Bayern Munich FC জার্মানির অন্যতম পরিচিত ও সফল ফুটবল ক্লাব। ক্লাবটির সরকারি নাম Fußball-Club Bayern München e. V.। তবে ফুটবল বিশ্বে এটি Bayern Munich, Bayern München, FC Bayern বা FCB নামেই বেশি পরিচিত। মিউনিখ থেকেই Bayern-এর পথচলা শুরু। পরে এই ক্লাব শুধু শহরেই নয়, পুরো বাভারিয়া অঞ্চলের ফুটবলের অন্যতম পরিচিত নাম হয়ে ওঠে।
Bayern Munich বর্তমানে জার্মানির সর্বোচ্চ স্তরের ফুটবল লিগ Bundesliga-তে খেলে। ২০০৫–০৬ মৌসুম থেকে ক্লাবটির হোম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে Allianz Arena-তে। এর আগে ৩৩ বছর মিউনিখের Olympiastadion ছিল Bayern-এর ঘরের মাঠ। Allianz Arena-তে Bayern-এর ম্যাচ দেখার জন্য ৭৫,০২৪ জন দর্শকের জায়গা রয়েছে।
Bayern-এর পরিচয়ের সঙ্গে লাল ও সাদা রং দীর্ঘদিন ধরেই জড়িয়ে আছে। ক্লাবের জার্সি ও পতাকায় এই রঙের ব্যবহার দেখা যায়। অন্যদিকে ক্লাবের ক্রেস্টে বাভারিয়ার সাদা-নীল নকশা রয়েছে। Bayern-এর পরিচিত ডাকনামের মধ্যে রয়েছে Die Bayern, Stern des Südens, Die Roten এবং FC Hollywood। “Stern des Südens” এর অর্থ দক্ষিণের তারকা, আর “Die Roten” নামটি দলের লাল রঙের সঙ্গে সম্পর্কিত।
১৯০০ সালে Bayern Munich-এর জন্ম
Bayern Munich-এর ইতিহাস শুরু হয় ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯০০ সালে। সেই সময় মিউনিখে MTV 1879 নামে একটি জিমন্যাস্টিকস ক্লাব ছিল। সেখানে কিছু সদস্য ফুটবল খেলতেন। কিন্তু ফুটবল বিভাগের খেলোয়াড়দের জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে যোগ দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।
ফুটবলপ্রেমী ১১ জন সদস্য তখন MTV 1879 থেকে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন Franz John। ওই দিনই তারা নতুন একটি ফুটবল ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। ক্লাবটির নাম রাখা হয় Fußball-Club Bayern München।
তখন Bayern ছিল ছোট একটি দল। বড় কোনো মাঠ বা ট্রফি—কোনোটাই তাদের ছিল না। মিউনিখের স্থানীয় ম্যাচ খেলতে খেলতেই দলটি মানুষের নজরে আসতে শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই Bayern স্থানীয় ফুটবলে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে শুরু করে। এক ম্যাচে Nordstern-এর বিপক্ষে তারা ১৫–০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। ১৯০০–০১ সালের South German Championship-এও দলটি সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল।
PSG FC — সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ক্লাবের নাম | Bayern Munich FC |
| পূর্ণ নাম | Fußball-Club Bayern München |
| প্রতিষ্ঠা | ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯০০ |
| প্রতিষ্ঠাতা | Franz John ও ১১ জন সদস্য |
| দেশ | জার্মানি |
| শহর | মিউনিখ, Bavaria |
| স্টেডিয়াম | Allianz Arena |
| স্টেডিয়াম ধারণক্ষমতা | ৭৫,০২৪ |
| President | Herbert Hainer |
| CEO | Jan-Christian Dreesen |
| Head Coach | Vincent Kompany |
| প্রধান রং | লাল ও সাদা |
| প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী | Borussia Dortmund |
| Bundesliga শিরোপা | ৩৪টি |
| DFB-Pokal | ২১টি |
| Champions League/European Cup | ৬টি |
| ২০২৪–২৫ Bundesliga | চ্যাম্পিয়ন |
| ২০২৫–২৬ Bundesliga | চ্যাম্পিয়ন |
| ২০২৫–২৬ DFB-Pokal | চ্যাম্পিয়ন |
| ২০২৫–২৬ Domestic Double | অর্জন করেছে |
| Harry Kane (২০২৫–২৬) | ৬১ গোল |
| European Golden Shoe | Harry Kane |
| ক্লাবের পরিচিত ডাকনাম | Die Bayern, Die Roten, FC Hollywood |
প্রথম দিকের সাফল্য
Bayern-এর প্রথম কয়েকটি বছর কেটেছে স্থানীয় ও আঞ্চলিক ফুটবলে নিজেদের শক্তি তৈরি করার মধ্য দিয়ে। ১৯১০–১১ মৌসুমে দলটি নতুন গঠিত Kreisliga-তে যোগ দেয় এবং প্রথম মৌসুমেই শিরোপা জিতে নেয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির অন্যান্য ক্রীড়া কার্যক্রমের মতো ফুটবলও সমস্যার মুখে পড়ে। Bayern-এর স্বাভাবিক কার্যক্রমও এতে বাধাগ্রস্ত হয়। যুদ্ধের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে Bayern আবার মাঠে ফেরে এবং নতুন করে দল গুছাতে শুরু করে।
Max Gablonsky ছিলেন সেই সময়ের Bayern-এর পরিচিত খেলোয়াড়দের একজন। জার্মান জাতীয় দলের হয়েও তিনি খেলেছিলেন। Bayern-এর প্রথম দিকের যেসব খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান, Gablonsky তাদের মধ্যে ছিলেন। ১৯২০ সালের মধ্যে ক্লাবটির সদস্যসংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়ে যায়। এর ফলে মিউনিখের ফুটবলে Bayern-এর অবস্থান আরও শক্ত হয়।
১৯২৬ ও ১৯২৮ সালের আঞ্চলিক শিরোপা
১৯২০-এর দশকে Bayern Munich আঞ্চলিক ফুটবলে আরও ভালো করতে শুরু করে। ১৯২৬ সালে তারা South German Championship জেতে। দুই বছর পর ১৯২৮ সালেও একই শিরোপা নিজেদের করে নেয়।
১৯২৬ ও ১৯২৮ সালের এই দুই সাফল্য Bayern-কে আরও পরিচিত করে তোলে। ক্লাবের সদস্য বাড়ছিল, মাঠের ফলও ভালো হচ্ছিল। জার্মান ফুটবলের বড় মঞ্চে যাওয়ার পথটা তখনই তৈরি হতে থাকে।
১৯৩২ সালে প্রথম German Championship
Bayern Munich-এর ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুরুর সাফল্য আসে ১৯৩২ সালে। ওই বছর দলটি প্রথমবারের মতো জার্মান জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে।
দলের কোচ ছিলেন Richard “Little Dombi” Kohn। তাঁর অধীনে Bayern জাতীয় পর্যায়ে শিরোপার জন্য শক্তভাবে লড়াই করে। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল Eintracht Frankfurt। ম্যাচে জয় পেয়ে Bayern প্রথমবার German Championship নিজেদের করে নেয়।
১৯০০ সালে প্রতিষ্ঠার ৩২ বছর পর Bayern প্রথমবার জার্মানির জাতীয় শিরোপা জেতে। এই জয়ের পর Bayern আর শুধু মিউনিখের দল থাকল না। পুরো জার্মানিতেই তাদের নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
নাৎসি যুগ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কঠিন সময়
১৯৩২ সালের সাফল্যের পর Bayern-এর সামনে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জার্মানিতে নাৎসি শাসন প্রতিষ্ঠার পর ক্লাবটির পথ কঠিন হয়ে যায়।
তৎকালীন সভাপতি Kurt Landauer Bayern-এর ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। নাৎসি শাসনের সময় তাঁকে পদ ছাড়তে হয় এবং পরে জার্মানি ছেড়ে যেতে হয়। রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের কারণে Bayern-এর আগের সাফল্যের ধারাও বাধাগ্রস্ত হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির ফুটবল ব্যবস্থাও বড় সমস্যায় পড়ে। নিয়মিত প্রতিযোগিতা চালানো কঠিন হয়ে যায়। Bayern-এর স্বাভাবিক কার্যক্রমও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যুদ্ধের পর ঘুরে দাঁড়ানো
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর Bayern Munich-কে আবার নতুন করে নিজেদের গড়ে তুলতে হয়। পুরনো সাফল্য তখন অনেকটা দূরের বিষয়। দলকে সংগঠিত করা, নতুন খেলোয়াড় তৈরি করা এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান তৈরি করাই ছিল মূল লক্ষ্য।
তবে ১৯৫০-এর দশক Bayern-এর জন্য খুব সহজ ছিল না। ১৯৫৫ সালে দলটি জার্মান ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরে নেমে যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় সেখানে থাকতে হয়নি। পরের মৌসুমেই Bayern আবার শীর্ষ পর্যায়ে ফিরে আসে।
এরপর ১৯৫৭ সালে Bayern প্রথমবারের মতো DFB-Pokal জেতে। এই সাফল্য দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং জাতীয় পর্যায়ে আবারও নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দেয়।
Bundesliga ও নতুন যুগের শুরু
১৯৫০-এর দশকে Bayern আর্থিক সমস্যার মধ্যেও পড়েছিল। ক্লাবকে সংগঠন ও অর্থনৈতিক দিক থেকে আরও শক্ত করার প্রয়োজন ছিল। Roland Endler এবং পরবর্তীতে Wilhelm Neudecker-এর নেতৃত্বে Bayern ধীরে ধীরে পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যায়।
১৯৬৩ সালে Bundesliga শুরু হলেও Bayern প্রথম মৌসুমে সেখানে জায়গা পায়নি। বিষয়টি ক্লাবটির জন্য হতাশার ছিল। তবে Bundesliga-তে সুযোগ না পাওয়ার হতাশা থেকেই Bayern আরও ভালো দল বানানোর দিকে মন দেয়।
এই সময় সামনে আসেন তিনজন অসাধারণ খেলোয়াড়—Franz Beckenbauer, Gerd Müller এবং Sepp Maier। Beckenbauer ছিলেন বুদ্ধিমান ও বল পায়ে দক্ষ ডিফেন্ডার। Gerd Müller ছিলেন দুর্দান্ত গোলস্কোরার। আর গোলপোস্টের নিচে Sepp Maier Bayern-কে দিতেন বাড়তি নিরাপত্তা।
অবশেষে ১৯৬৫ সালে Bayern Munich Bundesliga-তে জায়গা করে নেয়। ১৯০০ সালে ১১ জনের হাত ধরে শুরু হওয়া ক্লাবটি এবার জার্মান ফুটবলের নতুন জাতীয় লিগে প্রবেশ করে। Beckenbauer, Müller ও Maier-কে সামনে রেখে শুরু হয় Bayern-এর এমন এক নতুন অধ্যায়, যা পরবর্তীতে ক্লাবটির ইতিহাসকে আরও বড় সাফল্যের দিকে নিয়ে যায়।
Bayern Munich-এর Golden Era: Beckenbauer, Müller ও ইউরোপ জয়
Bayern Munich-এর ইতিহাসে ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশক ছিল পরিবর্তনের সময়। ১৯৬৫ সালে Bundesliga-তে ওঠার পর Bayern-এর সাফল্য যেন নতুন গতি পায়। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা জার্মানির বড় দলগুলোর একটি হয়ে ওঠে। Franz Beckenbauer, Gerd Müller, Sepp Maier, Paul Breitner ও Uli Hoeneß-এর মতো খেলোয়াড়রা এই দলের মূল শক্তি ছিলেন। তাদের সঙ্গে দক্ষ কোচদের কাজ Bayern-কে ঘরোয়া ফুটবলের পাশাপাশি ইউরোপের বড় দল হিসেবেও পরিচিত করে তোলে।
এই সময় Bayern প্রথম Bundesliga শিরোপা জেতে এবং ইউরোপের বড় ট্রফিও নিজেদের ঘরে তোলে। সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে, যখন তারা টানা তিনবার European Cup জয়ের কীর্তি গড়ে।
Bundesliga-তে প্রথম সাফল্য
১৯৬৫–৬৬ মৌসুম ছিল Bayern Munich-এর প্রথম Bundesliga মৌসুম। নতুন লিগে খেলেই দলটি তৃতীয় স্থান অর্জন করে। একই মৌসুমে তারা DFB-Pokal জিতে নেয়। অর্থাৎ Bundesliga-তে প্রথম বছরেই Bayern একটি বড় ট্রফি জিতে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়।
এই কাপ জয় Bayern-কে ইউরোপীয় ফুটবলে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। এরপর ক্লাবটির লক্ষ্য শুধু জার্মান ফুটবলে ভালো করা ছিল না, ইউরোপেও নিজেদের পরিচিত করা।
১৯৬৭ সালে প্রথম ইউরোপীয় ট্রফি
১৯৬৬–৬৭ মৌসুমে Bayern European Cup Winners’ Cup-এ অংশ নেয়। একের পর এক ম্যাচ জিতে তারা ফাইনালে ওঠে। ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল Rangers।
নির্ধারিত সময়ে দুই দল গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেই Franz Roth-এর গোল Bayern-কে ১–০ ব্যবধানে জয় এনে দেয়।
এটাই ছিল Bayern Munich-এর প্রথম ইউরোপীয় ট্রফি। Rangers-এর বিপক্ষে ওই জয় ছিল Bayern-এর প্রথম ইউরোপীয় ট্রফি। এরপর ইউরোপের প্রতিযোগিতাতেও Bayern-কে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে শুরু করে অন্য দলগুলো।
Branko Zebec-এর অধীনে ঘরোয়া আধিপত্য
১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে Bayern-এর দায়িত্ব নেন Branko Zebec। তাঁর অধীনে দল আরও সংগঠিত হয়ে ওঠে। আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণেও গুরুত্ব বাড়ে।
১৯৬৮–৬৯ মৌসুমে Bayern Bundesliga ও DFB-Pokal—দুই ট্রফিই জিতে নেয়। এটি ছিল Bundesliga ইতিহাসের প্রথম Domestic Double। সেই মৌসুমে Zebec মাত্র ১৩ জন খেলোয়াড়ের ওপর অনেকটাই নির্ভর করেছিলেন।
ঘরোয়া ফুটবলে Bayern তখন নিয়মিত সাফল্য পাচ্ছিল। এবার তাদের চোখ ছিল ইউরোপের দিকে।
Udo Lattek ও নতুন সাফল্য
১৯৭০ সালে Bayern-এর কোচ হন Udo Lattek। তাঁর অধীনে Bayern-এর Golden Era আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। প্রথম মৌসুমেই DFB-Pokal জয়ের পর ১৯৭১–৭২ মৌসুমে Bayern আবার Bundesliga চ্যাম্পিয়ন হয়।
Schalke 04-এর বিপক্ষে ৫–১ ব্যবধানে জিতে Bayern সেই মৌসুমের শিরোপা নিশ্চিত করে। ম্যাচটি হয়েছিল নতুন Olympiastadion-এ এবং এটি ছিল Bundesliga ইতিহাসে প্রথম সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ম্যাচ।
এরপর ১৯৭২, ১৯৭৩ ও ১৯৭৪—টানা তিন মৌসুম Bundesliga শিরোপা জেতে Bayern। এই সময় দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন Beckenbauer, Müller ও Maier। তাদের পাশে Breitner ও Hoeneß-এর মতো খেলোয়াড়রাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৯৭৪: প্রথম European Cup
ঘরোয়া ফুটবলে সাফল্যের পর ১৯৭৪ সালে Bayern European Cup-এর ফাইনালে ওঠে। প্রতিপক্ষ ছিল Atlético Madrid।
নির্ধারিত সময়ের ম্যাচ সমতায় শেষ হওয়ার পর লড়াই গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। পরে দুই দল আবার মুখোমুখি হয় এবং Bayern দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৪–০ ব্যবধানে জয় পায়।
এর ফলে Bayern প্রথমবার European Cup জিতে নেয়। এই ট্রফি তাদের ইউরোপের বড় দলগুলোর কাতারে নিয়ে যায়।
১৯৭৫: দ্বিতীয় European Cup
এক বছর পর আবারও European Cup-এর ফাইনালে ওঠে Bayern। এবার প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ডের Leeds United।
ফাইনালে Bayern-কে কঠিন লড়াই করতে হয়। তবে শেষ দিকে Franz Roth ও Gerd Müller-এর গোল দলটিকে জয় এনে দেয়। Bayern আবার European Cup জিতে নেয়।
একটি European Cup জেতার পর পরের বছরও ট্রফি ধরে রাখা ছিল বড় অর্জন। কিন্তু Bayern তখন আরও বড় ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।
১৯৭৬: টানা তৃতীয় European Cup
১৯৭৬ সালের ফাইনালে Bayern-এর প্রতিপক্ষ ছিল ফ্রান্সের Saint-Étienne। ম্যাচটি ছিল বেশ কঠিন। দুই দলের লড়াইয়ে খুব বেশি গোলের সুযোগ তৈরি হয়নি।
শেষ পর্যন্ত Franz Roth-এর একটি গোল Bayern-কে জয় এনে দেয়। এই জয়ের মাধ্যমে Bayern টানা তৃতীয়বার European Cup জিতে নেয়।
টানা তিন বছর European Cup জেতা Bayern-এর জন্য ছিল অসাধারণ অর্জন। ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৬—এই তিন মৌসুমেই তারা ইউরোপের সেরা ট্রফিটি নিজেদের কাছে রাখে।
Golden Era-এর বড় তারকারা
এই সাফল্যের পেছনে ছিলেন কয়েকজন অসাধারণ খেলোয়াড়। Franz Beckenbauer ছিলেন দলের নেতা। রক্ষণভাগ থেকে তিনি পুরো খেলা নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং বল নিয়ে সামনে উঠে আক্রমণেও অংশ নিতেন।
Gerd Müller ছিলেন Bayern-এর প্রধান গোলদাতা। গোল করার অসাধারণ দক্ষতার কারণে তিনি দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের একজন হয়ে ওঠেন।
গোলপোস্টের নিচে Sepp Maier ছিলেন দলের ভরসা। বড় ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স Bayern-এর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
Paul Breitner রক্ষণ ও আক্রমণ—দুই জায়গাতেই কার্যকর ছিলেন। Uli Hoeneß আক্রমণে গতি ও শক্তি যোগ করতেন। এছাড়া Franz Roth, Hans-Georg Schwarzenbeck, Johnny Hansen, Rainer Zobel, Conny Torstensson ও Jupp Kapellmann-এর মতো খেলোয়াড়রাও এই দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এই সময়ের সাফল্য শুধু Beckenbauer, Müller বা Maier-এর কারণে আসেনি। দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ই নিজের জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।
১৯৭৬: Intercontinental Cup
European Cup জয়ের পর Bayern ১৯৭৬ সালে Intercontinental Cup-এ ব্রাজিলের Cruzeiro-এর মুখোমুখি হয়। দুই লেগের লড়াইয়ে Bayern জয় পায় এবং ট্রফিটি নিজেদের করে নেয়।
এই সাফল্যের মাধ্যমে Golden Era আরও পূর্ণতা পায়। ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত টানা তিনটি European Cup এবং ১৯৭৬ সালের Intercontinental Cup Bayern-এর ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নেয়।
Golden Era-এর শেষ
১৯৭৬ সালের পর Bayern-এর সেই বিখ্যাত দল ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। ১৯৭৭ সালে Franz Beckenbauer Bayern ছেড়ে New York Cosmos-এ যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে Sepp Maier ও Uli Hoeneß অবসর নেন। একই সময় Gerd Müller যুক্তরাষ্ট্রের Fort Lauderdale Strikers-এ চলে যান।
এরপর একে একে দলের পরিচিত মুখগুলো বিদায় নিতে থাকেন। Beckenbauer, Müller ও Maier চলে যাওয়ার সঙ্গে Bayern-এর সেই বিখ্যাত দলটিও ভেঙে যায়। তবে তাদের সময়ের সাফল্য ক্লাবের ইতিহাসে থেকে যায়।
১৯৬৫ সালে Bundesliga-তে প্রবেশ থেকে ১৯৭৬ সালের Intercontinental Cup জয় পর্যন্ত Bayern-এর পথচলায় ছিল ঘরোয়া Double, ইউরোপীয় ট্রফি এবং টানা তিনটি European Cup। আর এই পুরো সময়ের সবচেয়ে বড় মুখ ছিলেন Franz Beckenbauer, Gerd Müller ও Sepp Maier। তাদের সঙ্গে Paul Breitner, Uli Hoeneß এবং অন্য সতীর্থদের অবদান Bayern Munich-কে ইউরোপের ফুটবলে একটি শক্তিশালী নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
১৯৮০–২০০১: Bayern Munich-এর ঘরোয়া আধিপত্য থেকে Champions League প্রত্যাবর্তন
১৯৭০-এর দশকে Bayern Munich-এর সাফল্যের বড় তারকারা একে একে ক্লাব ছাড়ার পর অনেকের মনে প্রশ্ন ছিল, দলটি কি আবার আগের মতো শক্তিশালী হতে পারবে? Franz Beckenbauer, Gerd Müller ও Sepp Maier-এর মতো কিংবদন্তিদের বিদায়ের পরও Bayern বেশিদিন পিছিয়ে থাকেনি। ১৯৮০-এর দশকের শুরুতেই নতুন তারকাদের নিয়ে তারা আবার জার্মান ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে।
এই সময় Paul Breitner ও Karl-Heinz Rummenigge ছিলেন Bayern-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড়। তাদের ঘিরে তৈরি হয় “FC Breitnigge” নামে পরিচিত এক সময়। এই জুটি সামনে রেখে Bayern ১৯৮০ ও ১৯৮১ সালে টানা দুইবার Bundesliga জেতে। পুরনো তারকারা চলে গেলেও Bayern থেমে থাকেনি। নতুন খেলোয়াড়দের নিয়েই তারা আবার সাফল্যের পথে ফিরে আসে।
১৯৮২: DFB-Pokal জয়, কিন্তু European Cup-এ হতাশা
১৯৮১–৮২ মৌসুমে Bayern DFB-Pokal জেতে। ঘরোয়া ফুটবলে সাফল্য থাকলেও ইউরোপে তখনও বড় ট্রফি অধরা ছিল। সেই মৌসুমে Bayern European Cup-এর ফাইনালে ওঠে। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল Aston Villa।
ম্যাচে Bayern গোল করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত Aston Villa ১–০ ব্যবধানে জিতে ট্রফি নিয়ে যায়। ফলে ঘরোয়া সাফল্যের পরও ইউরোপের বড় ট্রফি Bayern-এর হাতে আসেনি। এরপর Paul Breitner অবসর নিলে দলকে আবার নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজন দেখা দেয়।
এরপর Bayern-এর কোচ হিসেবে আবার ফিরে আসেন Udo Lattek। তাঁর অধীনে দল ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায়। ১৯৮৪ সালে Bayern DFB-Pokal জেতে। এরপর Bundesliga-তেও তারা নিজেদের শক্তি আরও বাড়াতে থাকে।
মাত্র ছয় মৌসুমের মধ্যে Bayern পাঁচবার Bundesliga জেতে। ১৯৮৬ সালে তারা Bundesliga-এর পাশাপাশি DFB-Pokal জিতে Double সম্পন্ন করে। ঘরোয়া ফুটবলে এমন ধারাবাহিক সাফল্য Bayern-কে আবার জার্মানির সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর একটিতে পরিণত করে।
১৯৮৭: European Cup Final-এ আবারও হার
১৯৮৭ সালে Bayern আবার European Cup Final-এ ওঠে। এবার তাদের প্রতিপক্ষ ছিল FC Porto। Bayern ম্যাচে শুরুতেই ১–০ গোলে এগিয়ে যায়। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে Porto দ্রুত দুই গোল করে ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়।
শেষ পর্যন্ত Bayern ২–১ ব্যবধানে হেরে যায়। ১৯৮২ ও ১৯৮৭ সালে ফাইনালে উঠেও Bayern ট্রফি জিততে পারেনি। ঘরোয়া ফুটবলে তারা সফল হলেও ইউরোপের ফাইনালে গিয়ে বারবার হতাশ হতে হচ্ছিল।
১৯৮৯–৯০: Heynckes-এর অধীনে Bundesliga জয়
১৯৮৭ সালে Jupp Heynckes Bayern-এর কোচ হন। তাঁর অধীনে দল আবার Bundesliga-এর শিরোপা জয়ের পথে ফিরে আসে। ১৯৮৮–৮৯ মৌসুমে Bayern Bundesliga জেতে। পরের মৌসুমেও তারা শিরোপা ধরে রাখে।
অর্থাৎ ১৯৮৯ ও ১৯৯০ সালে টানা দুইবার Bundesliga জেতে Bayern। কিন্তু ১৯৯০-এর পর দলের অবস্থায় পরিবর্তন আসতে শুরু করে।
১৯৯০-এর দশকের কঠিন সময়
১৯৯০-এর দশকের শুরুটা Bayern-এর জন্য ভালো ছিল না। ১৯৯০–৯১ মৌসুমে তারা Bundesliga-তে দ্বিতীয় হয়। পরের মৌসুমে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। ১৯৯১–৯২ মৌসুমে Bayern relegation zone থেকে মাত্র পাঁচ পয়েন্ট ওপরে থেকে মৌসুম শেষ করে।
১৯৯৩–৯৪ মৌসুমে UEFA Cup-এও Bayern বড় ধাক্কা খায়। দ্বিতীয় রাউন্ডে ইংল্যান্ডের Norwich City-এর কাছে হেরে তারা বিদায় নেয়। Bayern-এর Olympiastadion-এ তাদের হারানো একমাত্র ইংলিশ ক্লাব হিসেবেও Norwich-এর এই জয় বিশেষভাবে মনে রাখা হয়।
পরিস্থিতি সামলাতে Bayern কোচিং স্টাফ ও দলে বেশ কিছু পরিবর্তন আনে। এর মধ্যেই Bayern-এর ইতিহাসের অন্যতম পরিচিত মুখ Franz Beckenbauer আবার দলের দায়িত্ব নেন। এবার তিনি খেলোয়াড় হিসেবে নয়, কোচ হিসেবে Bayern-কে নেতৃত্ব দেন। তাঁর অধীনে ১৯৯৪ সালে Bayern Bundesliga জেতে।
“FC Hollywood” এবং UEFA Cup জয়
১৯৯০-এর দশকে Bayern-এর কোচিংয়ে Giovanni Trapattoni ও Otto Rehhagel-এর মতো নাম দেখা যায়। একই সময়ে দলের ভেতরের নানা ঘটনা ও খেলোয়াড়দের মন্তব্য সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনায় আসত। কোচ ও খেলোয়াড়দের সম্পর্ক, দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং মাঠের বাইরের খবরের কারণে Bayern তখন “FC Hollywood” নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
তবে আলোচনার বাইরে মাঠেও Bayern সাফল্য পেতে শুরু করে। ১৯৯৫–৯৬ মৌসুমে তারা UEFA Cup Final-এ ওঠে। প্রতিপক্ষ ছিল Bordeaux। দুই লেগ মিলিয়ে Bayern ৫–১ ব্যবধানে জিতে UEFA Cup ট্রফি নিজেদের করে নেয়।
১৯৯৭ সালে Bayern আবার Bundesliga জেতে। তবে ১৯৯৮ সালে Kaiserslautern চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় Bayern দ্বিতীয় হয়। এর পরই ক্লাবের দায়িত্ব নেন Ottmar Hitzfeld। তাঁর আগমন Bayern-এর জন্য নতুন একটি অধ্যায়ের শুরু করে।
১৯৯৯: Champions League Final-এর বড় হতাশা
Hitzfeld-এর অধীনে Bayern ১৯৯৯ Champions League Final-এ ওঠে। Barcelona-র Camp Nou-তে Manchester United-এর বিপক্ষে ম্যাচের বেশিরভাগ সময় Bayern ১–০ গোলে এগিয়ে ছিল। মনে হচ্ছিল বহু বছর পর Champions League ট্রফি আবার মিউনিখে ফিরবে।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে সব বদলে যায়। Manchester United প্রথমে সমতা ফেরায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই দ্বিতীয় গোল করে। কয়েক মিনিটের মধ্যে ১–০ এগিয়ে থাকা Bayern ২–১ গোলে ম্যাচ হেরে যায়। এটি Bayern-এর ইতিহাসের সবচেয়ে কষ্টের ম্যাচগুলোর একটি হয়ে থাকে।
২০০০–২০০১: ঘরোয়া সাফল্য থেকে Champions League জয়
১৯৯৯–২০০০ মৌসুমে Bayern Bundesliga ও DFB-Pokal—দুই ট্রফিই জেতে। এটি ছিল ক্লাবের তৃতীয় Bundesliga ও DFB-Pokal Double। ১৯৯৯ সালের Champions League Final-এর হতাশার পর এই সাফল্য Bayern-কে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দেয়।
২০০০–০১ মৌসুমে Bayern আবার Bundesliga জেতে। শেষ পর্যন্ত ২৫ বছরের অপেক্ষার পর সেই ট্রফি আবার Bayern-এর ঘরে ফেরে। Champions League Final-এ Valencia-এর বিপক্ষে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ের পরও ম্যাচ সমতায় থাকে। ফলে penalty shootout-এ ম্যাচের সিদ্ধান্ত হয়।
Bayern penalty shootout-এ Valencia-কে হারিয়ে ২০০১ সালে Champions League জিতে নেয়। ১৯৭৬ সালের পর দীর্ঘ ২৫ বছর অপেক্ষার শেষে ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্লাব ট্রফি আবার Bayern-এর হাতে আসে।
এরপর ২০০১ সালের শেষ দিকে Bayern Intercontinental Cup-এ Boca Juniors-এর বিপক্ষেও জয় পায়। ফলে ২০০১ সালটি ক্লাবটির ইতিহাসে বিশেষ একটি বছর হয়ে ওঠে।
১৯৮০-এর FC Breitnigge যুগ, ১৯৯০-এর দশকের কঠিন সময়, “FC Hollywood” পরিচয় এবং ১৯৯৯ সালের হতাশা পেরিয়ে Bayern শেষ পর্যন্ত ২০০১ সালে আবার ইউরোপের সেরা ক্লাবের আসনে ফিরে আসে। এই Champions League জয়ই ছিল তাদের দীর্ঘ প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
২০০০–২০১৩: Allianz Arena, Robben-Ribéry ও Bayern-এর প্রথম Treble
২০০১ সালে Champions League জয়ের পর Bayern Munich ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর একটি হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে। এরপর ক্লাবের সামনে আসে পরিবর্তনের সময়। পুরোনো তারকারা ধীরে ধীরে বিদায় নেন, নতুন খেলোয়াড়রা দলে জায়গা করে নেন। একই সময়ে Bayern Olympiastadion ছেড়ে নতুন ঠিকানা Allianz Arena-তে যায়।
২০০২–০৩ মৌসুমে Bayern আবার Bundesliga ও DFB-Pokal জিতে Double করে। এরপর Felix Magath-এর অধীনে ২০০৫ ও ২০০৬ সালে টানা দুইবার Domestic Double আসে। এই সময় Michael Ballack, Bastian Schweinsteiger, Roy Makaay ও Oliver Kahn ছিলেন দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।
Allianz Arena-তে নতুন অধ্যায়
Bayern দীর্ঘদিন Olympiastadion-কে নিজেদের ঘরের মাঠ হিসেবে ব্যবহার করেছিল। কিন্তু আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন স্টেডিয়ামের প্রয়োজন ছিল। সেই প্রয়োজন থেকেই তৈরি হয় Allianz Arena।
২০০৫–০৬ মৌসুম থেকে Bayern নতুন স্টেডিয়ামে হোম ম্যাচ খেলা শুরু করে। লাল আলোয় সাজানো Allianz Arena খুব দ্রুত Bayern Munich-এর পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। Olympiastadion-এর দীর্ঘ অধ্যায় শেষ করে Bayern নতুন ঠিকানায় পা রাখে। Allianz Arena-তেই শুরু হয় ক্লাবটির আধুনিক সময়ের পথচলা।
তবে নতুন স্টেডিয়ামে যাওয়ার পর সবকিছু Bayern-এর পক্ষে যায়নি। ২০০৬–০৭ মৌসুমে Bundesliga-তে দল চতুর্থ হয়। ফলে Champions League-এ জায়গাও হারাতে হয়। এই ব্যর্থতার পর Felix Magath-এর অধ্যায় শেষ হয় এবং Bayern আবার Ottmar Hitzfeld-কে কোচ হিসেবে ফিরিয়ে আনে।
নতুন দল গঠনের শুরু
Hitzfeld-এর দ্বিতীয় মেয়াদে Bayern নতুনভাবে দল সাজাতে থাকে। ২০০৭–০৮ মৌসুমে Franck Ribéry, Miroslav Klose ও Luca Toni দলে যোগ দেন। Ribéry দ্রুতগতির ও দক্ষ উইঙ্গার হিসেবে দলের আক্রমণে নতুন শক্তি যোগ করেন। Klose ছিলেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার, আর Luca Toni বক্সের ভেতর গোল করার ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর ছিলেন।
নতুন খেলোয়াড়দের সঙ্গে পুরোনো তারকাদের সমন্বয়ে Bayern আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ২০০৭–০৮ মৌসুমে দল Bundesliga ও DFB-Pokal জিতে আবারও Double সম্পন্ন করে।
Oliver Kahn-এর বিদায়
Bayern-এর দীর্ঘদিনের অধিনায়ক Oliver Kahn ছিলেন ক্লাবের অন্যতম পরিচিত মুখ। ১৯৯৪ সালে Bayern-এ যোগ দেওয়ার পর তিনি বহু বছর দলের গোলপোস্ট সামলান। তাঁর নেতৃত্বে ক্লাব ঘরোয়া ও ইউরোপীয় ফুটবলে অনেক সাফল্য পায়।
২০০৮ সালে Kahn পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেন। তাঁর বিদায় Bayern-এর একটি বড় অধ্যায়ের শেষ ছিল। এত বছর ধরে দলের গোলপোস্ট সামলানো এই কিংবদন্তির জায়গা পূরণ করা সহজ ছিল না।
Klinsmann থেকে Van Gaal
Kahn-এর বিদায়ের পর Jürgen Klinsmann Bayern-এর কোচ হন। ২০০৮–০৯ মৌসুমে তিনি দলের দায়িত্ব নিলেও সময়টা খুব বেশি ভালো কাটেনি। Bundesliga-তে প্রত্যাশামতো ফল না পাওয়ায় তাঁর অধ্যায় দ্রুত শেষ হয়।
২০০৯ সালে Bayern-এর দায়িত্ব নেন Louis van Gaal। তাঁর সময়েই Bayern দলে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়। Thomas Müller প্রথম দলে নিজের জায়গা শক্ত করতে শুরু করেন। David Alaba-ও ধীরে ধীরে দলের ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন।
Müller ছিলেন একটু ভিন্ন ধরনের খেলোয়াড়। তিনি মাঠে সবসময় চোখে পড়ার মতো কৌশল দেখাতেন না, কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছে গোল ও অ্যাসিস্ট করার ক্ষমতা ছিল তাঁর বড় শক্তি।
Robben-Ribéry জুটির শুরু
২০০৯ সালে Bayern-এ যোগ দেন Arjen Robben। তখন Franck Ribéry ইতিমধ্যেই দলের বড় তারকা। Robben আসার পর দুই উইংয়ে Bayern পেয়ে যায় অসাধারণ এক জুটি। দুজনের নাম মিলিয়ে এই জুটি পরিচিত হয় “Robbery” নামে।
Robben ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ে শট নিতে খুব পছন্দ করতেন। অন্যদিকে Ribéry বাঁ দিক থেকে ড্রিবল করে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতেন। দুই উইংয়ে তাদের উপস্থিতি Bayern-এর আক্রমণকে আরও ধারালো করে তোলে। একজনকে সামলাতে গিয়েই প্রতিপক্ষকে অন্য পাশের বিপদ নিয়ে ভাবতে হতো।
২০১০ Champions League Final
২০০৯–১০ মৌসুমে Bayern Champions League Final-এ ওঠে। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল Inter Milan। কিন্তু শেষ ম্যাচে Bayern ২–০ গোলে হেরে যায়।
ইউরোপের সবচেয়ে বড় ট্রফির খুব কাছে গিয়েও Bayern সফল হতে পারেনি। তবে এই দলটি তখন ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী হচ্ছিল।
এরপর Bayern রক্ষণ ও গোলপোস্টেও বড় পরিবর্তন আনে। Jérôme Boateng দলে যোগ দেন। পরে Manuel Neuer-ও Bayern-এ আসেন। Neuer শুধু গোলরক্ষক হিসেবে নয়, মাঠের বাইরে এসে বল নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণকে সহায়তা করার দক্ষতার জন্যও আলাদা হয়ে ওঠেন।
Neuer-এর সঙ্গে Philipp Lahm, Boateng, Bastian Schweinsteiger, Thomas Müller, Robben ও Ribéry-দের নিয়ে Bayern ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী দল তৈরি করে।
২০১২: নিজেদের মাঠে আবার হতাশা

২০১২ সালের Champions League Final Bayern-এর জন্য ছিল বিশেষ একটি ম্যাচ। কারণ ফাইনালটি অনুষ্ঠিত হয় তাদের নিজেদের মাঠ Allianz Arena-তে। প্রতিপক্ষ ছিল Chelsea।
ম্যাচে Bayern এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। Thomas Müller গোল করে দলকে এগিয়েও দেন। কিন্তু Chelsea পরে সমতা ফিরিয়ে আনে। অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল জয়সূচক গোল করতে পারেনি।
এরপর ম্যাচ গড়ায় penalty shootout-এ। সেখানে Chelsea জয় পায়। নিজেদের মাঠে Champions League Final হেরে Bayern আবারও বড় হতাশার মুখে পড়ে।
তবে এই হারই পরের মৌসুমের জন্য দলকে আরও দৃঢ় করে।
২০১২–১৩: ইতিহাস গড়ার মৌসুম
২০১২ সালের Final হারের পর Bayern আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে। Javi Martínez দলে যোগ দেন এবং মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কোচ ছিলেন Jupp Heynckes।
Heynckes-এর অধীনে Bayern শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফুটবল খেলতে থাকে। Bundesliga-তে তারা আধিপত্য দেখিয়ে শিরোপা জেতে। এরপর DFB-Pokal-ও জিতে নেয়।
এবার সামনে ছিল Champions League।
Barcelona-কে ৭–০ হার
Champions League-এর সেমিফাইনালে Bayern মুখোমুখি হয় Barcelona-এর। দুই লেগ মিলিয়ে Bayern ৭–০ ব্যবধানে Barcelona-কে হারায়।
এই ফল পুরো ইউরোপকে Bayern-এর শক্তি বুঝিয়ে দেয়। তারা শুধু Bundesliga-এর সেরা দল নয়, ইউরোপের যেকোনো বড় দলকে হারানোর ক্ষমতাও তাদের আছে—এই বার্তা পরিষ্কার হয়ে যায়।
ফাইনালে Bayern-এর প্রতিপক্ষ ছিল Borussia Dortmund। প্রথমবারের মতো Champions League Final-এ দুই জার্মান ক্লাব মুখোমুখি হয়।
২০১৩ Champions League Final
Wembley Stadium-এ অনুষ্ঠিত ফাইনালে Bayern ও Dortmund দারুণ লড়াই করে। Dortmund প্রথমে গোল করে এগিয়ে যায়। Bayern পরে সমতা ফেরায়।
ম্যাচের শেষ দিকে Arjen Robben Bayern-এর হয়ে জয়সূচক গোল করেন। Bayern ২–১ ব্যবধানে Dortmund-কে হারিয়ে Champions League জিতে নেয়।
এক বছর আগে নিজেদের মাঠে Chelsea-এর কাছে হেরে যাওয়া Bayern এবার ইউরোপের সেরা হয়ে ফিরে আসে। Robben-এর সেই গোল ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে যায়।
Bayern-এর প্রথম Continental Treble
২০১২–১৩ মৌসুমে Bayern শুধু Champions League-ই জেতেনি। একই মৌসুমে তারা Bundesliga ও DFB-Pokal-ও জেতে।
অর্থাৎ Bayern-এর হাতে আসে তিনটি বড় ট্রফি—
- Bundesliga
- DFB-Pokal
- UEFA Champions League
এটাই ছিল Bayern Munich-এর ইতিহাসের প্রথম Continental Treble।
এই সাফল্যের পেছনে পুরো দলই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। Arjen Robben ও Franck Ribéry আক্রমণে বড় শক্তি ছিলেন। Thomas Müller, Manuel Neuer, Philipp Lahm, Bastian Schweinsteiger, Jérôme Boateng, Javi Martínez ও Mario Mandžukić-সহ পুরো দল অসাধারণ পারফরম্যান্স করে।
বিশেষ করে Robben-এর জন্য ২০১৩ সালের Final ছিল আবেগের একটি মুহূর্ত। ২০১২ সালে নিজের মাঠে Final হারার পর এক বছর পর তিনিই জয়সূচক গোল করে Bayern-কে Champions League জেতান।
Pep Guardiola-এর নতুন অধ্যায়
Treble জয়ের পর Jupp Heynckes কোচের দায়িত্ব ছাড়েন। এরপর Bayern-এর কোচ হন Pep Guardiola। Barcelona-র হয়ে অসাধারণ সাফল্যের পর তিনি মিউনিখে আসেন।
Treble জয়ী একটি দলের দায়িত্ব নেওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ Bayern-এর ওপর তখন প্রত্যাশা অনেক বেশি। Guardiola-এর সামনে কাজ ছিল এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং নিজের ফুটবল দর্শন দলের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করা।
এভাবেই ২০০০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত Bayern Munich-এর ইতিহাসে আসে একের পর এক পরিবর্তন। Domestic Double, Allianz Arena-তে যাত্রা, Ribéry-Robben জুটির উত্থান, Thomas Müller-এর প্রতিষ্ঠা, ২০১০ ও ২০১২ সালের হতাশা—সবকিছুর পর ২০১৩ সালে আসে সবচেয়ে বড় সাফল্য।
Bundesliga, DFB-Pokal ও Champions League জিতে Bayern প্রথমবার Continental Treble সম্পন্ন করে। Treble জয়ের পর Bayern-এর সামনে ছিল নতুন চ্যালেঞ্জ—এই সাফল্য ধরে রাখা। সেই কাজের দায়িত্বই পরে পান Pep Guardiola।
২০১৩–২০২৪: Guardiola থেকে Flick, Sextuple ও Bayern Munich-এর নতুন যুগ
২০১৩ সালে Jupp Heynckes-এর অধীনে ঐতিহাসিক Treble জয়ের পর Bayern Munich নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে। সেই বছরই দলের দায়িত্ব নেন Pep Guardiola। Heynckes-এর মতো সফল কোচের পর দায়িত্ব নেওয়ায় Guardiola-র ওপর চাপও ছিল বেশ বড়। কারণ তাঁর আগে Bayern Bundesliga, DFB-Pokal ও Champions League জিতে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা মৌসুম শেষ করেছিল।
Guardiola Bayern-এর খেলায় নতুন ধরণ নিয়ে আসেন। বল নিজেদের দখলে রাখা, ছোট পাসে আক্রমণ তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষকে চাপের মধ্যে রাখা ছিল তাঁর পরিকল্পনার বড় অংশ। Manuel Neuer, Philipp Lahm, Bastian Schweinsteiger, Thomas Müller, Arjen Robben, Franck Ribéry ও Jérôme Boateng-এর মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে Bayern ঘরোয়া ফুটবলে শক্ত অবস্থান ধরে রাখে।
২০১৩–১৪ মৌসুমে Bayern Bundesliga ও DFB-Pokal জেতে। Champions League-এও দলটি শেষ চার পর্যন্ত যায়, তবে Semi-final-এ Real Madrid-এর কাছে হেরে যায়। একই সময় ২০১৩ সালের Champions League জয়ের কারণে Bayern UEFA Super Cup ও FIFA Club World Cup-ও জেতে।
পরের মৌসুমেও Bayern Bundesliga শিরোপা ধরে রাখে। কিন্তু Champions League-এ Barcelona-এর কাছে Semi-final-এ বিদায় নেয়। ২০১৫–১৬ মৌসুমে আবার Bundesliga ও DFB-Pokal জেতে দলটি। Champions League-এ এবার Atlético Madrid-এর কাছে Semi-final-এ হেরে যায়। তিন মৌসুমে তিনটি Bundesliga এবং দুটি Domestic Double জিতলেও Guardiola ইউরোপের সবচেয়ে বড় ট্রফি এনে দিতে পারেননি। ২০১৬ সালে তিনি Bayern ছাড়েন।
Ancelotti, Heynckes ও Kovač-এর সময়
Guardiola-এর পর Bayern-এর কোচ হন Carlo Ancelotti। ২০১৬–১৭ মৌসুমে তাঁর অধীনে Bayern Bundesliga জেতে। এটি ছিল ক্লাবটির টানা পঞ্চম Bundesliga শিরোপা। তবে Champions League-এ Real Madrid-এর কাছে Quarter-final-এ হেরে যায় দল।
২০১৭ সালে Ancelotti-এর জায়গায় আবার দায়িত্ব নেন Jupp Heynckes। তাঁর ফিরে আসার পর Bayern দ্রুত ছন্দে ফেরে। ২০১৭–১৮ মৌসুমে Bundesliga জিতে টানা ষষ্ঠবার চ্যাম্পিয়ন হয় ক্লাবটি। মৌসুম শেষে Heynckes আবার দায়িত্ব ছাড়েন।
২০১৮ সালে Niko Kovač Bayern-এর কোচ হন। তাঁর প্রথম মৌসুমে Borussia Dortmund-এর সঙ্গে Bundesliga শিরোপার লড়াই বেশ কঠিন ছিল। শেষ পর্যন্ত Bayern শিরোপা জেতে এবং DFB-Pokal-ও নিজেদের করে নেয়। ফলে আবারও Domestic Double আসে। তবে Champions League-এ প্রত্যাশামতো সাফল্য পাওয়া যায়নি।
Hansi Flick ও Bayern-এর সেরা সময়
২০১৯–২০ মৌসুমে Bayern-এর ভাগ্য বদলে যায়। Niko Kovač-এর বিদায়ের পর Hansi Flick প্রথমে অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন। Flick দায়িত্ব নেওয়ার পর Bayern-এর খেলায় চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আসে। দলটি দ্রুত আক্রমণে উঠত এবং প্রতিপক্ষকে মাঠেই চাপে রাখত। Pressing, দ্রুত আক্রমণ এবং সামনে থেকে চাপ তৈরি করা Bayern-এর খেলায় বড় ভূমিকা নেয়।
Robert Lewandowski, Thomas Müller, Serge Gnabry, Joshua Kimmich, Leon Goretzka, Alphonso Davies ও Manuel Neuer-এর মতো খেলোয়াড়রা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন। Bayern Bundesliga ও DFB-Pokal জয়ের পর Champions League-এ অসাধারণ ফুটবল খেলতে থাকে।
Quarter-final-এ Barcelona-এর বিপক্ষে Bayern-এর ৮–২ জয় ছিল সেই মৌসুমের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচগুলোর একটি। এরপর দলটি Final-এ PSG-এর মুখোমুখি হয়। Kingsley Coman-এর একমাত্র গোলে Bayern ১–০ ব্যবধানে জয় পায় এবং ২০২০ Champions League জিতে নেয়।
একই মৌসুমে Bundesliga, DFB-Pokal ও Champions League জেতায় Bayern আবার Treble করে। ২০১৩ সালের পর এটি ছিল ক্লাবটির দ্বিতীয়বারের মতো এই অর্জন। এর আগে ২০১৩ সালে Heynckes-এর অধীনেও Bayern Treble জিতেছিল।
Champions League জয়ের পরও Bayern থামেনি। ২০২০ সালে Sevilla-কে হারিয়ে UEFA Super Cup জেতে তারা। এরপর ২০২১ সালের FIFA Club World Cup Final-এ Tigres-কে ১–০ গোলে হারিয়ে আরও একটি ট্রফি যোগ করে। এর ফলে Bayern-এর ২০১৯–২০ মৌসুম ঘিরে ছয়টি বড় শিরোপার কীর্তি পূর্ণ হয়।
অর্থাৎ Bayern একই সাফল্যের ধারায় Bundesliga, DFB-Pokal, Champions League, UEFA Super Cup ও FIFA Club World Cup জেতে এবং ২০২০ সালের ছয়টি বড় ট্রফির কীর্তি সম্পূর্ণ করে। Hansi Flick-এর দল তাই ক্লাবটির ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নেয়।
এই সময় Robert Lewandowski-ও নতুন রেকর্ড গড়েন। ২০২০–২১ Bundesliga মৌসুমে তিনি ৪১ গোল করেন। এর মাধ্যমে Gerd Müller-এর এক মৌসুমে ৪০ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান তিনি।
Nagelsmann ও Tuchel-এর সময়
Hansi Flick-এর পর Bayern-এর কোচ হন Julian Nagelsmann। তাঁর অধীনে Bayern ২০২১–২২ মৌসুমে Bundesliga জেতে। এটি ছিল ক্লাবটির টানা ১০ম Bundesliga শিরোপা। তবে Champions League-এ Villarreal-এর কাছে Quarter-final-এ হেরে যায় দল।
২০২২–২৩ মৌসুমের মাঝপথে Nagelsmann-এর জায়গায় Thomas Tuchel দায়িত্ব নেন। তাঁর প্রথম মৌসুমেই Bayern আবার Bundesliga চ্যাম্পিয়ন হয়। Borussia Dortmund শেষ ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে Bayern শিরোপা নিশ্চিত করে। এটি ছিল Bayern-এর টানা ১১তম Bundesliga জয়।
তবে দলের পারফরম্যান্স পুরো মৌসুমে খুব একটা স্থির ছিল না। ফলে পরের মৌসুমে বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়।
Harry Kane ও ২০২৩–২৪ মৌসুম
২০২৩ সালে Bayern আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে Harry Kane-কে দলে নেয়। Tottenham Hotspur থেকে আসা এই ফরোয়ার্ড প্রথম মৌসুমেই Bundesliga-তে নিয়মিত গোল করেন। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য Bayern-এর দলীয় ফলাফলে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।
২০২৩–২৪ মৌসুমে Bayer Leverkusen দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা দেখিয়ে Bundesliga জিতে নেয়। ফলে Bayern-এর টানা ১১টি Bundesliga শিরোপার যাত্রা শেষ হয়। Bayern দ্বিতীয় স্থানে মৌসুম শেষ করে।
Champions League-এও Bayern Semi-final পর্যন্ত গেলেও Real Madrid-এর কাছে হেরে যায়। DFB-Pokal-এও সাফল্য আসেনি। এর ফলে দীর্ঘ ১২ বছর পর Bayern প্রথমবার কোনো বড় ট্রফি ছাড়াই একটি মৌসুম শেষ করে।
এই ফলাফল ক্লাবটির জন্য বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন সামনে নিয়ে আসে। Thomas Tuchel-এর সময় শেষ হয় এবং Bayern নতুন কোচের দিকে তাকায়। দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে তরুণদের সমন্বয়, Harry Kane-কে ঘিরে আক্রমণ এবং Bundesliga-র শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়া—সবকিছুই তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
২০১৩ থেকে ২০২৪: এক যুগের হিসাব
২০১৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত Bayern Munich বারবার কোচ পরিবর্তন করলেও সাফল্যের ধারা পুরোপুরি থামেনি। Guardiola-এর অধীনে Bundesliga ও DFB-Pokal-এর আধিপত্য বজায় থাকে। Ancelotti, Heynckes ও Kovač-এর সময়েও ঘরোয়া ট্রফি আসে।
তবে এই সময়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য অবশ্যই Hansi Flick-এর ২০১৯–২০ মৌসুম। Bundesliga, DFB-Pokal ও Champions League জয়ের পর UEFA Super Cup এবং FIFA Club World Cup জয় Bayern-কে ঐতিহাসিক Sextuple এনে দেয়।
এরপর Nagelsmann ও Tuchel-এর অধীনে Bayern টানা ১০ম ও ১১তম Bundesliga শিরোপা জেতে। কিন্তু ২০২৩–২৪ মৌসুমে Bayer Leverkusen-এর কাছে Bundesliga হারানোর পর দীর্ঘ আধিপত্যে ছেদ পড়ে।
একদিকে ছিল Treble ও Sextuple-এর মতো অসাধারণ সাফল্য, অন্যদিকে ছিল ১২ বছরের মধ্যে প্রথম Trophyless season। তাই ২০২৪ সালে Bayern Munich-এর সামনে ছিল নতুন করে দল সাজানোর বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিবর্তনের পর ক্লাবটি Vincent Kompany-এর অধীনে নতুন অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যায়।
Vincent Kompany থেকে ২০২৬ Bayern Munich: বর্তমান দল, সাফল্য ও ক্লাবের Legacy
Bayern Munich-এর ইতিহাসে অনেক বড় কোচ ও খেলোয়াড় এসেছেন। ২০২৪ সালে ক্লাবটি ১২ বছরের মধ্যে প্রথমবার কোনো বড় ট্রফি ছাড়া মৌসুম শেষ করে। Bayern-এর মতো ক্লাবে কোচ হিসেবে শুরু করাটা Kompany-এর জন্য সহজ ছিল না। আগের মৌসুমের হতাশার পর সমর্থকরা তাঁর কাছ থেকে দ্রুত সাফল্য আশা করছিলেন।
Kompany-এর প্রথম মৌসুমেই Bayern Bundesliga শিরোপা ফিরে পায়। এরপর ২০২৫–২৬ মৌসুমে দলটি Bundesliga ও DFB-Pokal জিতে Domestic Double সম্পন্ন করে। এই সময়ে Thomas Müller-এর দীর্ঘ Bayern অধ্যায়েরও শেষ হয়। অন্যদিকে Harry Kane গোলের পর গোল করে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন হয়ে ওঠেন। Luis Díaz-এর আগমনও Bayern-এর আক্রমণভাগে নতুন শক্তি যোগ করে।
Vincent Kompany-এর Bayern অধ্যায়ের শুরু
Bayern-এর দায়িত্ব নেওয়ার সময় Kompany-এর সামনে কাজটি সহজ ছিল না। এর আগের মৌসুমে Bayern Bundesliga জিততে পারেনি এবং কোনো বড় ট্রফিও পায়নি। তাই নতুন কোচের কাছে সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি।
২০২৪–২৫ Bundesliga মৌসুমে Bayern প্রথম ম্যাচেই VfL Wolfsburg-কে ৩–২ গোলে হারায়। এরপর ধীরে ধীরে দলটি লিগে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে। Harry Kane ছিলেন আক্রমণের মূল ভরসা। Jamal Musiala, Michael Olise, Joshua Kimmich, Leroy Sané ও Serge Gnabry-ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
৫ মে ২০২৫ সালে SC Freiburg ও Bayer Leverkusen-এর ম্যাচ ২–২ ড্র হওয়ার পর Bayern-এর Bundesliga শিরোপা নিশ্চিত হয়। এটি ছিল Bayern-এর ৩৩তম Bundesliga title এবং ৩৪তম German title। Kompany-এর প্রথম মৌসুমেই ক্লাবটি আবার জার্মানির চ্যাম্পিয়ন হয়।
Thomas Müller-এর বিদায়
২০২৪–২৫ মৌসুমের পর Bayern-এর একটি বড় অধ্যায় শেষ হয়। Thomas Müller প্রায় ২৫ বছর ক্লাবটির সঙ্গে ছিলেন। প্রথম দলের নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর সময়ও ছিল দীর্ঘ ১৭ মৌসুম।
Bayern-এর হয়ে Müller সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৫৬টি ম্যাচ খেলেছেন, যা ক্লাবের রেকর্ড। তাঁর ক্যারিয়ারে ছিল ৩৩টি ট্রফি। Bundesliga থেকে Champions League—Bayern-এর প্রায় সব বড় সাফল্যের সঙ্গেই তাঁর নাম জড়িয়ে আছে।
২০০৮ সালে প্রথম দলে জায়গা পাওয়ার পর Müller ধীরে ধীরে Bayern-এর অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। Müller-এর বিদায় তাই ছিল শুধু একজন খেলোয়াড়ের বিদায় নয়। Bayern-এর একটি দীর্ঘ সময়েরও শেষ হয় তখন। এত বছর ধরে ক্লাবটির জার্সিতে তাঁকে দেখার পর তাঁর অনুপস্থিতি সমর্থকদের জন্য স্বাভাবিকভাবেই আলাদা অনুভূতির।
২০২৫–২৬ মৌসুমের দুর্দান্ত শুরু
২০২৫–২৬ মৌসুম শুরুর আগে Bayern Franz Beckenbauer Supercup জেতে। Luis Díaz এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং তাঁর গোল Bayern-কে জয় এনে দেয়।
এরপর Bundesliga-এর প্রথম ম্যাচে RB Leipzig-এর বিপক্ষে Bayern ৬–০ গোলের বড় জয় পায়। মৌসুমের শুরুতে দলটি অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখায়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এক পর্যায়ে টানা ১৬ ম্যাচে ১৬টি জয় পায় Bayern।
পরে Union Berlin-এর বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে Harry Kane গোল করে দলকে হার থেকে বাঁচান। এরপর Augsburg-এর কাছে Bayern ২–১ গোলে হারে। এটি ছিল সেই মৌসুমে Bundesliga-তে তাদের প্রথম পরাজয়।
ইউরোপেও Bayern কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়। Arsenal-এর কাছে হারের পরও দলটি ঘুরে দাঁড়ায় এবং ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখে।
Bundesliga-তে নতুন গোলের রেকর্ড
২০২৫–২৬ মৌসুমে Bayern নিয়মিত গোল করেছে। বিশেষ করে Kane-এর গোলগুলো দলের ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে। St. Pauli-এর বিপক্ষে ৫–০ জয়ের পর মৌসুমে দলের Bundesliga গোল সংখ্যা ১০৫-এ পৌঁছে যায়।
এর মাধ্যমে Bayern নিজেদের ১৯৭১–৭২ মৌসুমের ১০১ গোলের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দেয়। এই সাফল্যের পেছনে Harry Kane-এর বড় ভূমিকা ছিল। দলের অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রাও নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করে Bayern-কে এগিয়ে রাখেন।
আবার Bundesliga চ্যাম্পিয়ন
ম্যাচডে ৩০-এ VfB Stuttgart-এর বিপক্ষে ৪–২ জয়ের মাধ্যমে Bayern ২০২৫–২৬ Bundesliga শিরোপা নিশ্চিত করে। তখনও লিগে চারটি ম্যাচ বাকি ছিল।
এটি ছিল Bayern-এর ৩৪তম Bundesliga title এবং ৩৫তম German title। অর্থাৎ Kompany-এর প্রথম দুই মৌসুমেই Bayern পরপর দুইবার Bundesliga জেতে।
এক মৌসুম আগেও যেখানে কোনো বড় ট্রফি আসেনি, সেখানে পরের মৌসুমেই Bundesliga জয় Bayern-এর জন্য স্বস্তির খবর ছিল।
DFB-Pokal এবং Domestic Double
Bundesliga জয়ের পর Bayern-এর সামনে ছিল DFB-Pokal Final। প্রতিপক্ষ ছিল VfB Stuttgart।
ফাইনালের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে Bayern-এর হয়ে গোল করেন Harry Kane। এরপর তিনি আরও দুইবার গোল করেন। ফলে Kane Hat-trick করেন এবং Bayern DFB-Pokal জিতে নেয়।
Bundesliga ও DFB-Pokal—দুই ট্রফি জয়ের ফলে Bayern ২০২৫–২৬ মৌসুমে Domestic Double সম্পন্ন করে। ছয় বছর পর ক্লাবটি আবার একই মৌসুমে জার্মানির দুই বড় ঘরোয়া ট্রফি জেতে।
Harry Kane-এর দুর্দান্ত মৌসুম
২০২৫–২৬ মৌসুমে Bayern-এর সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন Harry Kane। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে তিনি ৬১ গোল করেন।
DFB-Pokal Final-এর Hat-trick ছিল তাঁর মৌসুমের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। তাঁর গোল Bayern-এর Bundesliga সাফল্যেও বড় ভূমিকা রাখে।
এই মৌসুমে Kane European Golden Shoe-ও জেতেন। Bayern-এর হয়ে এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয়বার এই পুরস্কার পাওয়া। গোলের দিক থেকে ২০২৫–২৬ মৌসুম তাই Kane-এর Bayern ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায় হয়ে থাকে।
২০২৬ সালের Bayern Munich
২০২৬ সালে Bayern Munich আবার জার্মান ফুটবলের শীর্ষে। ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন President Herbert Hainer, CEO Jan-Christian Dreesen এবং Head Coach Vincent Kompany।
বর্তমান Bayern দলে যেমন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছেন, তেমনি তরুণদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গোলপোস্টে Manuel Neuer দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। মাঝমাঠে Joshua Kimmich গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আক্রমণভাগে Harry Kane-এর পাশাপাশি Jamal Musiala, Michael Olise ও Luis Díaz দলের বড় শক্তি।
Thomas Müller চলে গেলেও নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা Bayern-এর ভবিষ্যৎ তৈরি করছেন।
Allianz Arena: Bayern-এর ঘর
Bayern Munich-এর সঙ্গে Allianz Arena নামটি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ২০০৫–০৬ মৌসুম থেকে এই স্টেডিয়াম Bayern-এর প্রধান হোম ভেন্যু।
মিউনিখের উত্তরে অবস্থিত Allianz Arena-এর ধারণক্ষমতা ৭৫,০২৪। স্টেডিয়ামের সবচেয়ে পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো এর বাইরের আলোকিত আবরণ। Bayern-এর ম্যাচের সময় এটি সাধারণত লাল আলোয় আলোকিত হয়।
এর আগে Bayern ৩৩ বছর Olympiastadion-এ খেলেছে। Beckenbauer, Gerd Müller ও Sepp Maier-এর মতো তারকার Golden Era-এর অনেক স্মৃতি সেই মাঠের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তবে football-specific stadium-এর প্রয়োজন থেকেই Allianz Arena তৈরি হয়।
আজ এই স্টেডিয়াম Bayern-এর পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
লাল-সাদা জার্সি ও Bayern-এর crest

Bayern Munich-এর জার্সির প্রধান পরিচয় লাল ও সাদা রং। সময়ের সঙ্গে জার্সির ডিজাইন বদলালেও এই দুই রং ক্লাবের পরিচয়ের সঙ্গে শক্তভাবে রয়ে গেছে।
Bayern-এর crest-এ লাল বৃত্তের মধ্যে ক্লাবের নাম এবং মাঝখানে Bavaria-এর নীল-সাদা pattern দেখা যায়। ফলে এই crest শুধু Bayern Munich নয়, Bavaria অঞ্চলের পরিচয়ও তুলে ধরে।
Adidas-এর সঙ্গেও Bayern-এর দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। জার্সিতে Adidas-এর তিনটি stripe এখন ক্লাবটির পরিচিত ছবির একটি অংশ।
Bayern-এর বিশাল সমর্থকভিত্তি
Bayern-এর জনপ্রিয়তা শুধু জার্মানিতে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্লাবটির বিপুল সংখ্যক সমর্থক রয়েছে।
নভেম্বর ২০২৫ অনুযায়ী Bayern-এর official club member ছিল ৪৩২,৫০০-এর বেশি। একই সময়ে ৪,৪২৫টি officially registered fan club ছিল, যাদের সদস্য সংখ্যা ৩২৮,৫৬৪-এর বেশি।
এই বিশাল সদস্য ও fan club-এর সংখ্যা Bayern-এর জনপ্রিয়তার বড় প্রমাণ। Allianz Arena-তেও সমর্থকদের উপস্থিতি দলের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
Bayern-এর বড় rivalry
Borussia Dortmund-এর সঙ্গে Bayern-এর লড়াই জার্মান ফুটবলের সবচেয়ে পরিচিত rivalry-গুলোর একটি। এই ম্যাচকে বলা হয় Der Klassiker।
Bundesliga title race থেকে DFB-Pokal—বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় দুই দল বহু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলেছে। ২০১৩ সালের Champions League Final-এ Bayern Dortmund-কে হারিয়ে ইউরোপের শিরোপা জিতেছিল।
TSV 1860 Munich-এর সঙ্গেও Bayern-এর স্থানীয় rivalry রয়েছে। একই শহরের দুই ক্লাব হওয়ায় এই ম্যাচের আলাদা আবেগ রয়েছে। 1. FC Nürnberg-এর সঙ্গেও Bayern-এর ঐতিহ্যবাহী rivalry আছে।
Bayern-এর বড় ট্রফিগুলো
Bayern Munich জার্মান ফুটবলের সবচেয়ে সফল ক্লাব। ২০২৬ সালের হিসাবে তাদের ৩৫টি national title এবং ২১টি DFB-Pokal রয়েছে।
২০১৩ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত টানা ১১টি Bundesliga title জেতা Bayern-এর আধিপত্যের বড় উদাহরণ।
ইউরোপে Bayern ছয়বার European Cup/Champions League জিতেছে। ১৯৭৪, ১৯৭৫ ও ১৯৭৬ সালে টানা তিনবার European Cup জয়ের পর ২০০১, ২০১৩ ও ২০২০ সালে আরও তিনবার ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্লাব ট্রফি জেতে তারা।
২০২০ সালে Bayern Hansi Flick-এর অধীনে Bundesliga, DFB-Pokal ও Champions League জিতে Treble সম্পন্ন করে। এরপর UEFA Super Cup, DFL-Supercup ও FIFA Club World Cup জিতে Sextuple পূর্ণ করে।
Bayern Munich-এর Legacy
১৯০০ সালে Franz John-এর নেতৃত্বে ১১ জন খেলোয়াড় Bayern Munich প্রতিষ্ঠা করেন। ১১ জনের ছোট সেই উদ্যোগ আজ বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ফুটবল ক্লাবে পরিণত হয়েছে।
Franz Beckenbauer, Gerd Müller, Sepp Maier, Karl-Heinz Rummenigge, Lothar Matthäus, Oliver Kahn, Bastian Schweinsteiger, Philipp Lahm, Thomas Müller ও Manuel Neuer—প্রতিটি প্রজন্মের বড় তারকারা Bayern-এর ইতিহাসে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন।
কোচ হিসেবেও Udo Lattek, Ottmar Hitzfeld, Jupp Heynckes, Pep Guardiola, Carlo Ancelotti, Hansi Flick এবং এখন Vincent Kompany ক্লাবটির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তৈরি করেছেন।
২০২৬ সালের Bayern তাই নতুন এবং পুরোনো—দুইয়ের সমন্বয়। Thomas Müller-এর মতো একটি যুগের তারকা চলে গেছেন, কিন্তু Harry Kane, Jamal Musiala, Michael Olise, Luis Díaz, Joshua Kimmich ও Manuel Neuer-এর মতো খেলোয়াড়রা বর্তমান দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন।
২০২৫–২৬ মৌসুমে Bundesliga ও DFB-Pokal জয়ের মাধ্যমে Bayern আবার প্রমাণ করেছে, কঠিন সময়ের পরও তারা দ্রুত ফিরে আসতে পারে। Allianz Arena-এর লাল আলো, লাল-সাদা জার্সি, Bavaria-এর পরিচয়, বিশাল সমর্থকভিত্তি এবং দীর্ঘ ট্রফি ইতিহাস—সব মিলিয়ে Bayern Munich আজও বিশ্বের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব।
Bayern-এর ইতিহাসে বারবার খেলোয়াড় বদলেছে। Beckenbauer ও Gerd Müller-এর পর এসেছে Lahm, Schweinsteiger, Thomas Müller ও Neuer-এর প্রজন্ম। এখন সেই জায়গায় দলের সামনে বড় ভূমিকা রাখছেন Kane, Musiala, Olise ও অন্য তরুণরা। মুখ বদলেছে, সময় বদলেছে, কিন্তু Bayern-এর জয়ের জন্য লড়াই করার মানসিকতা বদলায়নি। ২০২৫–২৬ মৌসুমে Bundesliga ও DFB-Pokal জয় তারই আরেকটি উদাহরণ।
