Wednesday, July 29, 2026
HomeFootball NewsFootball (ফুটবল) - ফুটবল খেলার নিয়ম, ইতিহাস, ১৭টি আইন ও সম্পূর্ণ গাইড

Football (ফুটবল) – ফুটবল খেলার নিয়ম, ইতিহাস, ১৭টি আইন ও সম্পূর্ণ গাইড

ফুটবল (Football) একটি দলগত খেলা যা ১১ জন খেলোয়াড়ের দুটি দলে খেলা হয় যারা মূলত একটি আয়তক্ষেত্রাকার মাঠের চারপাশে পা দিয়ে বল চালনা করে। খেলার লক্ষ্য হলো গোল লাইনের বাইরে বলটিকে প্রতিপক্ষের সুরক্ষিত আয়তক্ষেত্রাকার ফ্রেমযুক্ত গোলে সরিয়ে বিপরীত দলের চেয়ে বেশি গোল করা। ঐতিহ্যগতভাবে, খেলাটি ৪৫ মিনিট করে দুই অংশে হয়, মোট ম্যাচের সময় ৯০ মিনিট হয়। আনুমানিক ২৫০ মিলিয়ন খেলোয়াড় ২০০ টিরও বেশি দেশ এবং অঞ্চলে খেলছে, এবং ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হিসেবে পরিচিত। 

 (Football) ফুটবল খেলার নিয়মাবলী (সংক্ষেপে) 

 ফিফার নিয়ম অনুযায়ী,[৮] (Football) ফুটবল খেলার আইন সতেরোটি পৃথক আইন নিয়ে গঠিত, যা প্রতিটি আইনে কয়েকটি নিয়ম ও নির্দেশ রয়েছে। নিচে ১৭টি আইনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হল: 

 আইন ১: খেলার ক্ষেত্র   

এই আইন ফুটবল মাঠের আকার এবং চিহ্ন নির্ধারণ করে, যাকে (Football) ফুটবল পিচ বা ফুটবল (Football) মাঠ বলা হয়। পিচ প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম ঘাস দ্বারা তৈরি হতে পারে। গোল লাইনের সমান্তরালে চলে এবং খেলার পৃষ্ঠকে চিহ্নিত করে এমন একটি লাইন দ্বারা পিচ দুটি সমান ভাগে ভাগ করা হয়। এই রেখাটি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এবং এর চারপাশে ৯. ১৫ মিটার একটি বৃত্ত আঁকা হয়। টাচলাইনগুলি অবশ্যই ৯০-১২০ মিটার দীর্ঘ এবং উভয় লম্বায় একই হতে হবে। গোল লাইন ৪৫-৯০ মিটার চওড়া এবং প্রস্থের সমান হতে হবে। 

আইন ২: বল   

এই আইনটি বলের আকৃতি, আকার এবং উপাদান নির্ধারণ করে। আইনটি বলে যে একটি আকার ৫ বলের আদর্শ ব্যাস প্রায় ২২ সেমি এবং পরিধি ৬৮-৭০ সেমি হতে হবে। ফুটবল (Football) বলের ওজন ৪১০-৪৫০ গ্রামের মধ্যে হতে হবে। 

 আইন ৩: খেলোয়াড়   

 প্রতিটি দলে ১১ জন খেলোয়াড় থাকা উচিত। ১১ জনের মধ্যে একজন অবশ্যই গোলকিপার হতে হবে। একটি দলকে পূর্ণ মনে করতে হলে কমপক্ষে সাতজন খেলোয়াড় থাকতে হবে। খেলোয়াড়দের তাদের পা বা দেহ দিয়ে বল আঘাত করতে হবে। গোলরক্ষক ছাড়া অন্যান্য খেলোয়াড়দের বল স্পর্শ করার জন্য হাত বা বাহু ব্যবহার করার অনুমতি নেই। 

আইন ৪: খেলোয়াড়দের সরঞ্জাম  

প্রত্যেক খেলোয়াড়কে নিয়ম অনুযায়ী একটি জার্সি, হাফপ্যান্ট, মোজা, জুতো এবং সঠিক শিন সুরক্ষা পরতে হবে। খেলোয়াড়দের এমন কোনো পোশাক অথবা অন্য কোনো ধরণের সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাবেনা যা অন্য খেলোয়াড়ের আগাতের কারণ হয়। এতে ভিন্ন রঙের পোশাক হবে  শুধু গোলরক্ষককের।

আইন ৫: রেফারি   

 একজন রেফারি (Football) ফুটবল খেলা পরিচালনা করেন। তাদের নেতৃত্বে সব বিষয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাদের কাছে একজন খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, ফাউলের কারণে ম্যাচ বন্ধ করতে পারেন এবং খেলার সঠিক পরিচালনার জন্য দায়িত্বশীল হন। 

আইন ৬: অন্যান্য ম্যাচ কর্মকর্তারা   

 একজন সহকারী রেফারি খেলার নিয়ম মানতে রেফারিকে সাহায্য করেন। সহকারী রেফারিরা মাঠের উভয় পাশে থাকেন এবং অপরাধ সংঘটনে দৃষ্টি রাখতে পারেন। 

আইন ৭: ম্যাচের সময়কাল   

 একটি সাধারণ (Football) ফুটবল ম্যাচের খেলার সময় ৯০ মিনিট, যা দুটি ৪৫ মিনিটের অর্ধে বিভক্ত। দুই অর্ধের মধ্যে ১৫ মিনিটের হাফটাইম বিরতি থাকে। পূর্ণ সময়ের খেলার শেষ চিহ্নিত করে। অর্থাৎ, ৪৫ মিনিট খেলা + ১৫ মিনিট বিরতি + ৪৫ মিনিট খেলা। 

আইন ৮: খেলার শুরু এবং পুনঃসূচনা    

 প্রতিটি (Football) ফুটবল খেলা শুরু হয় টসের মাধ্যমে। দুই দলের অধিনায়ক মাঠের মাঝখানে রেফারির সঙ্গে দেখা করে। টসের বিজয়ী দলের অধিনায়ক প্রথমার্ধে কোন গোলপোস্টে অনুশীলন করবেন তা বেছে নেয়। তখন টস পরাজিত অধিনায়ক বেছে নেয় বিপরীত পছন্দ। দ্বিতীয়ার্ধে, দলদুটি বিপরীত গোলপোস্ট নিয়ে আবারও খেলা শুরু করে। 

আইন ৯: খেলার মধ্যে এবং বাইরে বল   

 খেলার সময় বল এবং খেলার বাইরে বল হলো একটি (Football) ফুটবল খেলার প্রধান দুটি স্তর। বলটি খেলার শুরু থেকে শেষ সময়কাল পর্যন্ত একটি কিক-অফের মাধ্যমে খেলায় বলা হয়। খুব কম ক্ষেত্রেই বল খেলার মাঠের বাইরে যায় বা রেফারি খেলা বন্ধ করে দেয়। 

আইন ১০: একটি ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করা  

(Football) ফুটবলের মূল উদ্দেশ্য হল লাথি মেরে বা পাস দিয়ে গোল করা। একটি গোলকে গোল হিসেবে ধরা হয়, যখন গোলপোস্ট বা ক্রসবারের লাইন বলটি অতিক্রম করে এবং গোল করা দলের কোনো উপরাধ ছাড়াই।

আইন ১১: অফসাইড  

যখন একজন  খেলোয়াড় বল ছোড়া বা কিক সময় ওই দলের খেলোয়াড় বল ছাড়াই প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষকের সামনে থাকে তাহলে এটাকে  অফসাইড বলা ধরা হয়।

আইন ১২: ফাউল এবং অসদাচরণ  

একজন খেলোয়াড় যখন খেলার নিয়ম ভঙ্গ করে এবং উপর খেলোয়াড়ের খেলাকে ব্যাহত করে তখন এটাকে ফাউল হিসাবে গণ্য হয়। এই শাস্তি হিসাবে প্রতিপক্ষ দলকে ফ্রি কিক দেওয়া হয়। রেফারি শাস্তিমূলক পরিণতি হওয়া কাজকে তা অসদাচরণ বলে গণ্য হয়। এই কাজ যে খেলোয়াড়ই করে তাকে মাঠ ছাড়তে হবে আর না হয় কম শাস্তি হিসাবে তাকে সতর্ক করা হবে। যাকে মাঠ ছাড়তে হয় ওই খেলোয়াড়কে প্রতিস্থাপন করা যাবে না।

আইন ১৩: ফ্রি কিক

এগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

পরোক্ষ ফ্রি কিক: এগুলি “নন-পেনাল” ফাউলের পর প্রতিপক্ষকে দেওয়া হয়, অথবা যখন কোনও নির্দিষ্ট ফাউল না ঘটিয়ে প্রতিপক্ষকে সতর্ক বা বের করতে খেলা থামানো হয়। এর ফলে গোল হতে পারে বা নাও হতে পারে।

প্রত্যক্ষ বা সরাসরি ফ্রি কিক: একটি দল পরোক্ষ ফ্রি কিক পাওয়ার পর পুনরায় ফাউল করা দলের জন্য এগুলি দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে একটি গোল সরাসরি করা যেতে পারে।

আইন ১৪: পেনাল্টি কিক

ফাউলের পর ক্ষতিগ্রস্ত দলের জন্য পেনাল্টি কিক দেওয়া হয় যা সাধারণত সরাসরি ফ্রি কিকের ফল হিসেবে হয় কিন্তু এটি প্রতিপক্ষের পেনাল্টি এলাকার মধ্যে ঘটে।

আইন ১৫: থ্রো-ইন

বল খেলার মাঠ ছেড়ে যাওয়ার পর একটি থ্রো-ইন দেওয়া হয়। যে খেলোয়াড় শেষবার বল স্পর্শ করেছে তার প্রতিপক্ষ একটি থ্রো-ইন পায়।

আইন ১৬: গোল কিক

এগুলি দেওয়া হয় যখন পুরো বলটি গোল লাইন অতিক্রম করে, মাটিতে বা বাতাসে, আক্রমণকারী দলের একজন সদস্যের শেষবার স্পর্শ করার পর এবং গোল হয়নি। বলটি গোলরক্ষক দ্বারা একটি গোল কিক দেওয়া হয়।

আইন ১৭: কর্নার কিক

একটি কর্নার কিক দেওয়া হয় যখন পুরো বল গোল লাইন অতিক্রম করে, মাটিতে অথবা বাতাসে, শেষবার একজন ডিফেন্ডারকে স্পর্শ করার পরেও কোন গোল হয় না। সরাসরি কর্নার কিক থেকে গোল করতে পারে শুধুমাত্র বিপরীত পক্ষ।

কোচ

একজন কোচের স্তর এবং দেশভেদে তার ভূমিকা ও দায়িত্ব ভিন্ন হতে পারে। খেলোয়াড়দের উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদের দক্ষতার উন্নতি ঘটানো হচ্ছে একজন যুব (Football) ফুটবলে কোচের প্রধান ভূমিকা। যা প্রাধান্য দেয়া হয়  সুন্দর ও প্রাণবন্ত খালাকে তার  শারীরিক বা কৌশলগত উন্নতির তুলনায়।[৯]  সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশের ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলো তাদের প্রশিক্ষণের ছকে এই বিষয়ক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কোচদের খেলোয়াড়দের উন্নয়ন এবং বিজয়ের জন্য আনন্দ উপভোগের জন্য প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলেছে।[১০]

ঘরোয়া প্রতিযোগিতা

প্রত্যেক দেশের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা প্রতি মৌসুমে ঘরোয়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সাধারণত এতে কয়েকটি বিভাগ থাকে এবং দলগুলো পুরো মৌসুম জুড়ে খেলার ফলাফলের ভিত্তিতে পয়েন্ট অর্জন করে। দলগুলোরকে একটি তালিকায় তাদের অর্জিত পয়েন্টের ক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, দলগুলো প্রতি মৌসুমে তাদের লীগের অন্যান্য সব দলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠে ম্যাচ খেলে। মৌসুমের শেষে শীর্ষ দলটিকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।

শীর্ষ কয়েকটি দল পরবর্তী বিভাগে খেলতে পারে। অনুরূপভাবে, পয়েন্ট তালিকার নিচে মৌসুম শেষ করা কিছু দল নিচের বিভাগে অবনমিত হয়। শীর্ষ এক বা একাধিক দল পরবর্তী মৌসুমে আন্তর্জাতিক ক্লাব প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পেতে পারে। এই নিয়মের প্রধান ব্যতিক্রম কিছু লাতিন আমেরিকার লীগের মধ্যে দেখা যায়। বেশিরভাগ দেশে লীগ ব্যবস্থার সঙ্গে এক বা একাধিক “কাপ” প্রতিযোগিতা যুক্ত থাকে।

কিছু দেশের শীর্ষ বিভাগে বড় পারিশ্রমিকে তারকা খেলোয়াড়েরা খেলেন। কিছু দেশে এবং নিচু বিভাগের খেলোয়াড়েরা অ-পেশাদার এবং মৌসুমভিত্তিক থাকতে পারে। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লীগ হল – প্রিমিয়ার লীগ (ইংল্যান্ড), লা লিগা (স্পেন), সিরি এ (ইতালি), বুন্দেসলিগা (জার্মানি) এবং লিগ ১ (ফ্রান্স)। এই লীগগুলো পৃথিবীর বেশিরভাগ শীর্ষ খেলোয়াড়কে আকর্ষণ করে এবং এদের প্রত্যেকটির জন্য খরচ হয় ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ড-স্টার্লিং বা ৭৬৩ মিলিয়ন ইউরো বা ১. ১৮৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

রেফারী

Football – ফুটবল খেলার রেফারী

একজন রেফারী দ্বারা ফুটবল খেলা পরিচালিত হয়। তিনি খেলায় মূল কর্তৃপক্ষ হিসেবে আইন-কানুন প্রয়োগ করেন। দুইজন সহকারী রেফারী বা লাইন্সম্যান এবং মাঝে মাঝে চতুর্থ রেফারী তাকে খেলায় সহায়তা করেন। তবে ইউইএফএ (Football) ফুটবল প্রতিযোগিতায় ৬জন রেফারী অংশগ্রহণ করে। দুইজন গোলপোস্টের বাইরে থেকে বলের অবস্থান চিহ্নিত করেন যে এটি গোললাইন অতিক্রম করেছে কি না (এদেরকে গোললাইন রেফারীও বলা হয়)।

খেলা নির্দিষ্ট সময়ে সমাপন অথবা অতিরিক্ত সময় যোগ করা তার দায়িত্ব। মাঠে অবস্থানকালে সকল খুঁটিনাটি বিষয় যাচাই করে খেলোয়াড়ের সংখ্যা, অতিরিক্ত খেলোয়াড়ের সংশ্লিষ্টতা ও অন্যান্য ঘটনা নোটবুকে লিপিবদ্ধ করেন এবং খেলাসেষে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেন। এছাড়াও, খেলোয়াড়ের আহত হওয়া এবং এর গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন। মাঠে তিনি কোনো খেলোয়াড়, এমনকি দলীয় কোচকে হলুদ অথবা লাল কার্ডের মাধ্যমে যথাক্রমে সতর্কীকরণ, শাস্তি কিংবা বহিষ্কার করতে পারেন।

বিশ্বব্যাপী (Football) ফুটবল খেলার মানোন্নয়নে শীর্ষ সংগঠন ফিফা ১৭টি আইনের কথা বলেছেন। এর মধ্যে ৫নং ধারায় খেলা পরিচালনার জন্য রেফারী এবং সহকারী রেফারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য আলোচনা করা হয়েছে।

সঠিকভাবে খেলা পরিচালনার জন্য প্রতিযোগিতা কর্তৃপক্ষ চাইলে রেফারীদের প্যানেল তৈরি করতে পারেন। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল (Football) আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষ ম্যাচ রেফারীকে সাহায্য করার জন্য ৫ম বিচারকের ব্যবস্থা রেখেছিল।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments