ফুটবলের কথা উঠলে ব্রাজিলের যে কয়েকজন তারকার নাম সবার আগে আসে, তাদের একজন নেইমার। অসাধারণ ড্রিবলিং, গতি, সৃজনশীল পাস এবং গোল করার দক্ষতার কারণে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের কাতারে রয়েছেন। শৈশবের ক্লাব সান্তোস থেকে শুরু করে বার্সেলোনা, পিএসজি ও আল হিলালের মতো বড় ক্লাবে খেলে তিনি নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছেন।
তার ক্যারিয়ারে যেমন রয়েছে অসংখ্য শিরোপা ও ব্যক্তিগত অর্জন, তেমনি রয়েছে ইনজুরির কারণে হারিয়ে যাওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই নিবন্ধে নেইমারের শৈশব, পরিবার, ক্লাব ও জাতীয় দলের ক্যারিয়ার, রেকর্ড, অর্জন, ব্যক্তিগত জীবন এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
Neymar Biography-এর সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিবরণ | তথ্য |
| পূর্ণ নাম | Neymar da Silva Santos Júnior |
| ডাকনাম | Neymar / Neymar Jr. |
| জন্ম তারিখ | ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ |
| বয়স | ৩৪ বছর |
| জন্মস্থান | Mogi das Cruzes, São Paulo, Brazil |
| জাতীয়তা | Brazilian |
| উচ্চতা | ১.৭৫ মিটার |
| ওজন | প্রায় ৬৮ কেজি |
| পজিশন | Attacking Midfielder, Forward |
| বর্তমান ক্লাব | Santos |
| জার্সি নম্বর | ১০ |
| জাতীয় দল | Brazil |
| পছন্দের পা | ডান পা |
| বাজার মূল্য | ২২২ মিলিয়ন ইউরো |
| বৈবাহিক অবস্থা | অবিবাহিত তবে তার প্রেমিকাব্রুনা বিয়ানকার্দি |
উপরের ব্যক্তিগত ও ক্লাব-সংক্রান্ত মৌলিক তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
- ফুটবল খেলার নিয়ম, ইতিহাস, ১৭টি আইন ও সম্পূর্ণ গাইড
- ফুটবলের ইতিহাস, উৎপত্তি, বিবর্তন ও সম্পূর্ণ গাইড (২০২৬)
- Inter Miami CF: ইতিহাস, মেসি, স্কোয়াড ও সাফল্যের গল্প ২০২৬
- Neymar Santos: বদলি হিসেবে নেমেই অ্যাসিস্ট, রেমোকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে সান্তোস
খেলোয়াড় পরিচিতি
নেইমার ব্রাজিলের São Paulo রাজ্যের Mogi das Cruzes শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্ম ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২। ২০২৬ সালের হিসাবে তার বয়স ৩৪ বছর।
তার পুরো নাম Neymar da Silva Santos Júnior। ফুটবল বিশ্বে অবশ্য তিনি সাধারণত শুধু নেইমার নামেই পরিচিত।
তিনি মূলত Attacking Midfielder, Forward অথবা আক্রমণভাগের বিভিন্ন জায়গায় খেলতে পারেন। ক্যারিয়ারের বড় একটি সময়ে তাকে বাম দিকের আক্রমণভাগে খেলতে দেখা গেছে।
নেইমারের খেলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো বল পায়ে তার আত্মবিশ্বাস। একজন ডিফেন্ডারের সামনে দাঁড়িয়ে মুহূর্তেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তার। ড্রিবলিং, দ্রুত গতি, নিখুঁত পাস এবং গোল করার দক্ষতার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবলার হিসেবে পরিচিত।
তার পেশাদার ক্যারিয়ারের শুরু Santos-এ। এরপর ২০১৩ সালে Barcelona-তে যোগ দিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের জায়গা শক্ত করেন। Barcelona-তে Lionel Messi ও Luis Suárez-এর সঙ্গে তার তৈরি হওয়া আক্রমণভাগের জুটি MSN নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়।
২০১৭ সালে Neymar Barcelona ছেড়ে Paris Saint-Germain-এ যোগ দেন। €222 million-এর এই দলবদল তখন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দলবদল হিসেবে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে।
পরবর্তীতে তিনি Saudi Pro League-এর Al Hilal-এ যান। তবে সেখানে দীর্ঘ সময় ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হয়। ২০২৫ সালে তিনি আবার নিজের শৈশবের ক্লাব Santos-এ ফিরে আসেন।
শৈশব ও পরিবার
নেইমারের ফুটবল যাত্রা শুরু হয়েছিল ছোটবেলাতেই। পরিবারের সদস্যরা তার প্রতিভা খুব দ্রুতই বুঝতে পেরেছিলেন। তাই ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পান তিনি।
সাধারণ মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি তিনি ফুটসালও খেলতেন। অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মতে, ছোট জায়গায় দ্রুত বল নিয়ন্ত্রণ, মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ওঠার যে দক্ষতা নেইমারের মধ্যে দেখা যায়, তার পেছনে ফুটসালের বড় ভূমিকা রয়েছে।
পরিবারের সমর্থনও তার ক্যারিয়ারের শুরুতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার বাবা নিজেও সাবেক ফুটবলার ছিলেন এবং পরে Neymar Jr-এর ক্যারিয়ারের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন।
বাবা-মা
নেইমার-এর বাবার নাম Neymar Santos Sr. এবং মায়ের নাম Nadine da Silva।
তার বাবা আগে ফুটবল খেলতেন। Neymar Jr-এর প্রতিভা যখন ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে, তখন তার বাবা শুধু পরিবারের সদস্য হিসেবে নয়, ক্যারিয়ার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
নেইমার-এর ফুটবল জীবনে বাবার উপস্থিতি ছোটবেলা থেকেই ছিল। Santos-এ তার সাফল্যের পর পরিবারের আর্থিক অবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আসে।
ভাই-বোন
নেইমার-এর বোনের নাম Rafaella Beckran। তাদের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ বলে সোর্সে উল্লেখ করা হয়েছে।
নেইমার তার বোনের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে তার মুখের Tattoo নিজের হাতে করেছেন। অন্যদিকে Rafaella তার ভাইয়ের চোখের Tattoo করেছেন।
শিক্ষা
Neymar Jr-এর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেই।
তাই তার স্কুল, কলেজ বা কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম অনুমান করে লেখা হচ্ছে না।
তার ছোটবেলার সময়ের বড় অংশ অবশ্য ফুটবল Academy, Futsal এবং মাঠের অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু
নেইমার-এর সংগঠিত ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয় Portuguesa Santista-এর যুব দলে। ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে ছিলেন।
২০০৩ সালে তিনি Santos-এর যুব Academy-তে যোগ দেন। এই Academy থেকেই তার বড় হওয়ার পথ তৈরি হয়।
Santos-এর যুব পর্যায়ে থাকাকালীন Neymar Jr দ্রুত নিজের প্রতিভার পরিচয় দিতে শুরু করেন। তার ড্রিবলিং, গতি এবং বল পায়ে আত্মবিশ্বাস তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে Neymar Spain গিয়ে Real Madrid-এর যুব দলের হয়ে Trial দেন। সেখানে থাকার সুযোগ তৈরি হলেও তার বাবা মনে করেছিলেন Brazil-এ Santos-এর হয়ে খেলেই তার আরও ভালোভাবে বেড়ে ওঠা উচিত। ফলে তিনি Real Madrid-এর যুব দলে স্থায়ীভাবে যোগ দেননি।
Santos-এর যুব পর্যায়ে Neymar Jr-এর সঙ্গে Paulo Henrique Ganso-এর বন্ধুত্বও তৈরি হয়। পরবর্তীতে দুজনই Brazilian ফুটবলের পরিচিত নাম হয়ে ওঠেন।
১৭ বছর বয়সে Neymar Santos-এর মূল দলে জায়গা পান এবং পেশাদার ফুটবলে প্রবেশ করেন।
ক্লাব ক্যারিয়ার
Santos

Neymar Jr-এর পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রথম ক্লাব Santos।
৭ মার্চ ২০০৯ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে Oeste-এর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তার পেশাদার অভিষেক হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি Santos-এর গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হন।
২০১০ সালে তার পারফরম্যান্স আরও নজর কাড়ে। ওই বছর সব Competition মিলিয়ে ৬০ ম্যাচে ৪২ গোল করেন। Santos Copa do Brasil জেতে এবং Neymar Jr Competition-এর সর্বোচ্চ গোলদাতা হন ১১ গোল নিয়ে।
২০১১ সালে নেইমার-এর ক্যারিয়ারে আসে বড় সাফল্য। Santos Copa Libertadores জেতে। Peñarol-এর বিপক্ষে Final-এর দ্বিতীয় Leg-এ তিনি গোল করেন। পুরো Competition-এ তার পারফরম্যান্স এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে তাকে Tournament-এর Best Player নির্বাচিত করা হয়।
একই বছর Flamengo-এর বিপক্ষে তার বিখ্যাত একক গোল FIFA Puskás Award জিতে নেয়।
২০১২ সালও Santos-এর হয়ে তার জন্য অসাধারণ ছিল। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২, ২০তম জন্মদিনে Palmeiras-এর বিপক্ষে গোল করে তিনি পেশাদার ক্যারিয়ারের ১০০তম গোল পূর্ণ করেন।
২০১২ মৌসুমে তিনি ৪৭ ম্যাচে ৪৩ গোল করেন। একই বছর South American ফুটবলার of the Year পুরস্কারও ধরে রাখেন।
২০১৩ সাল ছিল Santos-এর হয়ে তার শেষ সময়। ইউরোপের বড় ক্লাবে খেলার ইচ্ছা তখন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত Barcelona-তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
Santos-এর সিনিয়র দলে দুই মেয়াদ মিলিয়ে দেওয়া সোর্সের ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানের টেবিল অনুযায়ী Neymar Jr-এর ২১৭টি ম্যাচে ১২৪ গোল রয়েছে।
Real Madrid
নেইমার কখনো Real Madrid-এর সিনিয়র দলে খেলেননি।
তবে ১৪ বছর বয়সে তিনি Spain গিয়ে Real Madrid-এর যুব দলের হয়ে Trial দিয়েছিলেন। সেই Trial-এর পর তিনি Madrid-এ থেকে যাননি। তার বাবা তাকে Santos-এর Academy-তেই আরও সময় দিয়ে উন্নতি করার সিদ্ধান্ত নেন।
তাই নেইমার-এর সঙ্গে Real Madrid-এর সম্পর্ক মূলত তরুণ বয়সের Trial এবং পরবর্তী সময়ে দলবদল speculation-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
Real Madrid একাধিকবার নেইমারকে দলে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ২০১৩ সালে বার্সেলোনায় যোগ দেন।
Barcelona

২০১৩ সালে Neymar-এর ইউরোপীয় অধ্যায় শুরু হয় Barcelona-তে।
৩ জুন ২০১৩ সালে Medical সম্পন্ন করে তিনি Barcelona-তে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। Camp Nou-তে তার Presentation দেখতে প্রায় ৫৬,৫০০ দর্শক উপস্থিত ছিলেন, যা তখন কোনো Brazilian খেলোয়াড়ের জন্য উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল।
Barcelona-তে প্রথম মৌসুমে তিনি ধীরে ধীরে মানিয়ে নেন। La Liga-তে প্রথম গোল করেন Real Sociedad-এর বিপক্ষে। এরপর Real Madrid-এর বিপক্ষে প্রথম El Clásico ম্যাচেই গোল এবং Assist করে নিজের গুরুত্ব দেখান।
২০১৩–১৪ মৌসুমে সব Competition মিলিয়ে ৪১ ম্যাচে ১৫ গোল করেন।
পরের মৌসুমে Barcelona-র আক্রমণভাগে তৈরি হয় বিখ্যাত MSN—Messi, Suárez এবং Neymar Jr। এই তিনজনের সমন্বয় Barcelona-কে ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগে পরিণত করে।
২০১৪–১৫ মৌসুমে নেইমার ৩৯ গোল করেন। UEFA Champions League-এ ১০ গোল করে Messi ও Cristiano Ronaldo-এর সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।
Champions League Final-এ Juventus-এর বিপক্ষে Barcelona-এর ৩–১ জয়ে নেইমার শেষ গোলটি করেন। সেই মৌসুমে Barcelona La Liga, Copa del Rey এবং Champions League জিতে Treble সম্পন্ন করে।
২০১৫–১৬ মৌসুমেও নেইমার অসাধারণ ছিলেন। Messi ইনজুরিতে থাকার সময়ে তিনি Barcelona-এর আক্রমণের বড় দায়িত্ব নেন। ওই সময়ে মাত্র আট ম্যাচে ১৩ গোল ও ৯ Assist করেন।
সেই মৌসুমে Barcelona La Liga এবং Copa del Rey জেতে। Messi, Suárez এবং নেইমার মিলে ১৩১ গোল করেন, যা আগের মৌসুমের নিজেদের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যায়।
২০১৬–১৭ মৌসুমে Neymar-এর সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি ছিল PSG-এর বিপক্ষে Champions League-এর La Remontada। প্রথম Leg-এ ৪–০ ব্যবধানে হারের পর Barcelona দ্বিতীয় Leg-এ ৬–১ জেতে। শেষ কয়েক মিনিটে নেইমারr দুই গোল করেন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ Assist দেন।
Barcelona-তে শেষ পর্যন্ত নেইমার ১৮৬ ম্যাচে ১০৫ গোল এবং ৭৬ Assist করেন বলে ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানের টেবিল অনুযায়ী উল্লেখ করা হয়েছে।
Paris Saint-Germain

২০১৭ সালে Neymar-এর ক্যারিয়ারে আসে সবচেয়ে আলোচিত দলবদল।
৩ আগস্ট ২০১৭ সালে তিনি €222 million দলবদল ফি-তে Paris Saint-Germain-এ যোগ দেন। এই অর্থ তার Barcelona Contract-এর Release Clause-এর সমান ছিল এবং তখন এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দলবদল হিসেবে রেকর্ড তৈরি করে।
PSG-তে Neymar-কে ১০ নম্বর Jersey দেওয়া হয়। তার প্রথম ম্যাচেই তিনি গোল ও Assist করেন।
২০১৭–১৮ মৌসুমে নেইমার ৩০ ম্যাচে ২৮ গোল করেন। PSG Ligue 1, Coupe de France এবং Coupe de la Ligue জিতে Domestic Treble সম্পন্ন করে। Neymar Ligue 1 Player of the Year পুরস্কারও পান।
তবে ওই মৌসুমের শেষদিকে Right Foot-এর Metatarsal ইনজুরি তাকে Champions League-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থেকে দূরে রাখে।
২০১৮–১৯ মৌসুমেও ইনজুরি সমস্যা ছিল। Red Star Belgrade-এর বিপক্ষে Champions League-এ Hat-trick করেন। Liverpool-এর বিপক্ষেও গোল করেন।
২০১৯–২০ মৌসুমে নেইমার আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। Strasbourg-এর বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে Bicycle Kick-এ গোল করে PSG-কে জয় এনে দেন।
সেই মৌসুমে PSG Domestic Treble জেতে। Champions League-এ Borussia Dortmund, Atalanta এবং RB Leipzig-এর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স দিয়ে PSG-কে প্রথমবারের মতো Champions League Final-এ পৌঁছাতে সাহায্য করেন।
Final-এ Bayern Munich-এর কাছে PSG ১–০ হারে। ফলে নেইমার-এর Champions League জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি।
২০২০–২১ মৌসুমে তিনি Champions League-এ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড গড়েন। Barcelona-র পর PSG-এর হয়েও Champions League-এ ২০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
২০২১–২২ মৌসুমে PSG Ligue 1 title জেতে। Neymar ওই ক্লাবের হয়ে ১০০তম গোলও করেন।
২০২২–২৩ মৌসুমের শুরুতে নেইমার দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন। প্রথম ২০ ম্যাচে ১৫ গোল ও ১১ Assist করেন। কিন্তু ফেব্রুয়ারি ২০২৩-এ Lille-এর বিপক্ষে Ankle ইনজুরি তার মৌসুম শেষ করে দেয়।
PSG-এর হয়ে নেইমার মোট ছয় মৌসুমে ১১২ ম্যাচে ৮২ গোল করেছেন বলে দেওয়া ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানের টেবিল-এ উল্লেখ রয়েছে। সোর্স অনুযায়ী, ইনজুরির কারণে তিনি PSG-এর হয়ে ১১৯টি ম্যাচ মিস করেছিলেন।
Al Hilal

২০২৩ সালের আগস্টে Neymar Saudi Pro League-এর Al Hilal-এ যোগ দেন।
দলবদল ফি প্রায় €90 million বলে সোর্সে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ক্লাবে তার সময় দীর্ঘ হয়নি।
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে Al Hilal-এর হয়ে League debut করেন। এরপর ৩ অক্টোবর AFC Champions League-এ Nassaji Mazandaran-এর বিপক্ষে প্রথম গোল করেন।
কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবরে Brazil-এর হয়ে খেলতে গিয়ে তিনি গুরুতর ACL এবং Meniscus ইনজুরি-তে আক্রান্ত হন। ফলে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়।
২০২৪ সালের অক্টোবরে আবার মাঠে ফিরলেও কিছুদিন পর Hamstring ইনজুরি হয়।
২৭ জানুয়ারি ২০২৫ সালে Al Hilal এবং নেইমার পারস্পরিক সম্মতিতে Contract শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়। Al Hilal-এর হয়ে তিনি মোট সাত ম্যাচে এক গোল ও তিন Assist করেন।
Santos-এ প্রত্যাবর্তন
Al Hilal অধ্যায় শেষ হওয়ার পর নেইমার আবার Santos-এ ফিরে আসেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি নিজেই Santos-এ ফেরার ঘোষণা দেন। পরের দিন ক্লাব তার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করে।
২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি Botafogo-SP-এর বিপক্ষে Santos-এর হয়ে আবার মাঠে নামেন। তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে Stadium-এ সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
নেইমার আবার ১০ নম্বর Jersey পরেন, যে নম্বর Santos-এর কিংবদন্তি Pelé-এর সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
পরবর্তী সময়ে ইনজুরির কারণে তিনি কিছু ম্যাচে অনুপস্থিত থাকলেও Santos-এর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে Flamengo-এর বিপক্ষে জয়ী গোল করেন এবং আগস্টে Juventude-এর বিপক্ষে দুই গোল করেন।
সেপ্টেম্বরে Thigh ইনজুরির কারণে ৪৮ দিন মাঠের বাইরে থাকেন। ডিসেম্বর ২০২৫-এ Juventude-এর বিপক্ষে Hat-trick করে আবার আলোচনায় আসেন।
২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি Neymar Santos-এর সঙ্গে Contract আরও এক বছরের জন্য বাড়ান।
জাতীয় দলের ক্যারিয়ার
Brazil জাতীয় দলের হয়ে Neymar-এর যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালে।
১০ আগস্ট ২০১০ সালে United States-এর বিপক্ষে তার Senior International debut হয়। ম্যাচটি Brazil ২–০ জেতে এবং Neymar নিজের অভিষেকেই একটি গোল করেন।
২০১১ সালে তিনি Copa América-তে অংশ নেন। এরপর ২০১২ London Olympics-এ Brazil-এর হয়ে খেলেন এবং Final-এ Mexico-এর কাছে হেরে Silver medal পান।
২০১৩ FIFA Confederations Cup ছিল Neymar-এর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায়। Japan, Mexico এবং Italy-এর বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে গোল করেন। Final-এ Spain-এর বিপক্ষে Brazil-এর ৩–০ জয়ে একটি গোল করেন।
Tournament-এর সেরা খেলোয়াড় হিসেবে তিনি Golden Ball জেতেন।
২০১৪ World Cup-এ Brazil-এর সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন নেইমার। Croatia-এর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই দুই গোল করেন। Cameroon-এর বিপক্ষেও দুই গোল করেন।
Chile-এর বিপক্ষে Round of 16-এ Penalty Shootout-এ গুরুত্বপূর্ণ Penalty নেন।
কিন্তু Colombia-এর বিপক্ষে Quarter-final-এ গুরুতর আঘাত পান। তার Vertebra fracture হওয়ায় World Cup-এর বাকি অংশে আর খেলতে পারেননি। তার অনুপস্থিতিতে Brazil Semi-final-এ Germany-এর কাছে ৭–১ ব্যবধানে হারে।
২০১৬ Rio Olympics-এ Neymar Brazil-এর অধিনায়ক হিসেবে খেলেন। Final-এ Germany-এর বিপক্ষে গোল করেন এবং Penalty Shootout-এ Brazil-এর জয়সূচক Penalty নিয়ে দেশকে প্রথম Olympic men’s ফুটবল gold medal এনে দেন।
২০১৮ World Cup-এ Brazil Quarter-final পর্যন্ত যায়। নেইমার দুই গোল করেন এবং একটি Assist করেন। তবে Belgium-এর কাছে ২–১ হেরে Brazil বিদায় নেয়।
২০১৯ Copa América-তে ইনজুরির কারণে নেইমার খেলতে পারেননি।
২০২০ সালের October-এ Peru-এর বিপক্ষে Hat-trick করে Brazil-এর হয়ে তার গোলসংখ্যা ৬৪-এ পৌঁছে যায় এবং তিনি Ronaldo-কে ছাড়িয়ে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।
২০২১ Copa América-তে Brazil Final-এ Argentina-এর কাছে ১–০ হারে। Neymar Tournament-এ Golden Ball-এর জন্য যৌথভাবে নির্বাচিত হন।
২০২২ World Cup-এ Neymar Serbia-এর বিপক্ষে Assist করেন। Ankle ইনজুরির কারণে পরের দুই Group ম্যাচ খেলতে পারেননি। South Korea-এর বিপক্ষে ফিরে এসে একটি গোল ও একটি Assist করেন।
Croatia-এর বিপক্ষে Quarter-final-এ অতিরিক্ত সময়ে অসাধারণ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় গোল করে Brazil-এর হয়ে Pelé-এর Official আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা ৭৭-এর সমান করেন। তবে Brazil Penalty Shootout-এ হেরে Tournament থেকে বিদায় নেয়।
২০২৩ সালের September-এ Bolivia-এর বিপক্ষে দুই গোল করে Neymar Brazil-এর সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। তার ৭৮তম ও ৭৯তম গোল তাকে Pelé-এর ওপরে নিয়ে যায়।
২০২৩ সালের October-এ Uruguay-এর বিপক্ষে গুরুতর ACL ও Meniscus ইনজুরি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
২০২৬ World Cup-এ Neymar Brazil দলে ছিলেন। Scotland-এর বিপক্ষে Substitute হিসেবে মাঠে নামেন। এতে তিনি চারটি World Cup-এ খেলা Brazilian খেলোয়াড়দের তালিকায় Pelé, Djalma Santos ও Cafu-এর সঙ্গে জায়গা করে নেন।
Round of 16-এ Norway-এর বিপক্ষে Penalty থেকে গোল করেন। এটি ছিল তার World Cup ক্যারিয়ারের নবম গোল এবং চারটি World Cup-এ গোল করার কীর্তি।
এরপর তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। দেওয়া সোর্স অনুযায়ী Brazil-এর হয়ে তার শেষ পরিসংখ্যান ছিল ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল।
খেলার ধরন
নেইমারের খেলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তিনি একাই ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। বল পায়ে থাকলে ডিফেন্ডারদের সামনে তিনি সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠেন। দ্রুত ড্রিবলিং, দারুণ বল নিয়ন্ত্রণ, সৃজনশীল পাস এবং দূরপাল্লার শটে গোল করার দক্ষতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
শুরুতে উইঙ্গার হিসেবে বেশি খেললেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আরও পরিণত প্লেমেকারে পরিণত হন। বিশেষ করে বার্সেলোনা ও পিএসজিতে থাকাকালে আক্রমণ সাজানোর দায়িত্বও নিয়মিত পালন করেছেন।
রেকর্ড
ক্যারিয়ারজুড়ে নেইমার অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন। ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া তার সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি। এছাড়া বার্সেলোনা ও পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, তিনটি বড় ক্লাবের হয়ে শতাধিক গোল এবং চারটি বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তিও তাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।
Brazil-এর সর্বোচ্চ গোলদাতা
২০২৩ সালে Bolivia-এর বিপক্ষে দুই গোল করে তিনি Brazil-এর হয়ে ৭৯ গোল পূর্ণ করেন এবং Pelé-কে ছাড়িয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।
তিনটি ক্লাবের হয়ে ১০০ গোল
নেইমার এমন অল্প কয়েকজন খেলোয়াড়ের একজন, যারা তিনটি আলাদা ক্লাবের হয়ে ১০০ গোল করেছেন বলে সোর্সে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি Santos, Barcelona এবং Paris Saint-Germain-এর হয়ে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন।
Champions League-এ Brazil-এর রেকর্ড
UEFA Champions League-এ Brazilian খেলোয়াড়দের মধ্যে নেইমার-এর গোল ও Assist সংখ্যা দীর্ঘ সময় ধরে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে ছিল।
World Cup-এ চার Tournament-এ গোল
২০২৬ World Cup-এ গোল করার পর নেইমার চারটি World Cup-এ গোল করা Brazilian খেলোয়াড়দের মধ্যে Pelé-এর পর বিশেষ কীর্তি গড়েন।
Champions League-এ দুই ক্লাবের হয়ে ২০ গোল
Barcelona এবং PSG—দুই ক্লাবের হয়েই Champions League-এ ২০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন নেইমার।
Puskás Award
২০১১ সালে Flamengo-এর বিপক্ষে Santos-এর হয়ে করা অসাধারণ একক গোল FIFA Puskás Award জেতে।
অর্জন (Honours)
ক্লাব Trophy
Neymar-এর ক্লাব ক্যারিয়ারে রয়েছে বেশ কিছু বড় শিরোপা।
Santos-এর সঙ্গে:
- Campeonato Paulista
- Copa do Brasil
- Copa Libertadores
- Recopa Sudamericana
Barcelona-এর সঙ্গে:
- La Liga
- Copa del Rey
- UEFA Champions League
- Supercopa de España
- FIFA ক্লাব World Cup
Barcelona-এর হয়ে সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল ২০১৪–১৫ মৌসুমের Treble। সেই মৌসুমে La Liga, Copa del Rey এবং Champions League জেতে ক্লাবটি।
Paris Saint-Germain-এর সঙ্গে:
- Ligue 1
- Coupe de France
- Coupe de la Ligue
- Trophée des Champions
PSG-এর হয়ে নেইমার পাঁচটি Ligue 1 title জিতেছেন বলে সোর্সে উল্লেখ করা হয়েছে।
Al Hilal-এর সঙ্গে:
- Saudi Pro League
যদিও ইনজুরির কারণে তিনি Al Hilal-এর League campaign-এ খুব অল্প ম্যাচ খেলেছিলেন, তবুও ২০২৩–২৪ মৌসুমে ক্লাবের Saudi Pro League title জয়ের অংশ ছিলেন।
International Trophy
Brazil-এর হয়ে নেইমার-এর উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক অর্জনগুলো হলো:
- 2013 FIFA Confederations Cup
- 2016 Olympic Gold Medal
- 2012 Olympic Silver Medal
- 2021 Copa América Runner-up
২০১৩ FIFA Confederations Cup-এ তিনি Golden Ball জেতেন।
২০১৬ Rio Olympics-এ Germany-এর বিপক্ষে Final জিতে Brazil-এর প্রথম Olympic men’s ফুটবল Gold Medal নিশ্চিত করেন।
Individual Awards
Neymar-এর ব্যক্তিগত পুরস্কারের তালিকাও বেশ বড়।
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার ও স্বীকৃতির মধ্যে রয়েছে:
- FIFA Puskás Award — 2011
- South American ফুটবলার of the Year — 2011
- South American ফুটবলার of the Year — 2012
- Copa Libertadores Best Player — 2011
- FIFA Confederations Cup Golden Ball — 2013
- Ligue 1 Player of the Year — 2017–18
- UEFA Team of the Year
- Copa América Golden Ball — 2021
- Ligue 1 Player of the Month — 2022 সালের August
- Ballon d’Or Third Place — 2015
- Ballon d’Or Third Place — 2017
Ballon d’Or-এ নেইমার মোট নয়বার মনোনীত হয়েছেন বলে সোর্সে উল্লেখ রয়েছে, যা Brazilian খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম বড় সংখ্যা।
ক্যারিয়ার Statistics
ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানের টেবিল অনুযায়ী ক্লাব পর্যায়ের পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো। Assist-এর পূর্ণ ক্লাবভিত্তিক সংখ্যা ওই টেবিলে দেওয়া হয়নি, তাই অনুমান করে সংখ্যা যোগ করা হয়নি।
| ক্লাব | ম্যাচ | গোল |
|---|---|---|
| Santos | 217 | 124 |
| Barcelona | 186 | 105 |
| Paris Saint-Germain | 112 | 82 |
| Al Hilal | 3 | 0 |
| Santos — 2025 থেকে | 38 | 17 |
Santos-এর হয়ে মোট: ২১৭ ম্যাচে ১২৪ গোল।
মূল ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানের টেবিল-এ এই ম্যাচ ও গোল সংখ্যাগুলো দেওয়া হয়েছে।
সম্পদ (Net Worth)
নেইমারের সম্পদের নির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন তথ্য রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক উল্লেখ করা ঠিক হবে না। তবে ফুটবল থেকে পাওয়া বেতন, স্পনসরশিপ, বিজ্ঞাপন এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তির কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা ক্রীড়াবিদদের একজন হিসেবে পরিচিত।
বাজার মূল্য (Market Value)
নেইমারের বর্তমান বাজারমূল্য সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। যদিও এখন নির্দিষ্ট কোনো সরকারি মূল্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবলারদের একজন ছিলেন। বিশেষ করে ২০১৭ সালে বার্সেলোনা থেকে পিএসজিতে তার রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরোর দলবদল ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করে।
ইনজুরি ইতিহাস
Neymar-এর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ইনজুরি।
Santos ও Barcelona-তে তার ইনজুরি সমস্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। কিন্তু PSG-তে যাওয়ার পর ইনজুরি তার ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করে।
২০১৮ সালে Marseille-এর বিপক্ষে Right Foot-এর Metatarsal ইনজুরি তাকে Champions League-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থেকে দূরে রাখে।
২০১৯ সালে একই জায়গায় আবার ইনজুরি হয়। ফলে Manchester United-এর বিপক্ষে Champions League Knockout ম্যাচে খেলতে পারেননি।
২০২১ সালেও বিভিন্ন সময়ে ইনজুরির কারণে PSG-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ মিস করেন।
২০২৩ সালের February-তে Lille-এর বিপক্ষে Ankle ইনজুরি তার PSG মৌসুম শেষ করে দেয়।
সবচেয়ে গুরুতর ইনজুরি আসে ২০২৩ সালের October-এ। Uruguay-এর বিপক্ষে Brazil-এর World Cup Qualifier ম্যাচে Neymar-এর Left Knee-এর ACL ও Meniscus গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই ইনজুরির কারণে তাকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় এবং ২০২৪ Copa América-তেও Brazil-এর হয়ে খেলতে পারেননি।
Al Hilal-এ ফেরার পরও ইনজুরি সমস্যা পুরোপুরি শেষ হয়নি। ২০২৪ সালের October-এ মাঠে ফেরার পর Hamstring ইনজুরি তাকে আবার বাইরে পাঠায়।
Santos-এ ফিরে আসার পরও Neymar-এর ইনজুরি সমস্যা ছিল। ২০২৫ সালে Thigh ইনজুরির কারণে তিনি ৪৮ দিন মাঠের বাইরে ছিলেন।
অর্থাৎ নেইমার-এর অসাধারণ প্রতিভার পাশাপাশি ইনজুরি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রেমিকা / স্ত্রী
নেইমার জুনিয়র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেননি। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিলিয়ান মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ব্রুনা বিয়ানকার্দি (Bruna Biancardi)-এর সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। মাঝে কিছু সময় তাদের বিচ্ছেদ হলেও পরে তারা আবার একসঙ্গে হন।
বর্তমানে এই দম্পতির মাভি (Mavie) ও মেল (Mel) নামে দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। এছাড়া আগের সম্পর্ক থেকে নেইমারের দাভি লুকা (Davi Lucca) নামে এক ছেলে এবং হেলেনা (Helena) নামে আরেক কন্যাসন্তান রয়েছে।
বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত।
মজার তথ্য
১. Neymar-এর জন্মদিন ৫ ফেব্রুয়ারি
তিনি ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ সালে Brazil-এর Mogi das Cruzes-এ জন্মগ্রহণ করেন।
২. মাত্র ১৭ বছর বয়সে পেশাদার অভিষেক
২০০৯ সালে Santos-এর হয়ে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তার Professional ফুটবল debut হয়।
৩. Futsal তার খেলায় বড় প্রভাব ফেলেছে
ছোটবেলায় Futsal খেলার অভিজ্ঞতা তার Ball Control এবং Tight Space-এ খেলার দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৪. Real Madrid-এর Youth Trial দিয়েছিলেন
১৪ বছর বয়সে Spain গিয়ে Real Madrid-এর যুব দলের হয়ে Trial দিয়েছিলেন।
৫. Santos-এ তার প্রথম বড় সাফল্য
Santos-এর হয়ে Copa Libertadores জেতা ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় প্রাথমিক অর্জন।
৬. FIFA Puskás Award জিতেছেন
২০১১ সালে Flamengo-এর বিপক্ষে করা অসাধারণ গোলের জন্য তিনি FIFA Puskás Award পান।
৭. Barcelona-তে MSN-এর অংশ ছিলেন
Messi, Suárez এবং Neymar মিলে গড়ে তুলেছিলেন বিখ্যাত MSN আক্রমণভাগ।
৮. Barcelona-র হয়ে Champions League জিতেছেন
২০১৪–১৫ মৌসুমে Barcelona-এর হয়ে Champions League জেতেন।
৯. PSG-এর দলবদল Record তৈরি করেছিলেন
২০১৭ সালে €222 million দলবদল ফি-তে PSG-তে যোগ দিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দলবদল তৈরি করেন।
১০. Olympic Gold জিতেছেন
২০১৬ Rio Olympics-এ Brazil-এর হয়ে Gold Medal জিতেছিলেন।
১১. Brazil-এর সর্বোচ্চ গোলদাতা
২০২৩ সালে Bolivia-এর বিপক্ষে দুই গোল করে Pelé-কে ছাড়িয়ে Brazil-এর সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।
১২. চারটি World Cup-এ গোল
২০২৬ World Cup-এ গোল করার মাধ্যমে চারটি World Cup-এ গোল করা Brazilian খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশেষ জায়গা করে নেন।
১৩. Santos-এ ফিরে এসেছেন
ইউরোপ ও Saudi Arabia অধ্যায় শেষে Neymar আবার Santos-এ ফিরে আসেন।
১৪. ফুটবলের বাইরে বড় Brand Value
SportsPro একাধিকবার Neymar-কে বিশ্বের সবচেয়ে Marketable Athlete-দের তালিকার শীর্ষে রেখেছে।
১৫. নিজের নামে Documentary রয়েছে
নেইমার-এর জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে Netflix-এ Neymar: The Perfect Chaos নামে Documentary Series প্রকাশিত হয়েছে।
FAQ
Neymar কে?
Neymar হলেন Brazil-এর একজন বিখ্যাত Professional ফুটবলার। তিনি Attacking Midfielder ও Forward হিসেবে খেলেছেন এবং Santos, Barcelona, Paris Saint-Germain ও Al Hilal-এর মতো ক্লাবের হয়ে খেলেছেন।
Neymar-এর পুরো নাম কী?
তার পুরো নাম Neymar da Silva Santos Júnior।
Neymar-এর জন্ম কবে?
Neymar ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
Neymar-এর বয়স কত?
২০২৬ সালের হিসাবে Neymar-এর বয়স ৩৪ বছর।
Neymar কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
তিনি Brazil-এর São Paulo রাজ্যের Mogi das Cruzes শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
Neymar বর্তমানে কোন ক্লাবে খেলেন?
Neymar বর্তমানে Santos-এর খেলোয়াড়।
Neymar-এর Jersey Number কত?
Santos-এর হয়ে তিনি ১০ নম্বর Jersey পরেন।
Neymar কোন পজিশনে খেলেন?
তিনি মূলত Attacking Midfielder এবং Forward হিসেবে খেলেন। প্রয়োজনে Wing এবং Number 10 ভূমিকাতেও খেলতে পারেন।
Neymar কি Real Madrid-এর হয়ে খেলেছেন?
না। Neymar Real Madrid-এর সিনিয়র দলের হয়ে খেলেননি। তবে ১৪ বছর বয়সে Real Madrid-এর Youth Team-এর হয়ে Trial দিয়েছিলেন।
Neymar Barcelona-এর হয়ে কত গোল করেছেন?
দেওয়া ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানের টেবিল অনুযায়ী Barcelona-এর হয়ে নেইমার ১৮৬ ম্যাচে ১০৫ গোল করেছেন।
ক্যারিয়ারের সারসংক্ষেপ
নেইমার-এর ক্যারিয়ারকে শুধু গোল বা Trophy দিয়ে বিচার করলে তার গল্পের পুরোটা বোঝা যাবে না।
Santos-এ তিনি ছিলেন এক তরুণ প্রতিভা। Barcelona-তে গিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেকে প্রমাণ করেন। Messi ও Suárez-এর সঙ্গে MSN তৈরি করে তিনি ক্লাব ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় আক্রমণভাগের অংশ হন।
PSG-তে তার দলবদল বিশ্ব ফুটবলের অর্থনৈতিক ইতিহাস বদলে দেয়। ক্লাবটির হয়ে তিনি বহু Trophy জিতলেও Champions League title না পাওয়াটা বড় অপূর্ণতা হয়ে থাকে।
Brazil-এর হয়ে Neymar এমন অনেক রেকর্ড করেছেন যা তাকে দেশের ফুটবল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে। Pelé-কে ছাড়িয়ে জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন।
তবে ইনজুরি তার পথকে বারবার কঠিন করেছে। ACL ইনজুরি, Ankle problem, Metatarsal ইনজুরি এবং অন্যান্য সমস্যার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি।
তারপরও নেইমার-এর ফুটবল প্রতিভা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ খুব কম। Dribbling, Creativity, Passing এবং Finishing—সব মিলিয়ে তিনি আধুনিক ফুটবলের অন্যতম স্বতন্ত্র খেলোয়াড়।
নেইমার এমন একজন ফুটবলার, যাকে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যায় না। তার ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা এবং মাঠে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মনে আলাদা জায়গা করে দিয়েছে। ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় হারালেও তিনি বারবার ফিরে এসে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ব্রাজিলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে নেইমারের নাম ভবিষ্যতেও সমান গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হবে। সর্বশেষ হালনাগাদ: ৭ আগস্ট ২০২৬
