Liverpool FC: ইতিহাস, পরিচয় ও শুরুর গল্প
Liverpool Football Club ইংল্যান্ডের অন্যতম পরিচিত ফুটবল ক্লাব। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ক্লাবটি Liverpool FC বা The Reds নামে বেশি পরিচিত। ক্লাবটির জন্ম ইংল্যান্ডের Merseyside-এর লিভারপুল শহরে। আজ লিভারপুল বিশ্বের বড় ফুটবল ক্লাবগুলোর একটি হলেও এর শুরুর গল্প ছিল বেশ ভিন্ন। একটি মাঠকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধ থেকেই ১৮৯২ সালে এই ক্লাবের জন্ম হয়।
Liverpool-এর ঘরের মাঠ Anfield। ক্লাব প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এই মাঠের সঙ্গে Liverpool-এর সম্পর্ক। বর্তমানে Anfield শুধু একটি স্টেডিয়াম নয়, এটি Liverpool-এর ইতিহাস ও পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
Liverpool FC-এর প্রতিষ্ঠা
Liverpool FC আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় ৩ জুন ১৮৯২ সালে। ক্লাবটির জন্মের পেছনে ছিলেন John Houlding। তিনি ছিলেন Anfield মাঠের মালিক। সেই সময় Everton Anfield-এ নিজেদের ম্যাচ খেলত। কিন্তু মাঠের ভাড়া নিয়ে John Houlding ও Everton কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়।
একপর্যায়ে Everton Anfield ছেড়ে Goodison Park-এ চলে যায়। ফলে Anfield মাঠটি খালি হয়ে পড়ে। John Houlding তখন এই মাঠকে কেন্দ্র করে একটি নতুন ফুটবল দল তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন। সেখান থেকেই Liverpool FC-এর যাত্রা শুরু হয়।
Liverpool FC সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ক্লাবের নাম | Liverpool Football Club |
| প্রতিষ্ঠা | ৩ জুন ১৮৯২ |
| দেশ | ইংল্যান্ড |
| শহর | লিভারপুল, Merseyside |
| ডাকনাম | The Reds |
| হোম গ্রাউন্ড | Anfield |
| স্টেডিয়াম | Anfield |
| ক্লাবের রং | লাল |
| প্রতিষ্ঠাতা | John Houlding |
| প্রথম ম্যানেজার | John McKenna |
| প্রথম লিগ শিরোপা | ১৯০১ |
| প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী | Everton, Manchester United |
| সমর্থকদের পরিচিতি | Kopites |
| বিখ্যাত গান | You’ll Never Walk Alone |
| Premier League/Top-flight শিরোপা | ২০টি |
| Champions League/European Cup | ৬টি |
| FA Cup | ৮টি |
| League Cup | ১০টি |
| FIFA Club World Cup | ১টি |
| ২০২৬ সালের কোচ | Andoni Iraola |
আরও পড়ুন:
- Liverpool vs Monaco: ৩-২ গোলে জিতল মোনাকো, নাটকীয় ম্যাচে হারল লিভারপুল
- Liverpool vs Wrexham: রিও এনগুমোহা কি সালাহর উত্তরসূরি? হার্ভে এলিয়টের নতুন সুযোগ
প্রথমদিকে নতুন ক্লাবটির নাম Liverpool FC ছিল না। দলের নাম রাখা হয়েছিল Everton F.C. and Athletic Grounds Ltd, সংক্ষেপে Everton Athletic। পরে নাম নিয়ে সমস্যার কারণে ১৮৯২ সালের মার্চে নাম পরিবর্তন করে Liverpool F.C. করা হয়। একই বছরের জুনে ক্লাবটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়।
Liverpool-এর প্রথম ম্যাচ
নতুন দল তৈরি হওয়ার পর খেলোয়াড় সংগ্রহ ও দল গঠনের কাজ শুরু হয়। লিভারপুলের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ১ সেপ্টেম্বর ১৮৯২ সালে। এটি ছিল Rotherham Town-এর বিপক্ষে একটি প্রাক-মৌসুমের ম্যাচ।
লিভারপুল সেই ম্যাচে দারুণ শুরু করে। তারা Rotherham Town-কে ৭–১ গোলে হারায়। লিভারপুলের প্রথম দলটি পুরোপুরি Scottish খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত হয়েছিল। ম্যানেজার John McKenna স্কটল্যান্ড থেকে খেলোয়াড় সংগ্রহ করেছিলেন। সে সময় দলের খেলোয়াড়দের “Scotch Professors” নামেও ডাকা হতো।
এরপর লিভারপুল তাদের প্রথম মৌসুমে Lancashire League-এ খেলে এবং প্রথমবারেই শিরোপা জিতে নেয়। ১৮৯৩–৯৪ মৌসুমে তারা Football League Second Division-এ যোগ দেয়। কয়েক বছরের মধ্যেই দলটি First Division-এ উঠে আসে এবং ১৮৯৬ সালে শীর্ষ বিভাগে জায়গা করে নেয়।
প্রথম League title
লিভারপুলের প্রথম দিকের সাফল্যের সঙ্গে Tom Watson-এর নামও গুরুত্বপূর্ণ। তার অধীনে লিভারপুল প্রথমবার ইংলিশ লিগের শিরোপা জেতে ১৯০১ সালে। এরপর ১৯০৬ সালেও দলটি League title জেতে।
লিভারপুল ইংলিশ ফুটবলে নিজেদের জায়গা শক্ত করতে থাকে। ১৯১৪ সালে তারা প্রথমবার FA Cup Final-এ ওঠে। পরে ১৯২২ ও ১৯২৩ সালে টানা দুইবার League championship জেতে। ১৯৪৬–৪৭ মৌসুমেও Liverpool First Division title জেতে।
কঠিন সময় এবং Bill Shankly-এর আগমন

লিভারপুলের ইতিহাসে সব সময় সাফল্য ছিল না। ১৯৫৩–৫৪ মৌসুমে দীর্ঘ সময় শীর্ষ বিভাগে থাকার পর দলটি Second Division-এ নেমে যায়। এরপর ১৯৫৮–৫৯ FA Cup-এ non-league দল Worcester City-এর কাছেও লিভারপুল হেরে যায়।
এই কঠিন সময়েই লিভারপুলের দায়িত্ব নেন Bill Shankly। তিনি এসে দলে বড় পরিবর্তন আনেন। খেলোয়াড়দের নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করেন এবং Anfield-এর পুরনো একটি boot storage room-কে coaches’ discussion room হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। পরে এই জায়গাটি লিভারপুলের বিখ্যাত “Boot Room” সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে যায়।
Shankly-এর সময় লিভারপুল আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ১৯৬২ সালে দলটি First Division-এ ফিরে আসে। এরপর ১৯৬৪ সালে ১৭ বছর পর League title জেতে এবং ১৯৬৫ সালে প্রথমবার FA Cup জিতে নেয়।
Liverpool-এর শুরুর পথটা সহজ ছিল না। Anfield-কে ঘিরে শুরু হওয়া এই ক্লাব কয়েক বছরের মধ্যেই ইংলিশ ফুটবলে নিজেদের জায়গা তৈরি করে। পরে Bill Shankly-এর হাত ধরে Liverpool আরও বড় সাফল্যের দিকে এগিয়ে যায়।
Bill Shankly থেকে Liverpool-এর স্বর্ণযুগ
Liverpool-এর ইতিহাসে Bill Shankly-এর আগমন ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ১৯৫০-এর দশকে ক্লাবটি কঠিন সময় পার করছিল। ১৯৫৩–৫৪ মৌসুমে দীর্ঘ ৪৯ বছর পর Liverpool First Division থেকে নেমে Second Division-এ চলে যায়। ১৯৫৮–৫৯ FA Cup-এ Worcester City-এর কাছে হারও দলের দুর্বল অবস্থার ছবি তুলে ধরে।
১৯৫৯ সালে Bill Shankly লিভারপুলের ম্যানেজার হন। তিনি শুধু নতুন খেলোয়াড় আনার দিকে নজর দেননি, পুরো দলের কাজের ধরন বদলানোর চেষ্টা করেন। প্রশিক্ষণ, ফিটনেস, পাসিং এবং দল হিসেবে খেলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। পুরনো দলের অনেক খেলোয়াড়কে ছেড়ে দিয়ে নতুনভাবে দল সাজান। তার সময়ের Boot Room-ও Liverpool-এর কোচিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
Shankly-এর কাজের ফলও দ্রুত দেখা যায়। ১৯৬২ সালে লিভারপুল আবার First Division-এ ফিরে আসে। এরপর ১৯৬৩–৬৪ মৌসুমে তারা First Division title জেতে। দুই বছর পর, ১৯৬৫–৬৬ মৌসুমেও Liverpool League championship জয় করে।
১৯৬৫ সাল Lলিভারপুলের জন্য আরও বিশেষ ছিল। Wembley-তে Leeds United-কে অতিরিক্ত সময়ে ২–১ গোলে হারিয়ে ক্লাবটি প্রথমবার FA Cup জেতে। FA Cup জয়ের মাধ্যমে Liverpool নিজেদের শক্তির আরও ভালো প্রমাণ দেয়।
Shankly-এর সময় Liverpool-এর মাঠের পরিচয়েও বড় পরিবর্তন আসে। ১৯৬৪ সালে দলটি প্রথমবার সম্পূর্ণ লাল kit বা all-red kit ব্যবহার করে। লাল জার্সি পরে মাঠে Liverpool-এর আলাদা একটি চেহারা তৈরি হয়। একই সময় “You’ll Never Walk Alone” গানটিও লিভারপুলের সমর্থকদের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। Anfield-এ ম্যাচের আগে হাজারো সমর্থক একসঙ্গে এই গান গাওয়ার দৃশ্য আজও ক্লাবটির অন্যতম পরিচিত ঐতিহ্য।
১৯৭৪ সালে Shankly ম্যানেজারের দায়িত্ব ছাড়েন। এরপর তার তৈরি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে Bob Paisley লিভারপুলকে আরও বড় সাফল্যের দিকে নিয়ে যান। ১৯৭৪ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত Paisley-এর সময়ে Liverpool ছয়টি League title এবং তিনটি European Cup জেতে।
লিভারপুল প্রথম European Cup জেতে ১৯৭৭ সালে Borussia Mönchengladbach-কে ৩–১ গোলে হারিয়ে। ১৯৭৮ সালে Club Brugge-কে ১–০ এবং ১৯৮১ সালে Real Madrid-কে ১–০ গোলে হারিয়ে তারা আরও দুটি European Cup জেতে।
এরপর Joe Fagan-এর সময় ১৯৮৩–৮৪ মৌসুমে Liverpool League title, League Cup এবং European Cup—তিনটি বড় ট্রফি জেতে। European Cup Final-এ Roma-কে হারিয়ে আসে সেই সাফল্য।
Kenny Dalglish-এর সময়ও লিভারপুলের সাফল্য চলতে থাকে। ১৯৮৫–৮৬ মৌসুমে League title ও FA Cup জিতে তারা প্রথম League and FA Cup double করে। পরে ১৯৮৭–৮৮ এবং ১৯৮৯–৯০ মৌসুমেও League title জয় করে।
Shankly যে দলটি গড়ে দিয়েছিলেন, পরের ম্যানেজাররা সেটিকে আরও শক্তিশালী করেন। Bob Paisley, Joe Fagan এবং Kenny Dalglish-এর সময় Liverpool একের পর এক বড় সাফল্য পায়। এই সময়টিই ক্লাবটির ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সময়গুলোর একটি।
কঠিন সময় পেরিয়ে Liverpool-এর আবার ঘুরে দাঁড়ানো
১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি Liverpool মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি দুটি ভয়াবহ ঘটনার মুখোমুখি হয়। মাঠে দলটি তখন ইংল্যান্ড ও ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল। কিন্তু ১৯৮৫ সালের Heysel Stadium disaster এবং ১৯৮৯ সালের Hillsborough disaster ক্লাবটির ইতিহাসে গভীর দাগ রেখে যায়। এই সময় লিভারপুলকে ফুটবলের পাশাপাশি সমর্থক ও নিহতদের পরিবারের কষ্ট এবং ন্যায়বিচারের লড়াইয়ের সঙ্গেও থাকতে হয়েছে।
Heysel Stadium disaster

১৯৮৫ সালে European Cup Final-এ লিভারপুলের প্রতিপক্ষ ছিল Juventus। ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল Belgium-এর Brussels-এর Heysel Stadium-এ। ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এক পর্যায়ে একটি retaining wall ভেঙে পড়ে। এতে ৩৯ জন মানুষ মারা যান এবং বহু মানুষ আহত হন।
Liverpool সেই ম্যাচে Juventus-এর কাছে ১–০ গোলে হেরে যায়। তবে সেদিন ম্যাচের ফলের চেয়ে মানুষের মৃত্যু এবং তার ভয়াবহ পরিণতিই বড় হয়ে ওঠে।
এই ঘটনার পর ইংলিশ ক্লাবগুলোকে পাঁচ বছরের জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। লিভারপুলের ক্ষেত্রে প্রথমে দশ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও পরে তা ছয় বছরে কমানো হয়। ইউরোপের বড় প্রতিযোগিতা থেকে দূরে থাকলেও ঘরোয়া ফুটবলে লিভারপুল সাফল্য ধরে রাখে এবং League title ও FA Cup জেতে।
Hillsborough disaster
১৯৮৯ সালের ১৫ এপ্রিল Liverpool Nottingham Forest-এর বিপক্ষে FA Cup semi-final খেলতে Hillsborough Stadium-এ যায়। ম্যাচ শুরুর আগে লিভারপুল সমর্থকদের একটি অংশ প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে পড়ে। অনেক মানুষ perimeter fencing-এর সঙ্গে আটকে যান এবং ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সেদিন ৯৪ জন মারা যান। পরে আরও তিনজনের মৃত্যু হয় এবং ২০২১ সালে Andrew Devine-এর মৃত্যুর পর মৃতের সংখ্যা ৯৭-এ দাঁড়ায়। Hillsborough-এর ঘটনা আজও Liverpool ও তাদের সমর্থকদের কাছে গভীর বেদনার স্মৃতি হয়ে আছে।
এই ঘটনার পর লিভারপুল সমর্থক ও নিহতদের পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে সত্য ও ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করেন। Taylor Report-এ অতিরিক্ত ভিড় এবং পুলিশের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ব্যর্থতার বিষয়টি উঠে আসে। পরে ইংল্যান্ডের বড় স্টেডিয়ামগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আসে।
Dalglish থেকে Houllier
Heysel-এর পর Kenny Dalglish player-manager হিসেবে লিভারপুলের দায়িত্ব নেন। ১৯৮৫–৮৬ মৌসুমে তার অধীনে লিভারপুল প্রথমবার League title ও FA Cup একসঙ্গে জেতে। পরে আরও League title ও FA Cup আসে। কিন্তু Hillsborough-এর পর তৈরি হওয়া মানসিক চাপের মধ্যে Dalglish ১৯৯১ সালে দায়িত্ব ছাড়েন।
এরপর Graeme Souness-এর সময়ে ১৯৯২ সালে FA Cup এবং Roy Evans-এর সময়ে ১৯৯৫ সালে League Cup জেতে লিভারপুল। তবে League title-এ আগের মতো সাফল্য আসছিল না।
১৯৯৮–৯৯ মৌসুমে Gérard Houllier লিভারপুলের সঙ্গে যুক্ত হন। তার অধীনে দলটি ধীরে ধীরে নতুনভাবে গড়ে ওঠে। এর সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০০১ সালে। Liverpool FA Cup, League Cup এবং UEFA Cup জিতে অসাধারণ একটি treble সম্পন্ন করে।
Rafael Benítez ও Istanbul-এর জয়
২০০৪ সালে Rafael Benítez লিভারপুলের ম্যানেজার হন। তার প্রথম মৌসুমেই Liverpool Champions League-এ অসাধারণ পারফরম্যান্স করে।
২০০৫ Champions League Final-এ লিভারপুলের প্রতিপক্ষ ছিল AC Milan। প্রথমার্ধ শেষে লিভারপুল ৩–০ গোলে পিছিয়ে ছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে Liverpool তিনটি গোল করে ম্যাচ ৩–৩ করে। অতিরিক্ত সময়েও আর গোল হয়নি। Penalty shootout-এ Liverpool ৩–২ গোলে জিতে European Cup-এর পঞ্চম title অর্জন করে।
Istanbul-এর ওই comeback Liverpool-এর ইতিহাসে আজও সবচেয়ে বেশি আলোচিত ম্যাচগুলোর একটি।
এরপর ২০০৬ সালে Liverpool FA Cup জেতে। ২০০৭ সালে আবার Champions League Final-এ ওঠে, যদিও এবার AC Milan-এর কাছে ২–১ গোলে হারে। ২০০৮–০৯ মৌসুমে Liverpool Premier League-এ ৮৬ পয়েন্ট নিয়ে runner-up হয়।
এই সময়ে Liverpool শুধু trophy জেতেনি, কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়ে আবার ইউরোপের বড় মঞ্চেও ফিরেছিল। Istanbul-এর জয় সেই প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা।
Fenway Sports Group, Klopp যুগ ও Liverpool-এর নতুন উত্থান
২০১০ সালের দিকে লিভারপুল কঠিন সময় পার করছিল। মাঠের ফলাফল আশানুরূপ ছিল না, ক্লাবের আর্থিক অবস্থাও ভালো ছিল না। মালিকানা নিয়ে সমস্যা, ঋণের চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে লিভারপুল তখন বড় সংকটে পড়ে।
এই সময় Liverpool-এর মালিকানা আসে Fenway Sports Group (FSG)-এর হাতে। এরপর Kenny Dalglish, Brendan Rodgers এবং Jürgen Klopp-এর সময়ে ক্লাবটি আবার সাফল্যের পথে ফিরতে শুরু করে। তবে Klopp-এর সময়েই Liverpool আবার ইংল্যান্ড ও ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোর একটি হয়ে ওঠে।
২০১০ সালের সংকট ও FSG-এর আগমন
২০০৭ সালে George Gillett ও Tom Hicks লিভারপুলের মালিক হন। পরে তাদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয় এবং ক্লাবের ঋণের চাপও বাড়তে থাকে। ২০১০ সালে লিভারপুলের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে ক্লাবটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এই অবস্থায় নতুন মালিক খোঁজা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত John W. Henry-এর Fenway Sports Group, যা তখন New England Sports Ventures নামে পরিচিত ছিল, ২০১০ সালের ১৫ অক্টোবর প্রায় £300 million-এর বিনিময়ে লিভারপুলের মালিকানা নেয়।
এরপর ক্লাবের আর্থিক অবস্থার পাশাপাশি Anfield ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের দিকেও নজর দেওয়া হয়। নতুন stadium তৈরির পুরনো পরিকল্পনার বদলে Anfield উন্নত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে Main Stand ও Anfield Road Stand-এর উন্নয়ন মাঠটিকে আরও আধুনিক করে তোলে।
Kenny Dalglish ও Brendan Rodgers
Roy Hodgson-এর সময় ভালো ফল না আসায় ২০১১ সালে লিভারপুলের দায়িত্ব নেন ক্লাবের সাবেক তারকা Kenny Dalglish। তার সময়ে লিভারপুল ২০১১–১২ মৌসুমে League Cup জেতে এবং FA Cup Final-এও ওঠে। তবে Premier League-এ দলটি মাত্র অষ্টম হয়। এরপর Dalglish-এর দ্বিতীয় অধ্যায় শেষ হয়।
২০১২ সালে দায়িত্ব নেন Brendan Rodgers। তার অধীনে লিভারপুল বল দখল, দ্রুত পাস ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত হয়ে ওঠে।
২০১৩–১৪ মৌসুম ছিল Rodgers-এর সময়ের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়। Luis Suárez, Daniel Sturridge ও Raheem Sterling-দের নিয়ে লিভারপুল দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। পুরো League season-এ দলটি ১০১টি গোল করে এবং Manchester City-এর সঙ্গে title race-এ শেষ পর্যন্ত লড়াই করে। তবে শেষ পর্যন্ত লিভারপুল দ্বিতীয় হয়।
পরের মৌসুমে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ২০১৪–১৫ মৌসুমে দলটি sixth হয়। ২০১৫ সালের অক্টোবরে Rodgers-এর সময় শেষ হয়।
Jürgen Klopp-এর আগমন

২০১৫ সালে লিভারপুলের নতুন ম্যানেজার হন Jürgen Klopp। Borussia Dortmund-এ সফল সময় কাটানোর পর তিনি Anfield-এ আসেন।
Klopp-এর প্রথম মৌসুমেই Liverpool League Cup ও Europa League Final-এ পৌঁছায়। যদিও দুই Final-এই হারতে হয়, তবু দলের খেলায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত তখনই দেখা যাচ্ছিল।
Klopp-এর ফুটবলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল দ্রুত চাপ তৈরি করা। দল বল হারানোর পর সঙ্গে সঙ্গে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ দিত এবং দ্রুত বল ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করত। এই ধরনের ফুটবলকে Gegenpressing বলা হয়।
এরপর Liverpool-এর squad আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। Mohamed Salah, Sadio Mané ও Roberto Firmino-এর আক্রমণভাগ, Virgil van Dijk-এর নেতৃত্বে রক্ষণ এবং Alisson Becker-এর গোলকিপিং দলটিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলে।
২০১৮ থেকে ২০২০: বড় সাফল্যের শুরু
২০১৮ সালে Liverpool Champions League Final-এ Real Madrid-এর মুখোমুখি হয়। কিন্তু ৩–১ গোলে হেরে trophy হারায়।
এক বছর পর Liverpool আবার Champions League Final-এ ওঠে। এবার প্রতিপক্ষ Tottenham Hotspur। ২০১৯ সালের Final-এ Mohamed Salah penalty থেকে গোল করেন। পরে Divock Origi আরও একটি গোল করেন। লিভারপুল ২–০ গোলে জিতে Champions League trophy ঘরে তোলে।
এরপর FIFA Club World Cup Final-এ Flamengo-কে অতিরিক্ত সময়ে Roberto Firmino-এর গোলে ১–০ হারিয়ে লিভারপুল প্রথমবার এই trophy জেতে।
তবে লিভারপুল সমর্থকদের সবচেয়ে বড় অপেক্ষা ছিল Premier League title-এর জন্য।
৩০ বছর পর Premier League title
২০১৯–২০ মৌসুমে লিভারপুল শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলতে থাকে। Salah, Mané, Firmino, Van Dijk, Alissonসহ দলের প্রায় সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে থাকেন।
শেষ পর্যন্ত লিভারপুল ৩০ বছর পর top-flight League title জেতে। সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল, সাতটি ম্যাচ বাকি থাকতেই তারা title নিশ্চিত করে। পুরো মৌসুমে লিভারপুল ৯৯ points সংগ্রহ করে এবং ৩২টি ম্যাচ জেতে।
এই title ছিল লিভারপুল সমর্থকদের জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ক্লাবটি আবার ইংল্যান্ডের সেরা হয়ে ওঠে।
FA Cup, League Cup ও Klopp-এর শেষ সময়
২০২১–২২ মৌসুমে লিভারপুল আবার domestic football-এ বড় সাফল্য পায়। তারা League Cup ও FA Cup জেতে। দুই Final-এই প্রতিপক্ষ ছিল Chelsea এবং দুই ম্যাচের ফল penalty shootout-এ নির্ধারিত হয়।
সেই মৌসুমে Liverpool Premier League title-এর জন্যও লড়াই করে এবং second place-এ শেষ করে। Champions League Final-এও ওঠে, কিন্তু Real Madrid-এর কাছে ১–০ গোলে হেরে যায়।
২০২৩–২৪ মৌসুমে লিভারপুল আবার League Cup জেতে। এটিই হয়ে ওঠে Klopp-এর লিভারপুল অধ্যায়ের শেষ trophy।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে Klopp জানান, মৌসুম শেষে তিনি লিভারপুলের দায়িত্ব ছাড়বেন। মে মাসে Anfield-এ তিনি নিজের শেষ ম্যাচ পরিচালনা করেন।
Klopp যুগের গুরুত্ব
লিভারপুলের ইতিহাসে Klopp-এর সময়টি বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। তার অধীনে Liverpool Champions League, Premier League, FIFA Club World Cup, FA Cup এবং League Cupসহ একাধিক বড় trophy জেতে।
তার সময়ের বড় সাফল্যগুলো হলো—
- Champions League — ২০১৯
- FIFA Club World Cup — ২০১৯
- Premier League — ২০১৯–২০
- FA Cup — ২০২১–২২
- League Cup — ২০২১–২২
- League Cup — ২০২৩–২৪
২০১০ সালের সংকট থেকে শুরু করে Klopp-এর বিদায় পর্যন্ত লিভারপুলের পথ ছিল অনেক পরিবর্তনে ভরা। FSG-এর মালিকানায় ক্লাবটি ধীরে ধীরে স্থির হয়। Dalglish ও Rodgers-এর সময়ের পর Klopp এসে সেই দলকে আরও বড় পর্যায়ে নিয়ে যান।
Klopp-এর সাফল্য শুধু trophy জয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তার সময়ে Liverpool আবার Premier League ও Champions League-এর নিয়মিত শিরোপা-প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। এই কারণেই আধুনিক লিভারপুলের ইতিহাসে FSG ও Jürgen Klopp-এর যুগ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
২০২৪ সালের পর Liverpool আবার নতুন এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। প্রায় নয় বছর দায়িত্ব পালনের পর Jürgen Klopp বিদায় নিলে ক্লাবকে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পান নেদারল্যান্ডসের কোচ Arne Slot। Klopp-এর সময় Liverpool Premier League, Champions League, FA Cup ও League Cupসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক trophy জিতেছিল। তাই নতুন কোচের ওপর শুরু থেকেই সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি।
Arne Slot-এর Liverpool অধ্যায়
২০২৪ সালের মে মাসে লিভারপুল আনুষ্ঠানিকভাবে Arne Slot-কে নতুন head coach হিসেবে ঘোষণা করে।Klopp-এর রেখে যাওয়া শক্তিশালী squad-এর দায়িত্ব নেওয়া Slot-এর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে Slot শুরুতেই পুরো দল বদলে ফেলার পথে যাননি। আগের squad-এর শক্তি কাজে লাগিয়ে নিজের ফুটবল চিন্তা দলের মধ্যে যোগ করার চেষ্টা করেন।
Slot-এর Liverpool বল ধরে রেখে আক্রমণ তৈরি করার দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। Klopp-এর দ্রুত আক্রমণভিত্তিক ফুটবলের সঙ্গে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও দলের মূল শক্তি ধরে রাখা হয়েছিল।
প্রথম মৌসুমেই Premier League title
Slot-এর প্রথম Premier League মৌসুম ছিল ২০২৪–২৫। Klopp-এর বিদায়ের পর অনেকেই লিভারপুলের নতুন কোচের জন্য সময় প্রয়োজন হবে বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু Slot খুব দ্রুত দলকে title race-এ নিয়ে আসেন।
পুরো মৌসুমে লিভারপুল ভালো ধারাবাহিকতা ধরে রাখে। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি নতুন কোচের পরিকল্পনাও দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। শেষ পর্যন্ত লিভারপুল ২০২৪–২৫ মৌসুমে Premier League title জিতে নেয়।
এই সাফল্য লিভারপুলের জন্য বিশেষ ছিল। কারণ নতুন কোচের প্রথম মৌসুমেই দল League champion হয়। একই সঙ্গে এটি ছিল ক্লাবের ২০তম top-flight League title।
লিভারপুলের প্রথম top-flight League title এসেছিল ১৯০১ সালে। এরপর দীর্ঘ ইতিহাসে ক্লাবটি একাধিকবার ইংল্যান্ডের সেরা দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। ১৯৯০ সালের পর ২০২০ সালে আবার League title জিতেছিল লিভারপুল। পাঁচ বছর পর ২০২৫ সালে Slot-এর অধীনে আসে ২০তম title।
২০২৫–২৬ মৌসুম ও Slot-এর বিদায়
পরের মৌসুমে লিভারপুল আগের সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি। ২০২৫–২৬ Premier League season-এ দলটি পঞ্চম স্থানে শেষ করে। আগের মৌসুমের title-winning performance-এর তুলনায় এটি ছিল বড় পরিবর্তন।
শেষ পর্যন্ত ৩০ মে ২০২৬ Arne Slot লিভারপুলের head coach হিসেবে দায়িত্ব ছাড়েন। লিভারপুলের হয়ে তার সময় খুব দীর্ঘ না হলেও প্রথম মৌসুমের League title তার সবচেয়ে বড় অর্জন হয়ে থাকে।
Slot-এর জায়গায় নতুন head coach হিসেবে আসেন Andoni Iraola। ৫ জুন ২০২৬ তিনি লিভারপুলের দায়িত্ব নেন। এখন তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলকে আবার Premier League-এর শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং Liverpool-এর trophy-winning tradition ধরে রাখা।
২০২৬ সালের Liverpool-এর ownership পরিবর্তন
২০২৬ সালে Liverpool-এর পরিবর্তন শুধু কোচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ক্লাবের ownership structure-এও বড় পরিবর্তন আসে।
দীর্ঘদিন ধরে লিভারপুলের প্রধান মালিক ছিল Fenway Sports Group বা FSG। ২০১০ সালে FSG Liverpool-এর মালিকানা নেয়। তাদের সময়ে ক্লাব Premier League ও Champions Leagueসহ বড় trophy জেতে। Anfield-এর উন্নয়ন এবং ক্লাবের বাণিজ্যিক অবস্থানও শক্তিশালী হয়।
১৪ আগস্ট ২০২৬ FSG লিভারপুলের ৩৮ শতাংশ stake 1892 Holdings-এর কাছে বিক্রির বিষয়ে সম্মত হয়। এর ফলে FSG-এর সঙ্গে নতুন একটি বড় বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী যুক্ত হয়।
1892 Holdings একটি consortium, যার সঙ্গে Amit Bhatia-র নাম গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত। এই গোষ্ঠীর সঙ্গে Jeff Bezos, Eduardo Saverin এবং Mittal family-এর মতো বিনিয়োগকারীদের নামও রয়েছে। Jeff Bezos নিজে Liverpool-এর board-এ সরাসরি seat নেবেন না; তার হয়ে managing partner Bryan Baum প্রতিনিধিত্ব করবেন।
তবে এই পরিবর্তনের অর্থ লিভারপুলের পুরো মালিকানা FSG-এর হাত থেকে চলে যাওয়া নয়। ৩৮ শতাংশ stake বিক্রির পর FSG এবং 1892 Holdings—দুই পক্ষের অংশগ্রহণ থাকা একটি নতুন ownership structure তৈরি হয়েছে।
২০২৬ সালে Liverpool FC
২০২৬ সালে Liverpool আবার বড় কিছু পরিবর্তনের মুখে রয়েছে। ২০২৪ সালে Klopp-এর বিদায়, ২০২৫ সালে Slot-এর অধীনে Premier League title, ২০২৬ সালে Slot-এর বিদায় এবং Iraola-এর আগমন—অল্প সময়ের মধ্যেই ক্লাবটি বেশ কিছু বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।
মালিকানার কাঠামোতেও নতুন অংশীদার যুক্ত হয়েছে। মাঠের বাইরে পরিবর্তন এলেও Liverpool-এর লক্ষ্য বদলায়নি—ভালো খেলা এবং বড় শিরোপা জেতা।
লিভারপুলের ইতিহাসে ২০টি top-flight League title রয়েছে। এই দীর্ঘ সাফল্যের ইতিহাসই ক্লাবটির সবচেয়ে বড় শক্তি। ২০২৬ সালের নতুন কোচ এবং নতুন ownership partner-এর মাধ্যমে লিভারপুল এখন আবার ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে।
Liverpool এর আগেও কঠিন সময় পেরিয়ে সাফল্যে ফিরেছে। তাই ২০২৬ সালও ক্লাবটির ইতিহাসে পরিবর্তনের একটি বছর হিসেবে আলাদা করে মনে রাখা হবে।
Anfield, জার্সি, Badge, সমর্থক, Rivalry ও Liverpool-এর Legacy
লিভারপুল শুধু একটি ফুটবল ক্লাব নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে Anfield, লাল জার্সি, Liver Bird badge, The Kop, Kopites, “You’ll Never Walk Alone” এবং দীর্ঘদিনের rivalry। এসব বিষয় মিলেই লিভারপুলের আলাদা পরিচয় তৈরি হয়েছে।
Anfield ও The Kop
Liverpool FC প্রতিষ্ঠার আগে Anfield ছিল Everton-এর মাঠ। John Houlding-এর সঙ্গে Everton-এর ভাড়া নিয়ে বিরোধের পর Everton অন্য মাঠে চলে যায়। এরপর Houlding ১৮৯২ সালে Liverpool FC প্রতিষ্ঠা করেন এবং Anfield হয়ে ওঠে ক্লাবটির ঘরের মাঠ।
সময় গড়ানোর সঙ্গে Anfield অনেকবার পরিবর্তন হয়েছে। নতুন stand তৈরি হয়েছে, দর্শক ধারণক্ষমতা বেড়েছে এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যোগ হয়েছে। বর্তমানে মাঠটিতে প্রায় ৬১,২৭৬ জন দর্শক বসতে পারেন। তবে লিভারপুল সমর্থকদের কাছে Anfield-এর গুরুত্ব শুধু আসনসংখ্যায় নয়। ম্যাচের সময় হাজার হাজার মানুষের গান, চিৎকার ও সমর্থন মাঠটিকে আলাদা পরিবেশ দেয়।
Anfield-এর সবচেয়ে পরিচিত অংশগুলোর একটি হলো The Kop। ঐতিহাসিকভাবে এখানকার সমর্থকরাই লিভারপুলকে সবচেয়ে জোরে উৎসাহ দিতেন। তাদের Kopites বলা হয়। আজও Kop লিভারপুলের সমর্থক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
You’ll Never Walk Alone
লিভারপুলের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি পরিচিত গান হলো “You’ll Never Walk Alone”। গানটি Carousel musical থেকে এসেছে এবং পরে Gerry and the Pacemakers-এর মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়। ১৯৬০-এর দশকের শুরু থেকেই লিভারপুল সমর্থকরা এটি গাইতে শুরু করেন।
আজ ম্যাচের আগে Anfield-এ হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে গানটি গাইলে পুরো মাঠের পরিবেশ বদলে যায়। কঠিন সময়েও পাশে থাকার ভাবনাটি লিভারপুলের সমর্থকদের সঙ্গে গানটির সম্পর্ক আরও গভীর করেছে।
লাল জার্সি ও Liver Bird

লিভারপুলের পরিচয়ের সবচেয়ে সহজ অংশ হলো তাদের লাল জার্সি। শুরুতে ক্লাবের জার্সি নীল ও সাদা ছিল। পরে লিভারপুল শহরের সঙ্গে সম্পর্কিত লাল রং গ্রহণ করা হয়। Bill Shankly-এর সময় all-red kit লিভারপুলের স্থায়ী পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।
ক্লাবের badge-এর প্রধান প্রতীক Liver Bird, যা লিভারপুল শহরেরও একটি পরিচিত প্রতীক। Badge-এ থাকা twin flames Hillsborough disaster-এ নিহতদের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৮৯ সালের সেই ঘটনায় ৯৭ জন Liverpool supporter মারা যান। তাদের স্মৃতি আজও ক্লাবের পরিচয়ের অংশ।
Liverpool-এর Supporters ও Rivalry
Liverpool-এর সমর্থক শুধু ইংল্যান্ডে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই রয়েছে। European success, ২০০৫ সালের Istanbul comeback, ২০১৯ সালের Champions League জয় এবং ২০২০ সালের Premier League title ক্লাবটির জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়েছে।
লিভারপুলের সবচেয়ে কাছের rivalry হলো Everton-এর সঙ্গে Merseyside Derby। একই শহরের দুই ক্লাব হওয়ায় এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। আবার Manchester United-এর সঙ্গেও লিভারপুলের বড় rivalry আছে। দুই ক্লাবের দীর্ঘ সাফল্য এবং লিভারপুল ও Manchester শহরের পুরনো প্রতিযোগিতা এই rivalry-কে আরও শক্তিশালী করেছে।
Liverpool-এর Legacy
লিভারপুল ইংল্যান্ডের অন্যতম সফল ক্লাব। ২০২৫ সালের League title জয়ের পর তাদের top-flight League title দাঁড়ায় ২০টি। এছাড়া রয়েছে ৮টি FA Cup, ১০টি League Cup এবং ১৬টি Community Shield। ইউরোপে লিভারপুল ছয়বার European Cup/Champions League জিতেছে। এছাড়া রয়েছে ৩টি UEFA Cup, ৪টি UEFA Super Cup এবং ১টি FIFA Club World Cup।
Liverpool-এর পরিচয় শুধু trophy দিয়ে তৈরি হয়নি। Anfield, The Kop, লাল জার্সি, Liver Bird এবং “You’ll Never Walk Alone” গানটি ক্লাবটির সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
২০২৬ সালে লিভারপুল নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। Arne Slot-এর পর Andoni Iraola দায়িত্ব নিয়েছেন এবং ownership structure-এও পরিবর্তন এসেছে। তবে সময় বদলালেও Liverpool-এর মূল পরিচয় একই আছে।
Liverpool মানে Anfield, Liverpool মানে The Kop, আর Liverpool মানে এমন এক সমর্থকগোষ্ঠী যারা ক্লাবটির পাশে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে (You’ll Never Walk Alone)।
