রুত উঠে আসার পর ২০২৬ সালে এন্ড্রিক প্রথমবার বিশ্বকাপের আসরে খেলার সুযোগ পান। ১৮ মে ২০২৬ তাঁকে Brazil-এর ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দলে রাখা হয়। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের মূল দলে জায়গা পাওয়া তাঁর ক্যারিয়ারের বড় অর্জন।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। Brazil ছিল Group C-তে। Endrick-এর জন্য এই টুর্নামেন্ট ছিল সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা নেওয়ার প্রথম সুযোগ।
Haiti-এর বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ
Endrick-এর বিশ্বকাপ অভিষেক হয় ১৯ জুন ২০২৬ Haiti-এর বিপক্ষে ম্যাচে। Philadelphia-র Lincoln Financial Field-এ অনুষ্ঠিত Group C-এর ম্যাচে তিনি বদলি হিসেবে মাঠে নামেন।
ম্যাচে Brazil-এর আক্রমণভাগে Matheus Cunha-এর পরিবর্তে এন্ড্রিক মাঠে আসেন। এত কম বয়সে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে মাঠে নামা তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত হয়ে থাকে।
এর আগে তিনি Brazil-এর হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিয়মিত আলোচনায় ছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপের ম্যাচ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা। Brazil-এর জার্সিতে বিশ্বকাপে মাঠে নামার অভিজ্ঞতা তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় যোগ করে।
২০২৬ সালে জাতীয় দলের পরিসংখ্যান
২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে Endrick Brazil দলের অংশ ছিলেন। ৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত তাঁর জাতীয় দলের পরিসংখ্যানে মোট ২১ ম্যাচে ৪ গোল ছিল। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ২ ম্যাচ, ২০২৪ সালে ১১ ম্যাচ, ২০২৫ সালে ১ ম্যাচ এবং ২০২৬ সালে ৭ ম্যাচ খেলেছেন।
২০২৬ সালে তাঁর আন্তর্জাতিক গোলের সংখ্যা ছিল ১টি। ফলে অল্প বয়সেই Brazil-এর সিনিয়র দলের হয়ে ২০টির বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।
তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত গোলগুলোর মধ্যে রয়েছে England-এর বিপক্ষে Wembley-তে করা প্রথম গোল। Spain ও Mexico-এর বিপক্ষেও তিনি গোল করেছেন। এসব ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স তাঁকে Brazil-এর ভবিষ্যৎ আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে পরিচিত করেছে।
Brazil জাতীয় দলে Endrick-এর ভূমিকা
Brazil-এর আক্রমণভাগে এন্ড্রিক মূলত স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেন। তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো গোলের সামনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া। বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটের পাশাপাশি তিনি ডিফেন্ডারদের ওপর চাপ তৈরি করতে পছন্দ করেন।
তবে Brazil-এর মতো দলে নিয়মিত একাদশে জায়গা পাওয়া সহজ নয়। আক্রমণভাগে একাধিক অভিজ্ঞ ও বিশ্বমানের খেলোয়াড় থাকায় Endrick-কে নিজের জায়গা তৈরি করতে লড়াই করতে হয়। তারপরও অল্প বয়সে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য বড় সুবিধা।
ভবিষ্যতে Brazil-এর আক্রমণভাগে গুরুত্ব
Endrick এখনও ক্যারিয়ারের শুরুতেই রয়েছেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি Palmeiras, Real Madrid, Lyon এবং Brazil জাতীয় দলের হয়ে বড় পর্যায়ের ফুটবল খেলে ফেলেছেন। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে তাঁকে আরও পরিণত খেলোয়াড় হতে সাহায্য করতে পারে।
Brazil সবসময়ই বিশ্বমানের স্ট্রাইকার তৈরির জন্য পরিচিত। এন্ড্রিক সেই ধারার পরবর্তী প্রজন্মের একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তাঁর গতি, শক্তি, গোল করার ক্ষমতা এবং মাঠে শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা তাঁকে আলাদা করে।
নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে এবং চোট থেকে দূরে থাকতে পারলে Brazil-এর আক্রমণভাগে তাঁর গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। ২০২৬ বিশ্বকাপ তাঁর জন্য ছিল প্রথম বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা। সামনে আরও বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় Brazil-এর হয়ে Endrick-এর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
Endrick-এর খেলার ধরন
Striker হিসেবে ভূমিকা
এন্ড্রিক মূলত একজন স্ট্রাইকার। তাঁর প্রধান কাজ হলো প্রতিপক্ষের গোলের কাছে সুযোগ তৈরি করা এবং সেই সুযোগকে গোলে পরিণত করা। তবে শুধু গোলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যে তাঁর খেলা সীমাবদ্ধ নয়। তিনি আক্রমণের সময় সামনে থেকে দৌড়ান, ডিফেন্ডারদের চাপ দেন এবং বল পাওয়ার জন্য জায়গা খোঁজেন।
তরুণ বয়স থেকেই Endrick-এর খেলায় গোল করার স্বাভাবিক প্রবণতা দেখা গেছে। Palmeiras-এর যুব দলে তাঁর ১৬৫ গোল এবং পরে সিনিয়র ফুটবলে নিয়মিত গোল করার রেকর্ড সেই বিষয়টিই তুলে ধরে।
বাঁ পায়ের শট
Endrick বাঁ পায়ের খেলোয়াড়। তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো বাঁ পায়ের শট। গোলের সামনে অল্প জায়গা পেলেও দ্রুত শট নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর।
দূর থেকে শট নেওয়ার পাশাপাশি বক্সের ভেতরেও তিনি দ্রুত ফিনিশ করতে পারেন। Palmeiras, Real Madrid এবং Lyon—তিন ক্লাবের হয়েই তাঁর গোলগুলোর মধ্যে বাঁ পায়ের শটের ব্যবহার দেখা গেছে।
তাঁর শটের শক্তি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের জন্য বিপদ তৈরি করতে পারে।
গতি ও শারীরিক শক্তি
Endrick-এর বয়স কম হলেও তাঁর শারীরিক শক্তি তাঁর খেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বল নিয়ে দৌড়ানোর সময় তিনি ডিফেন্ডারের সঙ্গে লড়াই করে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন।
তাঁর গতি আক্রমণেও কাজে লাগে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ একটু ফাঁকা পেলেই Endrick দ্রুত সেই জায়গায় ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। ফলে তাঁর জন্য লম্বা পাস বা দ্রুত আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হয়।
শারীরিক শক্তির সঙ্গে গতি যোগ হওয়ায় তিনি শুধু বক্সের মধ্যে নয়, বক্সের বাইরে থেকেও আক্রমণ শুরু করতে পারেন।
গোল করার দক্ষতা
Endrick-এর খেলার সবচেয়ে নজরকাড়া দিক হলো তাঁর ফিনিশিং। বয়সভিত্তিক ফুটবল থেকে শুরু করে সিনিয়র ফুটবল—প্রতিটি পর্যায়েই তিনি গোল করেছেন।
Palmeiras-এর যুব দলে ১৬৯ ম্যাচে ১৬৫ গোল করার পর সিনিয়র দলেও দ্রুত গোল পেতে শুরু করেন। Real Madrid-এর হয়ে Champions League অভিষেকেই গোল এবং Copa del Rey-তে পাঁচ গোল তাঁর ফিনিশিং দক্ষতার বড় উদাহরণ।
Lyon-এ ধারে গিয়েও তিনি গোলের সামনে নিজের দক্ষতা দেখান। Metz-এর বিপক্ষে হ্যাটট্রিক তাঁর গোল করার সামর্থ্যের আরেকটি বড় উদাহরণ।
চাপ প্রয়োগ ও পরিশ্রম
Endrick শুধু আক্রমণের সময় বলের জন্য অপেক্ষা করেন না। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করাও তাঁর খেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি নিজেই নিজের খেলার ধরন সম্পর্কে বলেছেন, তিনি শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করতে চান, হাল ছাড়েন না এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ওপর চাপ দিতে পছন্দ করেন। তাই বল পায়ে না থাকলেও দলের জন্য তাঁর কাজ থাকে।
একজন স্ট্রাইকারের জন্য এই ধরনের পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আধুনিক ফুটবলে শুধু গোল করাই যথেষ্ট নয়; প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রেও আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের ভূমিকা থাকে।
ডিফেন্ডারদের প্রেস করার ক্ষমতা
Endrick-এর গতি ও পরিশ্রম তাঁকে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের প্রেস করার সুযোগ দেয়। ডিফেন্ডার বল নিয়ে দাঁড়ালে তিনি দ্রুত সামনে এগিয়ে গিয়ে ভুল করতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন।
এই চাপ থেকে অনেক সময় আক্রমণ শুরু করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। Lyon-এর হয়ে খেলার সময়ও তাঁর প্রেসিং এবং আক্রমণে সক্রিয় থাকার বিষয়টি নজরে আসে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর শারীরিক শক্তি ও ম্যাচের অভিজ্ঞতা আরও বাড়লে এই দিকটি তাঁর খেলার আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।
Ronaldo, Pelé ও Romário-র সঙ্গে তুলনা
Endrick-এর প্রতিভা দেখে ব্রাজিলের কয়েকজন কিংবদন্তি স্ট্রাইকারের সঙ্গে তাঁর তুলনা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন Ronaldo Nazário, Pelé এবং Romário।
তুলনার অন্যতম কারণ হলো অল্প বয়সে গোল করার ক্ষমতা। Ronaldo-র মতোই Endrick-এর মধ্যে গতি ও শক্তির সমন্বয় দেখা যায়। আবার Pelé ও Romário-র মতো গোলের সামনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতার কথাও আলোচনায় আসে।
তবে এই তুলনাগুলো Endrick-এর নিজের কোনো দাবি নয়। বরং তাঁর পারফরম্যান্স দেখে ফুটবলবিশ্বের বিভিন্ন মহল থেকে এমন তুলনা এসেছে।
কেন Endrick নিজেকে কিংবদন্তিদের সঙ্গে তুলনা করতে চান না
ব্রাজিলের কিংবদন্তিদের সঙ্গে তুলনা করা হলেও Endrick নিজে এসব তুলনা নিয়ে সতর্ক। বিশেষ করে Pelé-এর মতো একজন ঐতিহাসিক খেলোয়াড়ের সঙ্গে নিজের তুলনা তিনি গ্রহণ করতে চান না।
কারণ এন্ড্রিক জানেন, Pelé, Ronaldo বা Romário নিজেদের সময়ে ফুটবলে অসাধারণ জায়গা তৈরি করেছেন। তাঁদের অর্জনের সঙ্গে নিজের ক্যারিয়ারকে তুলনা করার সময় এখনও আসেনি।
Endrick-এর লক্ষ্য নিজের খেলা দিয়ে নিজের পরিচয় তৈরি করা। তাঁর বয়স এখনও কম এবং সামনে দীর্ঘ ক্যারিয়ার পড়ে আছে। তাই অন্য কারও মতো হওয়ার চেয়ে নিজের সামর্থ্যকে আরও উন্নত করাই তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
Endrick-এর খেলার মধ্যে তাই একদিকে রয়েছে শক্তিশালী শট ও গোল করার ক্ষমতা, অন্যদিকে রয়েছে গতি, পরিশ্রম এবং প্রতিপক্ষকে চাপ দেওয়ার মানসিকতা। এসব গুণের কারণে এন্ড্রিক আক্রমণভাগে বেশ কার্যকর একজন খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন।
ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান ও অর্জন
Endrick-এর ক্যারিয়ার এখনও শুরুর দিকে হলেও এরই মধ্যে তিনি ব্রাজিল, স্পেন ও ফ্রান্সের ক্লাব ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। Palmeiras-এর যুব দল থেকে শুরু করে Real Madrid ও Lyon—প্রতিটি ধাপেই তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন কিছু যোগ হয়েছে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাঁর পরিসংখ্যান দেখলে ক্যারিয়ারের শুরুটা কতটা দ্রুত এগিয়েছে, সেটি বোঝা যায়।
Palmeiras-এর পরিসংখ্যান

Palmeiras-এর যুব দলে Endrick-এর গোলের রেকর্ড ছিল অসাধারণ। পাঁচ বছরে তিনি ১৬৯ ম্যাচে ১৬৫ গোল করেন। এরপর ২০২২ সালে সিনিয়র দলে অভিষেকের পর তিন মৌসুমে মোট ৮২ ম্যাচে ২১ গোল করেন।
২০২৩ মৌসুম ছিল Palmeiras-এর হয়ে তাঁর সবচেয়ে সফল সময়গুলোর একটি। সে বছর তিনি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৩ ম্যাচে ১৪ গোল করেন। এর মধ্যে Brasileirão-তে ১১ গোল ছিল। এই পারফরম্যান্স Palmeiras-এর টানা দ্বিতীয় লিগ শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Real Madrid-এর পরিসংখ্যান
২০২৪ সালে Real Madrid-এ যোগ দেওয়ার পর এন্ড্রিক প্রথম মৌসুমেই নিজের নামের পাশে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রেকর্ড যোগ করেন। ২০২৪–২৫ মৌসুমে তিনি ক্লাবটির হয়ে ৩৭ ম্যাচে ৭ গোল করেন।
এর মধ্যে La Liga, Copa del Rey এবং UEFA Champions League-এ তাঁর গোল রয়েছে। বিশেষ করে Copa del Rey-তে তিনি ৫ গোল করেন। এই প্রতিযোগিতায় তাঁর পারফরম্যান্স তাঁকে Real Madrid সমর্থকদের কাছে আরও পরিচিত করে তোলে।
Lyon-এর পরিসংখ্যান
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ছয় মাসের লোনে Lyon-এ যাওয়ার পর ২০২৬ সালে এন্ড্রিক ফ্রান্সের ফুটবলে নতুন অভিজ্ঞতা পান। এপ্রিল পর্যন্ত Lyon-এর হয়ে ১২ ম্যাচে ৫ গোল ও ৬টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন এন্ড্রিক। পুরো লোনের সময় শেষ হওয়ার পর তাঁর মোট পরিসংখ্যান দাঁড়ায় ২১ ম্যাচে ৮ গোল।
Lyon-এর হয়ে তাঁর অভিষেকেই গোল আসে। পরে Ligue 1-এ Metz-এর বিপক্ষে এক ম্যাচে তিন গোল করে হ্যাটট্রিকও করেন।
মোট ক্লাব ম্যাচ ও গোল
১৭ মে ২০২৬ পর্যন্ত দেওয়া ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এন্ড্রিক সিনিয়র ক্লাব ফুটবলে মোট ১৪৩ ম্যাচে ৩৪ গোল করেছেন।
| ক্লাব | ম্যাচ | গোল |
|---|---|---|
| Palmeiras | 82 | 21 |
| Real Madrid | 40 | 7 |
| Lyon | 21 | 8 |
| মোট | 143 | 34 |
এখানে লিগ, জাতীয় কাপ ও আন্তর্জাতিক ক্লাব প্রতিযোগিতার ম্যাচও ধরা হয়েছে।
Brazil-এর ম্যাচ ও গোল
Brazil জাতীয় দলের হয়েও এন্ড্রিক অল্প সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করেছেন। পরিসংখ্যানের সর্বশেষ আপডেট: ৫ জুলাই ২০২৬।
২০২৩ সালে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। ২০২৪ সালে তিনি ১১টি ম্যাচ খেলে ৩টি গোল করেন। ২০২৫ সালে ১টি ম্যাচ এবং ২০২৬ সালে ৭টি ম্যাচে তাঁর নাম রয়েছে। ২০২৬ সালে তাঁর আন্তর্জাতিক গোলের সংখ্যা ছিল ১টি।
গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড
Endrick-এর ক্যারিয়ারে ইতিমধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য রেকর্ড রয়েছে।
- Palmeiras-এর প্রথম দলে খেলা সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হন।
- ১৬ বছর বয়সেই Brasileirão-তে গোল করেন।
- Real Madrid-এর হয়ে La Liga-তে গোল করা সবচেয়ে কম বয়সী বিদেশি খেলোয়াড় হন।
- Champions League-এ Real Madrid-এর হয়ে গোল করা সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হন।
- Champions League-এ গোল করা সবচেয়ে কম বয়সী Brazilian খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে রেকর্ড গড়েন।
- Wembley Stadium-এ Brazil-এর হয়ে ক্লাব বা দেশের হয়ে গোল করা সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হন।
- Real Madrid-এর হয়ে ২০১২–১৩ মৌসুমের Cristiano Ronaldo-এর পর এক Copa del Rey আসরে পাঁচ গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হন।
২০২৬ পর্যন্ত ক্যারিয়ারের সারাংশ
২০২৬ সাল পর্যন্ত Endrick-এর ক্যারিয়ারকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করা যায়—Palmeiras-এ প্রতিভার প্রকাশ, Real Madrid-এ বড় মঞ্চে প্রবেশ এবং Lyon-এ নিয়মিত খেলার নতুন অভিজ্ঞতা। এর পাশাপাশি Brazil জাতীয় দলেও তিনি ইতিমধ্যে বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন।
মাত্র ২০ বছর বয়সের কাছাকাছি সময়েই তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ক্লাব শিরোপা, আন্তর্জাতিক গোল, Champions League-এর অভিজ্ঞতা এবং একাধিক বয়সভিত্তিক ও সিনিয়র পর্যায়ের রেকর্ড। তাঁর ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় এখন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
Endrick-এর ব্যক্তিগত জীবন
পরিবার
Endrick-এর জীবনের শুরুটা খুব সহজ ছিল না। তিনি ব্রাজিলের Taguatinga-তে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবারে বাবা-মায়ের পাশাপাশি এক ভাই ও দুই বোন রয়েছে।
ছোটবেলায় পরিবারের আর্থিক সমস্যা ছিল। তাঁর বাবা Douglas de Sousa Silva Ramos নিজেও ফুটবলার হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এন্ড্রিক যখন ১১ বছর বয়সী, তখন তাঁর বাবা Brasília-এর কয়েকটি ছোট ক্লাবে খেলার জন্য পরিবার থেকে দূরে চলে যান।
সেই সময় Endrick-এর মা কাজহীন ছিলেন এবং পরিবারের থাকার জায়গা নিয়েও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এন্ড্রিক ও তাঁর ভাই-বোনদের কিছু সময় São Paulo-এর একটি অনাথ আশ্রমে থাকতে হয়েছিল। প্রায় ছয় মাস পর তাঁর বাবা ফিরে আসেন।
ছোটবেলার এই কঠিন অভিজ্ঞতাগুলো Endrick-এর ওপর দীর্ঘদিন প্রভাব ফেলেছে। পরিবারের পরিস্থিতি দেখে ফুটবলকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত Endrick-এর কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
Gabriely Miranda-এর সঙ্গে বিয়ে

Endrick-এর ব্যক্তিগত জীবনের একটি বড় ঘটনা হলো Gabriely Miranda-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে Endrick-এর বাপ্তিস্ম অনুষ্ঠিত হয়। তিনি Baptist Christian বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত।
তখন Endrick-এর বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। Real Madrid-এ যোগ দেওয়ার সময় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও ফুটবল সমর্থকদের আলোচনায় আসে। Gabriely Miranda-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং পরে বিয়ে Endrick-এর মাঠের বাইরের জীবনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।
তবে ফুটবলের ব্যস্ততার মধ্যেও এন্ড্রিক নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে আলাদা রাখার চেষ্টা করেছেন।
Cristiano Ronaldo-এর প্রভাব
ছোটবেলা থেকেই Endrick-এর ফুটবল জীবনে Cristiano Ronaldo-এর বড় প্রভাব ছিল। তিনি শৈশব থেকেই Real Madrid সমর্থন করতেন এবং Ronaldo-কে নিজের অন্যতম আদর্শ হিসেবে দেখতেন।
Real Madrid-এর হয়ে খেলার স্বপ্নও তাঁর ছোটবেলা থেকেই ছিল। মাত্র আট বছর বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে Águas Claras-এর একটি Real Madrid ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পান তিনি।
Ronaldo-এর খেলার ধরন, গোল করার মানসিকতা এবং কঠোর পরিশ্রম Endrick-কে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর বাবা Douglas-ও জানিয়েছেন, Cristiano Ronaldo-এর খেলা Endrick-এর ওপর প্রভাব ফেলেছে।
পরবর্তীতে Real Madrid-এর খেলোয়াড় হয়ে এন্ড্রিক তাঁর ছোটবেলার সেই স্বপ্ন পূরণ করেন।
Bobby Charlton-এর প্রতি শ্রদ্ধা
Endrick-এর ফুটবল পছন্দ শুধু ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৪ সালে England-এর বিপক্ষে Wembley Stadium-এ Brazil-এর হয়ে গোল করার পর তিনি জানান, তাঁর পছন্দের খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি Bobby Charlton।
Wembley-তে England-এর বিপক্ষে গোল করার ঘটনাটিও তাই তাঁর জন্য বিশেষ হয়ে যায়। যে মাঠের সঙ্গে Bobby Charlton-এর দীর্ঘ ফুটবল ইতিহাস জড়িয়ে আছে, সেই মাঠেই এন্ড্রিক তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করেন।
“Bobby” ডাকনামের গল্প
Bobby Charlton-এর প্রতি Endrick-এর শ্রদ্ধার কথা জানার পর তাঁর Brazil ও Real Madrid-এর সতীর্থদের মধ্যে মজার একটি বিষয় শুরু হয়।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে Rodrygo জানান, Endrick-এর সতীর্থরা তাঁকে মজা করে “Bobby” নামে ডাকতে শুরু করেছিলেন। কারণ Endrick নিজেই Bobby Charlton-এর প্রতি নিজের প্রশংসার কথা জানিয়েছিলেন।
সতীর্থরা মজা করেই তাঁকে “Bobby” নামে ডাকতে শুরু করেন। পরে নামটি Endrick-এর সঙ্গে বেশ পরিচিত হয়ে যায়।
ধর্মীয় জীবনের পরিবর্তন
Endrick-এর জীবনে ধর্মও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে তিনি Baptist Christian হিসেবে ধর্মীয় জীবনের একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেন।
Madrid-এর Lagoinha Baptist Church-এ তাঁর বাপ্তিস্ম হয়। ফুটবলের বাইরে নিজের বিশ্বাস ও ধর্মীয় জীবনকেও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
মাঠের বাইরের Endrick
মাঠে এন্ড্রিক একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত। কিন্তু মাঠের বাইরে তাঁর জীবনের গল্প অনেকটাই সংগ্রামের।
ছোটবেলায় পরিবারের আর্থিক সমস্যার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা, বাবার ফুটবলার হওয়ার চেষ্টা, কঠিন পারিবারিক পরিস্থিতি এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিশ্রম—সবকিছু মিলিয়ে তাঁর জীবন তাঁকে খুব অল্প বয়সেই বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে।
চার বছর বয়সে ফুটবল শুরু করা সেই ছেলেটিই পরে Palmeiras-এর যুব দলে গোলের পর গোল করেছেন, Real Madrid-এর জার্সি পরেছেন এবং Brazil জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে খেলেছেন।
Endrick-এর ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে বড় দিক হলো, ফুটবলের বাইরে তাঁর পরিচয়ের পেছনেও রয়েছে পরিবার, শৈশবের স্বপ্ন, প্রিয় খেলোয়াড়দের প্রভাব এবং নিজের বিশ্বাস। মাঠে তাঁর পরিচয় একজন স্ট্রাইকার হিসেবে হলেও, মাঠের বাইরের এই অভিজ্ঞতাগুলোই তাঁর বেড়ে ওঠার গল্পকে আরও আলাদা করে তুলেছে।
Endrick-এর ভবিষ্যৎ ও উপসংহার
Real Madrid-এ ভবিষ্যৎ
Endrick-এর ক্লাব ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি হলো Real Madrid। ২০২৪ সালে স্প্যানিশ ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি বিশ্বের অন্যতম বড় ফুটবল মঞ্চে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। সেখানে খুব কম বয়সেই La Liga ও Champions League-এ গোল করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে Lyon-এ ছয় মাসের জন্য ধারে যাওয়ার পর তাঁর সামনে নিয়মিত ম্যাচ খেলার নতুন সুযোগ তৈরি হয়। Lyon-এ ভালো পারফরম্যান্স তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও বাড়িয়েছে।
Real Madrid-এ ফিরে Endrick-এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে নিয়মিত সুযোগ কাজে লাগানো। বড় ক্লাবে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। তাই নিজের গোল করার ক্ষমতা, গতি ও পরিশ্রম দিয়ে দলে জায়গা ধরে রাখাই হবে তাঁর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
Brazil জাতীয় দলে সম্ভাবনা
Brazil জাতীয় দলের হয়েও এন্ড্রিক ইতিমধ্যে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। ২০২৩ সালে অভিষেকের পর England, Spain ও Mexico-এর বিপক্ষে গোল করেছেন। ২০২৪ Copa América-তেও খেলেছেন এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে Brazil দলের অংশ হয়েছেন।
মাত্র ২০ বছর বয়সের কাছাকাছি সময়েই বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা পাওয়া তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় ব্যাপার। সামনে Brazil-এর আক্রমণভাগে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে জাতীয় দলে জায়গা ধরে রাখতে নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্স এবং চোট থেকে সুস্থ থাকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। Brazil-এর মতো দলে প্রতিটি পজিশনের জন্য প্রতিযোগিতা অনেক বেশি।
Lyon-এর অভিজ্ঞতার গুরুত্ব
Lyon-এ ছয় মাসের লোন Endrick-এর ক্যারিয়ারে আলাদা গুরুত্ব রাখে। Real Madrid-এর মতো বড় ক্লাবে সীমিত সুযোগের পরিবর্তে Lyon-এ তিনি আরও নিয়মিত মাঠে নামার সুযোগ পান।
২০২৬ সালে Lyon-এর হয়ে অভিষেক ম্যাচেই গোল করার পর Ligue 1-এ Metz-এর বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন। এই সময়টায় ফ্রান্সের ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং ভিন্ন ধরনের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।
